প্রিন্ট এর তারিখ : ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৯ মে ২০২৬
সেবা দেওয়া জনগণের প্রতি করুণা নয়, সরকারের দায়িত্ব : দেশজুড়ে ভূমিসেবা মেলার উদ্বোধনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
বিশেষ প্রতিনিধি , ঢাকা ||
রাষ্ট্র ও রাজনীতিতে জনগণের অধিকার নিশ্চিত করতে এবং হয়রানিমুক্ত সমাজ গড়তে স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও জনবান্ধব ভূমি ব্যবস্থাপনার কোনো বিকল্প নেই বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, সেবা প্রদান জনগণের প্রতি কোনো করুণা নয়, বরং জনগণের সেবা নিশ্চিত করাই সরকারের পবিত্র দায়িত্ব। আমাদের মূল লক্ষ্য একটি দুর্নীতিমুক্ত, হয়রানিমুক্ত, প্রযুক্তিনির্ভর ও নাগরিকবান্ধব ভূমি ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠা করা।আজ মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে অবস্থিত ভূমি ভবনে তিন দিনব্যাপী ভূমিসেবা মেলা-২০২৬-এর জমকালো উদ্বোধন শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের ভূমি ব্যবস্থাপনাকে আধুনিকায়ন করে জমি-সংক্রান্ত বিষয়ে জনগণকে সম্পূর্ণ হয়রানিমুক্ত সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। সারা দেশে তিন দিনব্যাপী এই ভূমিসেবা মেলার আয়োজনের মাধ্যমে সরকার জনগণের কাছে দেওয়া আরও একটি নির্বাচনী ইশতেহার পূরণ করল।তিনি উল্লেখ করেন, জাতীয় নির্বাচনের কয়েক বছর আগে আমাদের প্রণীত ৩১ দফা এবং সর্বশেষ নির্বাচনী ইশতেহারেও এই আধুনিকায়নের কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল। বর্তমান সরকার পর্যায়ক্রমে প্রতিটি দফা বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনগণের কাছে দেওয়া ওয়াদা পূরণের রাজনীতিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় ধরে ফ্যাসিবাদী শাসন-শোষণের জাঁতাকলে পিষ্ট দেশের মানুষের প্রত্যাশার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তারেক রহমান বলেন, জনগণ বর্তমানে রাষ্ট্র ও রাজনীতিতে তাদের প্রকৃত অধিকারের প্রতিফলন দেখতে চায়। এ কারণেই বর্তমান সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার প্রথম সপ্তাহ থেকেই আমাদের নির্বাচনী ইশতেহার এবং জুলাই সনদ-এর প্রতিটি দফা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের দিকে সর্বোচ্চ মনোযোগ দিয়েছে।দেশের আদালতগুলোতে মামলার পাহাড় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী জানান, বর্তমানে সারা দেশে দেওয়ানি ও ফৌজদারি মিলিয়ে ৪৭ লাখের বেশি মামলা বিচারাধীন, যার মধ্যে জমি-সংক্রান্ত মামলার সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি। এই মুহূর্তে আদালতের মামলার দ্রুততম নিষ্পত্তি সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।তবে শুধু প্রচলিত আদালতের ওপর ভরসা না করে জমি-সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য গ্রাম আদালত কিংবা এডিআর(বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা)-এর মতো আইনানুগ মাধ্যমগুলোর ওপর জোর দেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। এতে করে অল্প সময়ে বিরোধ নিষ্পত্তি হবে এবং সামাজিক বা পারিবারিক শত্রুতা তৈরি হবে না।১০০ বছর আগের মালিকানার তুলনায় শরিকানা বৃদ্ধি এবং জনসংখ্যা বাড়ায় মাথাপিছু জমির পরিমাণ কমে যাওয়ার বাস্তব চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জমির অর্থনৈতিক মূল্য বৃদ্ধির সাথে সাথে মামলা-মোকদ্দমাও বাড়ছে। এই জটিলতা থেকে সাধারণ মানুষকে মুক্তি দিতে নামজারি, খতিয়ান, দাগ, পর্চার মতো যাবতীয় ভূমি প্রশাসনকে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসা হচ্ছে। এর ফলে ভূমি অফিসগুলোতে মধ্যস্বত্বভোগী বা দালালদের দৌরাত্ম্য সম্পূর্ণ বন্ধ হবে এবং মানুষকে আর অযথা অফিসে অফিসে ঘুরে হয়রানি হতে হবে না।
প্রকাশক : সাদিয়া নূর পূর্ণ
সম্পাদক : নাহিদ হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক নতুন আলো