প্রিন্ট এর তারিখ : ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৪ মে ২০২৬
পাথর-বালির রাজ্যে এবার আঙুরের বিপ্লব: পঞ্চগড়ে বাণিজ্যিকভাবে ফলছে সুমিষ্ট আঙুর
নতুন আলো ডেস্ক ||
সুস্বাদু ফল আঙুর খেতে পছন্দ করেন না, এমন মানুষ হয়তো খুঁজে পাওয়া ভার। তবে বিদেশ থেকে আমদানিকৃত এই ফলের চড়া দামের কারণে তা বরাবরই সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে থাকে। এমন পরিস্থিতিতে দেশের কৃষিতে নতুন আশার আলো সঞ্চার করেছে পঞ্চগড়ে আঙুরের সফল উৎপাদন।সবুজ পাতার ফাঁকে ঝুলে থাকা থোকা থোকা আঙুরের এই চোখ জুড়ানো দৃশ্য বিদেশের কোনো বাগানের নয়, এটি বাংলাদেশের মানচিত্রে পাখির ঠোঁটের মতো মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা সর্বউত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের বাস্তব চিত্র। গত দুই যুগ ধরে পাথর ও বালির রাজ্য খ্যাত এই জেলায় ধান, ভুট্টা, গম, আলু ও চায়ের পর এবার যুক্ত হলো বিভিন্ন প্রজাতির সুমিষ্ট আঙুর চাষের নাম।স্থানীয় কৃষকদের নিজস্ব উদ্যোগ ও কৃষি বিভাগের সময়োপযোগী পরামর্শে বিদেশি জাতের আঙুর চাষে ইতোমধ্যে সফলতার মুখ দেখতে শুরু করেছেন উদ্যোক্তারা।পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাফিজাবাদ ইউনিয়নের তালমা এলাকার প্রধানপাড়া গ্রামের মনিরুজ্জামান সুমন অনেকটা শখের বসে শুরুতে অল্প কিছু গাছ রোপণ করেছিলেন। পরে এই এলাকার মাটি ও আবহাওয়া উপযোগী দেখে তিনি প্রায় ৫০ শতক জমিতে বাণিজ্যিকভাবে বাগান গড়ে তোলেন। মাত্র ১১ মাস বয়সী এই বাগানটিতে এবার এসেছে বাম্পার ফলন। বাজারে চাহিদা চড়া থাকায় এবার মোটা অঙ্কের লাভের আশা করছেন এই উদ্যোক্তা।বাগানের কেয়ারটেকার মো. মিরাজ ইসলাম জানান, আমাদের বাগানে তিনটি জাতের প্রায় ৪০০টি আঙুর গাছ রয়েছে। এখানকার আঙুরগুলো বেশ মিষ্টি ও সুস্বাদু। যারা বাগান দেখতে আসছেন, তাদের আমরা আঙুর খাইয়ে দেখাচ্ছি এবং সবাই এর প্রশংসা করছেন। পাশাপাশি আমরা নতুন চারা উৎপাদন করে বিক্রিও করছি।জমির সীমাবদ্ধতা পেরিয়ে নিজ বাড়ির ছাদে আঙুর চাষ করে এলাকায় তাক লাগিয়ে দিয়েছেন কলেজছাত্র ও তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা আল ফারুক সবুজ। পঞ্চগড় পৌর এলাকার রাজনগর মহল্লার এই তরুণ তাঁর প্রতিবেশী চাচা মতিয়ার রহমানের তিনতলার বাড়ির ছাদে ১৮ থেকে ২০টি জাতের ৩৬টি চারা রোপণ করেন।কোনো প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ ছাড়াই সম্পূর্ণ ইন্টারনেটের (ইউটিউব ও গুগল) সহায়তা নিয়ে তিনি এই ছাদ বাগান গড়ে তোলেন। প্রথমবারেই সুমিষ্ট আঙুরের সফল ফলন পেয়েছেন সবুজ। তাঁর স্বপ্ন, এই সম্পূর্ণ অর্গানিক ও বিষমুক্ত আঙুর পুরো জেলাজুড়ে ছড়িয়ে দেওয়া।পঞ্চগড়ের এই আঙুর বাগানগুলো এখন শুধু ফল উৎপাদনের কেন্দ্রই নয়, বরং স্থানীয়দের জন্য একটি বিনোদন কেন্দ্রেও পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে পরিবার-পরিজন নিয়ে দর্শনার্থীরা আসছেন এই বিস্ময়কর দৃশ্য উপভোগ করতে।বাগান দেখতে আসা দর্শনার্থী আব্দুর রহমান বলেন, পঞ্চগড়ে এভাবে বাণিজ্যিকভাবে আঙুর চাষ হবে তা কখনো কল্পনাও করিনি। অনেকেই ছবি তুলছেন, পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসছেন। স্থানীয়ভাবে উৎপাদন বাড়লে মানুষ অন্তত বিষমুক্ত ও ফ্রেশ ফল খেতে পারবে।পঞ্চগড় সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আসাদুন্নবী এই সম্ভাবনার কথা নিশ্চিত করে বলেন, পঞ্চগড়ের আবহাওয়া ও মাটির বিশেষ গুণাগুণ বিদেশি বিভিন্ন ফল চাষের জন্য বেশ উপযোগী। আধুনিক ও বিজ্ঞানভিত্তিক পদ্ধতি অনুসরণ করলে এই জেলায় বাণিজ্যিকভাবে আঙুর চাষের এক বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েকজন কৃষক সফলতার মুখ দেখিয়েছেন। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে আমরা মাঠপর্যায়ে প্রয়োজনীয় সব ধরনের পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা প্রদান করে যাচ্ছি।
প্রকাশক : সাদিয়া নূর পূর্ণ
সম্পাদক : নাহিদ হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক নতুন আলো