প্রিন্ট এর তারিখ : ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৫ মে ২০২৬
মরুভূমি হয়ে যাচ্ছে পদ্মা: আজ ঐতিহাসিক ফারাক্কা লংমার্চ দিবস
রাজশাহী প্রতিনিধি ||
পদ্মা এখন ধু-ধু বালুচর। যে নদীর গর্জন একসময় মাইল দূর থেকে শোনা যেত, সেখানে এখন কেবল ধূসর মরুভূমির হাতছানি। উজানে ভারতের ফারাক্কা বাঁধের কারণে পানির ন্যায্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত হওয়ায় দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের প্রাণরেখা পদ্মা আজ মৃতপ্রায়। এই সংকটের মধ্যেই আজ শনিবার (১৬ মে) পালিত হচ্ছে ঐতিহাসিক ফারাক্কা লংমার্চ দিবস।নদীর প্রবাহ দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে এখন নামমাত্র নালায় পরিণত হয়েছে। রাজশাহী শহরের ওপারে চর মাজারদিয়াড়ের বাসিন্দা ফুরকন আলী আক্ষেপ করে বলেন, ২০ বছর আগেও পদ্মার ডাক শোনা যেত। এখন পানিই থাকে না, ডাক আসবে কোত্থেকে? বছরে মাত্র চার মাস পানি থাকে, বাকি সময় মরুভূমি।রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে, গত বছরের আগস্টে যেখানে পানির উচ্চতা ছিল ১৭.৪৯ মিটার, আজ তা নেমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৮.১১ মিটারে। এই পানি সংকটে উত্তরাঞ্চলের প্রায় দুই কোটি কৃষক সেচ সংকটে পড়েছেন এবং দুই হাজার কিলোমিটার নৌপথ বন্ধ হয়ে গেছে।১৯৭৬ সালের এই দিনে মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বে ফারাক্কা বাঁধের প্রতিবাদে রাজশাহী থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের কানসাট অভিমুখে ঐতিহাসিক লংমার্চ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। মওলানা ভাসানী সেদিন ফারাক্কাকে বাংলাদেশের জন্য মরণফাঁদ হিসেবে অভিহিত করেছিলেন।উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত ৩০ বছর মেয়াদি গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তির মেয়াদ এ বছরের ডিসেম্বরে শেষ হতে যাচ্ছে। নদী গবেষকদের মতে, ১৯৯৬ সালের চুক্তিতে বাংলাদেশ লাভবান হয়নি। ফারাক্কা বাঁধ চালুর আগে যেখানে বাংলাদেশ শুষ্ক মৌসুমেও ৭০ হাজার কিউসেক পানি পেত, এখন তা ২০ হাজার কিউসেকের নিচে নেমে এসেছে।এবারের চুক্তি নবায়নের ক্ষেত্রে ১৯৭৭ সালের চুক্তির আদলে পানির গ্যারান্টি বা সুষম বণ্টন নিশ্চিত করার জোর দাবি তুলেছেন নদী গবেষক মাহবুব সিদ্দিকী। দিবসটি উপলক্ষে রাজশাহীতে পৃথক দুটি বড় কর্মসূচি পালিত হবে :বিভাগীয় সমাবেশ : ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দানে ১১ দলীয় ঐক্য আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে থাকবেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। বিশেষ অতিথি থাকবেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।গণজমায়েত : বিকেলে বড়কুঠি পদ্মার পাড়ে ফারাক্কা লংমার্চ দিবস উদ্যাপন কমিটির আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে থাকবেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু।সংশ্লিষ্টদের শঙ্কা : পদ্মায় পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত না হলে সরকারের প্রস্তাবিত পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়বে, যা সমগ্র দেশের পরিবেশ ও অর্থনীতিতে বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
প্রকাশক : সাদিয়া নূর পূর্ণ
সম্পাদক : নাহিদ হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক নতুন আলো