প্রিন্ট এর তারিখ : ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২০ মে ২০২৬
খুলে গেল অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালি, বিশ্ববাজারে কমতে শুরু করেছে তেলের দাম
মধ্যপ্রাচ্যে ডেস্ক ||
দীর্ঘদিনের চরম উত্তেজনা ও রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর অবশেষে খাদের কিনারা থেকে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে মধ্যপ্রাচ্য। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সম্ভাব্য ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তির জোরালো ইঙ্গিতের মাঝেই বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী সুপারট্যাংকার চলাচল আবারও বাড়াতে শুরু করেছে। আল আরাবিয়ার খবরে বলা হয়েছে, আজ বুধবার (২০ মে) অন্তত দুটি চীনা তেলবাহী জাহাজ হরমুজ অতিক্রম করে উপসাগরীয় অঞ্চল ত্যাগ করেছে।আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালির এই স্বাভাবিক চিত্র প্রমাণ করছে যে—যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে চলমান ভয়ংকর যুদ্ধ পরিস্থিতি শিগগিরই পুরোপুরি প্রশমিত হতে যাচ্ছে।হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অত্যন্ত নাটকীয়ভাবে জানান, যুদ্ধ খুব দ্রুতই শেষ হবে বলে তিনি আশা করছেন। ইরানের পক্ষ থেকে একদম শেষ মুহূর্তে নতুন শান্তি প্রস্তাব আসার পর তিনি দেশটিতে সম্ভাব্য মার্কিন সামরিক হামলা স্থগিতের নির্দেশ দিয়েছেন।ট্রাম্প বলেন, আমি আজ ইরানের ওপর বড় ধরণের হামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার মাত্র এক ঘণ্টা দূরে দাঁড়িয়ে ছিলাম। কিন্তু তাদের প্রস্তাব আসায় আপাতত তা স্থগিত করা হয়েছে। তবে একইসঙ্গে তিনি কড়া সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছেন, চলমান আলোচনা থেকে কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা না এলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে মার্কিন বিমান হামলা শুরু হতে পারে।এদিকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানান, তেহরানের সঙ্গে পর্দার আড়ালের আলোচনা ইতিবাচক অগ্রগতি অর্জন করেছে। হোয়াইট হাউসের সংবাদ সম্মেলনে ভ্যান্স বলেন, শান্তি চুক্তির ব্যাপারে আমরা এখন বেশ ভালো এবং আশাব্যঞ্জক অবস্থানে আছি।উপসাগরীয় অঞ্চলে দীর্ঘ সংঘাতের কারণে কয়েক শত তেলবাহী জাহাজ আটকা পড়েছিল, যা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য বড় রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। এলএসইজি ও ক্লেপারের তথ্য অনুযায়ী, শান্তির ইতিবাচক বার্তা ছড়ানোর পরপরই চীনের দুটি বিশাল সুপারট্যাংকার প্রায় ৪০ লাখ ব্যারেল ইরাকি অপরিশোধিত তেল নিয়ে নিরাপদে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করেছে। এই খবরের পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলারের কাছাকাছি নেমে এসেছে।ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, তেহরানের নতুন শান্তি প্রস্তাবে মূল শর্তগুলো হলো—লেবাননসহ সব ফ্রন্টে অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধ করা, ইরানের কাছাকাছি অঞ্চল থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার, মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, নিষেধাজ্ঞা বাতিল এবং বিগত হামলায় হওয়া ক্ষয়ক্ষতির জন্য মার্কিনীদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া।যদিও মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স স্বীকার করেছেন যে, ইরানের নেতৃত্বের অভ্যন্তরীণ বিভাজনের কারণে অনেক সময় তাদের আলোচনাকারীদের অবস্থান পুরোপুরি পরিষ্কার হচ্ছে না। অন্যদিকে ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির প্রধান ইব্রাহিম আজিজি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ভালো করেই বুঝতে পেরেছে যে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন কোনো দুঃসাহস দেখালে তার কঠোর সামরিক জবাব দেওয়া হবে।গত এপ্রিলের শুরুতে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও সম্প্রতি ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর পক্ষ থেকে বিচ্ছিন্ন ড্রোন হামলার অভিযোগ উঠেছে। ওয়াশিংটন ও তেল আবিব দাবি করেছে, তাদের যৌথ অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীর সক্ষমতা গুঁড়িয়ে দেওয়া। তবে সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এত হামলার পরও ইরানের ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, কামিকাজে ড্রোন ও আঞ্চলিক প্রভাব পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতি বজায় থাকলেও অঞ্চলজুড়ে এখনো এক অদৃশ্য চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
প্রকাশক : সাদিয়া নূর পূর্ণ
সম্পাদক : নাহিদ হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক নতুন আলো