প্রিন্ট এর তারিখ : ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১১ মে ২০২৬
পাহাড়ে আধিপত্য ও চাঁদাবাজির লড়াইয়ে ৩ মাসে খুন ৬, আজ খাগড়াছড়ি-সাজেক সড়কে অবরোধ
বিশেষ প্রতিনিধি , চট্টগ্রাম ||
পার্বত্য চট্টগ্রামে আধিপত্য বিস্তার ও চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যকার সংঘাত এবার চরম ও ভয়ংকর রূপ নিয়েছে। গত মাত্র তিন মাসে পাহাড়ে পাল্টাপাল্টি হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৬ জন। এসব ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ডের জেরে এবং নিজেদের শক্তি জানান দিতে আজ সোমবার (১১ মে) খাগড়াছড়ির দীঘিনালা-সাজেক-বাঘাইছড়ি সড়কে আধাবেলা সড়ক অবরোধের ডাক দিয়েছে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)।সর্বশেষ গত শনিবার রাঙামাটির সাজেকে প্রতিপক্ষের গুলিতে নিহত হন হেগেরা চাকমা (৪৯)। প্রসীত খীসার নেতৃত্বাধীন ইউপিডিএফ দাবি করেছে, নিহত ব্যক্তি তাদের সংগঠনের সক্রিয় সদস্য ছিলেন। এর মাত্র এক দিন আগে পানছড়ির ইসলামপুরে ব্রাশফায়ারে প্রাণ হারান ইমন হোসেন নামে এক যুবক, যাকে ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) তাদের কর্মী হিসেবে দাবি করেছে। পরপর ঘটা এই দুটি হত্যাকাণ্ডের জন্য সংগঠন দুটি একে অপরকে সরাসরি দায়ী করছে।গত তিন মাসে সংঘটিত ছয়টি হত্যাকাণ্ডের মধ্যে চারটিই ঘটেছে খাগড়াছড়ি জেলায়।৭ মার্চ : পানছড়ির বড়কোনা এলাকায় ইউপিডিএফ (প্রসীত গ্রুপ) সদস্য আপন ত্রিপুরা ওরফে সংগ্রাম খুন হন। ইউপিডিএফ এর জন্য জেএসএস (সন্তু লারমা) গ্রুপকে দায়ী করে।২৭ মার্চ : পানছড়ির মাণিক্যপাড়ায় ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক)-এর উপজেলা সহ-সভাপতি নীতি দত্ত চাকমা গুলিতে নিহত হন।৮ এপ্রিল : খাগড়াছড়ি জেলা সদরের আকবারি এলাকায় গুলিতে নিহত হন ইউপিডিএফ সদস্য নিউটন চাকমা।১৭ এপ্রিল : কুতুবছড়ি এলাকায় নিজ বাড়িতে গুলিতে নিহত হন ইউপিডিএফ সমর্থিত যুব ফোরামের সহ-সভাপতি ধর্ম শিং চাকমা।৮ মে : পানছড়ির ইসলামপুরে ব্রাশফায়ারে নিহত হন ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক)-এর কর্মী ইমন হোসেন।৯ মে : রাঙামাটির সাজেকে প্রতিপক্ষের গুলিতে নিহত হন ইউপিডিএফ সদস্য হেগেরা চাকমা।স্থানীয় সূত্র ও জনপ্রতিনিধিদের মতে, পাহাড়ে আদর্শিক লড়াইয়ের চেয়ে ক্ষমতার আধিপত্য এবং বছরে প্রায় ৬০০ থেকে ৭০০ কোটি টাকার বিশাল চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণই এই রক্তক্ষয়ী সহিংসতার মূল কারণ।খাগড়াছড়ির গুইমারা উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান উষ্যেপ্রু মারমা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, সশস্ত্র গ্রুপগুলোর এই খুনাখুনি পাহাড়ের পরিস্থিতি বিষিয়ে তুলছে। নিরীহ সাধারণ মানুষ এখন চরম শ্বাসরুদ্ধকর ও আতঙ্কিত অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে। সংঘাত বন্ধে সরকারের এখনই কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।১৯৯৭ সালে ঐতিহাসিক পার্বত্য চুক্তির পর পাহাড়ের রাজনীতি কয়েক দফায় বিভক্ত হয়েছে। বর্তমানে পাহাড়ে মূলত চারটি আঞ্চলিক সংগঠন সক্রিয় :১. সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জেএসএস২. প্রসীত খীসার নেতৃত্বাধীন ইউপিডিএফ৩. জেএসএস (এমএন লারমা) ৪. ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) এই গ্রুপগুলোর পারস্পরিক রেষারেষি এবং অস্ত্র প্রদর্শনীর কারণেই পাহাড়ে বর্তমান অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।পাহাড়ের এই থমথমে ও অস্থিতিশীল নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে খাগড়াছড়ির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. মিজানুর রহমান, পিপিএম বলেন, আঞ্চলিক সশস্ত্র গ্রুপগুলোর সংঘাত ও সহিংসতার বিরুদ্ধে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বদা সর্বোচ্চ তৎপর রয়েছে। পাহাড়ে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নিয়মিত যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
প্রকাশক : সাদিয়া নূর পূর্ণ
সম্পাদক : নাহিদ হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক নতুন আলো