প্রিন্ট এর তারিখ : ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২১ মে ২০২৬
বিএনপি সরকারই পদ্মা ও তিস্তা ব্যারাজের কাজে হাত দেবে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
বিশেষ প্রতিনিধি , ঢাকা ||
বিএনপি সরকারই দেশের দীর্ঘমেয়াদি পানির সংকট ও কৃষির সুরক্ষায় পদ্মা ব্যারাজ এবং তিস্তা ব্যারাজের সুদূরপ্রসারী কাজে হাত দেবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, আমি পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, এই বিএনপি সরকারই পদ্মা ব্যারাজের কাজে হাত দেবে, ইনশাআল্লাহ তিস্তা ব্যারাজেও হাত দেবে। অতীতের মতো এবারও দেশের জন্য কাজ এবং কাঙ্ক্ষিত ডেলিভারি যদি কেউ করে থাকে, সেটা বিএনপিই করেছে।গতকাল বুধবার (২০ মে) দুপুরে গাজীপুরে জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে এক সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী দেশের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের পরিবেশগত সংকটের কথা তুলে ধরে বলেন, আপনারা পত্রিকায় দেখেছেন, কয়েকদিন আগে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি—আমাদের উত্তর ও দক্ষিণ অঞ্চলে, বিশেষ করে রাজশাহীতে পদ্মা নদীতে পদ্মা ব্যারাজ তৈরি করব। সীমান্তের ওপারে বিভিন্ন ব্যারেজ তৈরি করে পানি সরিয়ে নেওয়ার কারণে খরা মৌসুমে আমরা পর্যাপ্ত পানি পাচ্ছি না। এই ব্যারাজটি আমরা এই জন্যই করতে চাচ্ছি, যাতে বর্ষা বা খরা যেকোনো মৌসুমেই আমাদের দেশের মানুষ বা কৃষক যেন ঠিক সময়ে কৃষিকাজের পানি পায়।তিনি আরও বলেন, ফারাক্কা বাঁধের কারণে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে সমুদ্রের নোনা পানি ঢুকে পড়ছে। এতে সুন্দরবনসহ ওই অঞ্চলের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হচ্ছে, বিভিন্ন পশু বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। কাজেই আমাদের এই ব্যারাজ নির্মাণ করতেই হবে এবং বর্ষার বাড়তি পানি আমরা এখানে ধরে রাখব, যা খরা মৌসুমে বাঁচাবে আমাদের কৃষি ও প্রকৃতিকে।আবহাওয়ার বৈশ্বিক পরিবর্তনের উদাহরণ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন জানুয়ারি মাসেও শীত কম পড়ে। আমরা যখন স্কুলে পড়তাম, তখন ২৬ মার্চের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের রিহার্সেলেও সোয়েটার পরে থাকতাম। অথচ আজ থেকে ২০-২৫ বছর আগে যেখানে পানি ও বিস্তীর্ণ গাছপালা ছিল, আজ সেখানে শুধুই বাড়িঘর। কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফে ১৩ লাখ রোহিঙ্গার বাসস্থানের জন্য হাজার হাজার গাছ কেটে ফেলা হয়েছে।সম্প্রতি কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত থেকে উখিয়া পর্যন্ত একটি রাস্তা নির্মাণের সময় প্রায় ৩ হাজার গাছ কাটার পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, পত্রিকায় নিউজটি দেখার পরপরই আমি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীকে ফোন করে বলে দিয়েছি—ইঞ্জিনিয়ারদের সাথে কথা বলুন, যেকোনো মূল্যে গাছ না কেটে এই রাস্তার কাজ সম্পন্ন করতে হবে।তিনি আরও উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, গুলশান বা ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় আগে যেখানে ২০-২৫ ফিট নিচেই পানি মিলত, এখন ৬০০-৭০০ ফিট গভীরে যেতে হয়। ২০ কোটি মানুষের ফসল উৎপাদনের জন্য কৃষকরা গভীর নলকূপ দিয়ে পানি তোলায় ভূগর্ভস্থ স্তর নিচে নেমে শূন্য হয়ে যাচ্ছে। ফলে যেকোনো সময় বড় ধরণের ধসের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। এই সংকট উত্তরণে আমাদের নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী আমরা দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচি জোরদারভাবে শুরু করেছি, যার সাথে মানুষের জীবন ও কৃষি ওতপ্রোতভাবে জড়িত।গাজীপুরে নবনির্মিত ইনস্টিটিউট সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগকে নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা আমাদের নেই, তবে আমরা সচেতনতা বাড়াতে পারি। এই প্রতিষ্ঠানের মূল লক্ষ্য দুটি—প্রথমত, আবহাওয়ার এই ক্ষতিকর পরিবর্তন নিয়ে গভীর গবেষণা করা। দ্বিতীয়ত, ভূমিকম্প বা জলোচ্ছ্বাসের মতো বড় দুর্যোগে জীবন ও সম্পদ সুরক্ষায় নিয়োজিতদের আধুনিক প্রশিক্ষণ দেওয়া। আমাদের সম্পদ সীমিত, তাই সঠিক পরিকল্পনা ও সচেতনতার মাধ্যমেই আমাদেরকে ধীরে ধীরে একটি উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে উঠতে হবে।দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের এই সুধী সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের মহাপরিচালক মো: মিজানুর রহমান।এ সময় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবসর) ড. এ কে এম শামসুল ইসলাম, বিভিন্ন আসনের সংসদ সদস্যসহ সরকারের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। (বাসস)
প্রকাশক : সাদিয়া নূর পূর্ণ
সম্পাদক : নাহিদ হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক নতুন আলো