প্রিন্ট এর তারিখ : ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১২ মে ২০২৬
মিরপুরে পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়, টেস্ট সিরিজে ১-০ তে এগিয়ে শান্তরা
খেলা ডেস্ক ||
মিরপুরের শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রচিত হলো বাংলাদেশের ক্রিকেটের আরও একটি সোনালী ইতিহাস। বৃষ্টি বিঘ্নিত টেস্টের পঞ্চম ও শেষ দিনের চরম রোমাঞ্চ শেষে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানকে ১০৪ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। এই মহাকাব্যিক জয়ের ফলে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল স্বাগতিকেরা। এর মাধ্যমে ঘরের মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি—তিন সংস্করণেই জয়ের বৃত্ত পূর্ণ করল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।মিরপুরে তৃতীয় ও চতুর্থ দিনে বৃষ্টির বাগড়া থাকলেও আজ মঙ্গলবার (১২ মে) শেষ দিনে খেলা গড়ায় একদম রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়ায়। ড্র, বাংলাদেশের জয় কিংবা পাকিস্তানের জয়—তিনটি সম্ভাবনাই জেগেছিল। তবে সব রোমাঞ্চের ইতি ঘটিয়ে শেষ হাসি হাসল বাংলাদেশই।গতকাল চতুর্থ দিনে ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ আশরাফুল যে পরিকল্পনা করেছিলেন, ঠিক তা-ই আজ মাঠে বাস্তবায়ন করেছেন টাইগার ব্যাটাররা। ২ উইকেটে ১৫২ রান নিয়ে আজ পঞ্চম দিনের খেলা শুরু করে বাংলাদেশ। দ্রুত রান তুলে পাকিস্তানকে চেপে ধরার লক্ষ্যে শেষ দিনে ২০ ওভারে ৮৮ রান যোগ করে ৯ উইকেটে ২৪০ রানে দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষণা করে স্বাগতিকেরা।দলের পক্ষে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। ১৫০ বলে ৭টি চারের সাহায্যে ইনিংস সর্বোচ্চ ৮৭ রানের এক দুর্দান্ত ক্যাপ্টেন্স নক খেলেন তিনি। মাত্র ১৩ রানের জন্য রেকর্ড গড়া সেঞ্চুরি মিস করলেও তাঁর এই ইনিংসই মূলত জয়ের ভিত গড়ে দেয়। নোমান আলীর বলে এলবিডব্লিউ হয়ে সাজঘরে ফেরেন শান্ত। পাকিস্তানের পক্ষে বাঁহাতি স্পিনার নোমান আলী ৩টি এবং হাসান আলী ৩টি উইকেট নেন।বাংলাদেশের ইনিংস ঘোষণার পর পাকিস্তানের সামনে জয়ের লক্ষ্য দাঁড়ায় ২৬৮ রান। হাতে ৭ উইকেট নিয়ে সর্বোচ্চ ৪৫ ওভার ব্যাটিং করার সুযোগ ছিল তাদের সামনে। তবে লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে প্রথম ওভারের শেষ বলেই ধাক্কা খায় সফরকারীরা। তাসকিন আহমেদের গতিময় গুড লেংথ বলে ডিফেন্স করতে গিয়ে লিটন দাসের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ওপেনার ইমাম-উল-হক (২)।৩ রানে প্রথম উইকেট হারানোর পর দলের হাল ধরেন দুই অভিষিক্ত ব্যাটার আব্দুল্লাহ ফজল ও আজান আওয়াইস। দ্বিতীয় উইকেটে দুজনে ৬৭ বলে ৫৪ রানের জুটি গড়ে ওয়ানডে স্টাইলে রান তুলে বাংলাদেশকে কিছুটা দুশ্চিন্তায় ফেলেছিলেন। তবে ১৩তম ওভারের প্রথম বলে মেহেদী হাসান মিরাজকে ব্যাকফুটে খেলতে গিয়ে বোল্ড হয়ে যান আজান আওয়াইস। প্রথম ইনিংসে ১০৩ রানের চোখ ধাঁধানো সেঞ্চুরি করলেও দ্বিতীয় ইনিংসে আর থিতু হতে পারেননি এই ব্যাটার।আজান আওয়াইসের বিদায়ের পর তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপ। চা পানের বিরতির আগে তারা আক্রমণাত্মক খেললেও শেষ বিকেলে ম্যাচ বাঁচানোর (ড্র করার) লক্ষ্যে অতি-রক্ষণাত্মক কৌশল নেয়। কিন্তু বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রিত ও বিধ্বংসী বোলিংয়ের সামনে পাকিস্তানের প্রতিরোধ ভেঙে পড়ে। মাত্র ৪৪ রান যোগ করতেই শেষ ৭টি উইকেট হারায় তারা।২০২৪ সালে রাওয়ালপিন্ডিতে আগুনে বোলিং করে নজর কাড়া গতিদানব নাহিদ রানা প্রথম ইনিংসে তেমন সফল হতে পারেননি, পাকিস্তানি ব্যাটাররা তাঁকে রিড করার জন্য হোমওয়ার্ক করেই এসেছিলেন। কিন্তু রানা জ্বলে উঠলেন একদম মোক্ষম সময়ে। শেষ বিকেলে তাঁর একেকটি বিধ্বংসী ডেলিভারিতে পরাস্ত হন পাকিস্তানের লোয়ার অর্ডার ব্যাটাররা। শেষ পর্যন্ত নাহিদ রানার হাত ধরেই পাকিস্তানের দ্বিতীয় ইনিংসের সমাপ্তি ঘটে এবং ১০৪ রানের এক আয়েশি জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ দল।
প্রকাশক : সাদিয়া নূর পূর্ণ
সম্পাদক : নাহিদ হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক নতুন আলো