প্রিন্ট এর তারিখ : ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১২ মে ২০২৬
লোডশেডিংয়ে শুধু বিরক্তিই নয়, রয়েছে চমত্কার কিছু উপকারিতাও!
নতুন আলো ডেস্ক ||
তীব্র গরম আর তার সাথে পাল্লা দিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে দেশে শুরু হওয়া বিদ্যুৎ বিভ্রাটে জনজীবন রীতিমতো অতিষ্ঠ। এই চেনা বিদ্যুৎ বিভ্রাটকে আমরা এক ডাকে চিনি লোডশেডিং নামে। আর এই লোডশেডিং শুরু হলেই অবলীলায় আমাদের সবার চোখে-মুখে বিরক্তির এক চরম অভিব্যক্তি প্রকাশ পায়।তবে কয়লা সংকট, গ্যাস সংকট আর যান্ত্রিক ত্রুটির এই লোডশেডিং যে শুধু মানুষের মেজাজ খিটখিটে আর বিরক্তির কারণই হয়—তা কিন্তু নয়! একটু ভিন্ন নজরে তাকালে দেখা যাবে, আমাদের যান্ত্রিক জীবনে এই লোডশেডিংয়ের আছে একাধিক দারুণ উপকারিতাও। শুনতে অবাস্তব কিংবা অবাক লাগলেও বিষয়টি কিন্তু এক্কেবারে খাঁটি সত্য।চলুন জেনে নেওয়া যাক লোডশেডিংয়ের অন্ধকার সময়ে লুকিয়ে থাকা তেমনই কিছু চমৎকার ইতিবাচক দিক বা উপকারিতা সম্পর্কে:মাস শেষে বিদ্যুৎ বিল কম আসার স্বস্তি :লোডশেডিং হলে যেহেতু আপনার বাসার ফ্যান, লাইট, এসি, ফ্রিজ কিংবা টিভি সাময়িকভাবে বন্ধ থাকে, তাই প্রাক্টিক্যালি কম বিদ্যুৎ ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হয়। আর এই কম ব্যবহারের সরাসরি ইতিবাচক প্রভাব পড়ে মাস শেষের বিদ্যুৎ বিলে। পকেটের টাকা কিছুটা হলেও তো বাঁচলো!ডিজিটাল ডিটক্স ও সৃজনশীল চিন্তার সুযোগ :সারাদিন ফেসবুক, ইউটিউব কিংবা রিলসের দুনিয়ায় আমরা এতটাই বুদ হয়ে থাকি যে, নিজের দিকে তাকানোর সময় মেলে না। লোডশেডিংয়ের সময় প্রযুক্তির এই অতিরিক্ত ব্যবহার থেকে বাধ্যতামূলকভাবে দূরে থেকে নিজের সৃজনশীল চিন্তা, ডায়রি লেখা কিংবা অসমাপ্ত কোনো সৃষ্টিশীল কাজের দিকে মনোযোগ দেওয়ার চমত্কার সুযোগ তৈরি হয়, যা আমাদের ব্যক্তিগত মানসিক বিকাশে কার্যকর ভূমিকা রাখে।পারিবারিক বন্ধন ও আড্ডার পুনর্জাগরণ :বিদ্যুৎ চলে গেলে যেহেতু মোবাইল বা টিভির স্ক্রিন থেকে দূরে থাকার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি থাকে, তখন ঘরের সব সদস্যরা একসঙ্গে ডাইনিং টেবিল কিংবা বারান্দায় এসে জড়ো হন। ফলে স্ত্রী-সন্তান কিংবা বাবা-মায়ের সঙ্গে মন খুলে গল্প, আড্ডা বা পুরোনো দিনের স্মৃতিচারণ করার মাধ্যমে পারিবারিক সম্পর্কগুলো আরও বেশি মধুর ও দৃঢ় হয়ে ওঠে।পরিমিত ঘুম ও শরীরের ক্যালরি ক্ষয় :রাতে লোডশেডিং হলে রাত জেগে ল্যাপটপে কাজ করা, ওটিটি প্ল্যাটফর্মে সিনেমা দেখা বা মোবাইল স্ক্রোল করার প্রবণতা স্বয়ংক্রিয়ভাবে কমে যায়। ফলে দ্রুত এবং ভালো ঘুমের একটি প্রাকৃতিক অভ্যাস তৈরি হয়। তাছাড়া, কিছুটা গরমে শরীর ঘামার ফলে ক্ষতিকর টক্সিন বের হয়ে যায় এবং শরীরের বাড়তি ক্যালরিও ক্ষয় হয়, যা পরোক্ষভাবে স্বাস্থ্যের জন্য এক প্রকার কার্যকরই বলা যায়!লিফট এড়াতে সিঁড়ি ব্যবহার ও শারীরিক ব্যায়াম :লোডশেডিংয়ের সময় হুট করে লিফটে আটকে পড়তে হতে পারে—এমন আশঙ্কায় অনেকেই হাইরাইজ বিল্ডিং বা ফ্ল্যাটে ওঠানামার জন্য সিঁড়ি ব্যবহার করেন। এর ফলে ব্যস্ততার কারণে যাদের আলাদা করে নিয়মিত শরীরচর্চা বা হাঁটার সময়-সুযোগ হয়ে ওঠে না, তাঁরাও অবলীলায় কিছুটা শারীরিক ব্যায়ামের সুযোগ পেয়ে যান।ইনডোর গেমসের আনন্দ :লোডশেডিংয়ের অন্ধকার বা গোধূলি লগ্নে পরিবার কিংবা বন্ধুদের নিয়ে ঘরের ভেতরেই লুডু, দাবা বা ক্যারমের মতো ইনডোর গেমস খেলা যেতে পারে। মোমবাতি কিংবা চার্জার লাইটের মৃদু আলোয় এই খেলায় বিনোদনের পাশাপাশি এক দারুণ নস্টালজিক আমেজ তৈরি হয় এবং সময়টাও বেশ আনন্দে কেটে যায়।পোষা প্রাণীদের সাথে কাটুক প্রফুল্ল সময় :সারাদিন কাজের ব্যস্ততায় হয়তো আপনার আদরের পোষা বিড়াল, কুকুর বা পাখিটিকে ঠিকমতো সময় দেওয়া হয় না। লোডশেডিংয়ের অলস সময়ে মোবাইল রেখে এই অবুঝ প্রাণীদের সাথে খেলাধুলা ও আদর করলে তাদের একাকীত্ব যেমন দূর হয়, তেমনি এক নিমিষেই আপনার সারাদিনের মানসিক ক্লান্তি দূর হয়ে মন প্রফুল্ল হয়ে উঠবে।
প্রকাশক : সাদিয়া নূর পূর্ণ
সম্পাদক : নাহিদ হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক নতুন আলো