প্রিন্ট এর তারিখ : ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৬ মে ২০২৬
ভুল বোঝাবুঝি থেকে গুঞ্জন: মুকসুদপুরে গরুর মাংস বিক্রি নিয়ে আসল ঘটনা কী?
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার জলিলপাড় এলাকায় গরুর মাংস বিক্রিকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া একটি স্থানীয় ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা গুঞ্জন ও বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়েছে। তবে জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে— জেলার কোথাও গরুর মাংস বিক্রির ওপর কোনো ধরনের বিধিনিষেধ বা নিষেধাজ্ঞা নেই। মূলত একটি ভুল বোঝাবুঝি থেকে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।ঘটনার সূত্রপাত ও মাংস ব্যবসায়ীর অভিযোগ :স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দক্ষিণ জলিলপাড় বাসস্ট্যান্ড জামে মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে গরু জবাই করে মাংস বিক্রি করে আসছিলেন আলমগীর কসাই নামে এক ব্যবসায়ী। তার দাবি, স্থানীয় প্রায় দুই শতাধিক মুসল্লির সুবিধার্থেই তিনি সেখানে এই ব্যবসা করছিলেন।সম্প্রতি আলমগীর কসাই জেলা প্রশাসকের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, গত ১৫ মে (শুক্রবার) দুপুরে সিন্দিয়াঘাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আরোঙ্গ দেব তাকে সেখানে মাংস বিক্রি করতে নিষেধ করেন এবং ভয়ভীতি দেখান। এই অভিযোগের পরই বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা গুঞ্জন শুরু হয়।ছবি: অভিযোগ পত্রএ ব্যাপারে আরোঙ্গ দেবের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি হুমকি বা ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগটি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন। তিনি জানান, স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মৌখিক অভিযোগের প্রেক্ষিতে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়েছিলেন। সেখানে আলমগীর কসাইকে কোনো প্রকার হুমকি দেওয়া হয়নি।আরোঙ্গ দেব আরও বলেন—কোথাও গরুর মাংস বিক্রি নিষিদ্ধ নয়— এই বিষয়টি তাকে স্পষ্ট বলা হয়েছে। তবে ওই এলাকায় ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সামাজিক সৌহার্দ্য যেন বজায় থাকে, সেজন্য শুধু সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দোকানের ঠিক সামনে গরু জবাই বা মাংস বিক্রি না করে কিছুটা সুবিধাজনক জায়গায় করার জন্য একটি মৌখিক অনুরোধ করা হয়েছিল।বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তি দূর করতে গোপালগঞ্জের জেলা পুলিশ সুপার মোঃ হাবিবুল্লাহর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, গোপালগঞ্জের কোথাও গরুর মাংস বিক্রিতে কোনো বাধা নেই। বাজারে কোন পণ্য বিক্রি হবে বা হবে না, সেই সিদ্ধান্ত বা আদেশ দেওয়ার এখতিয়ার কেবল জেলা প্রশাসন ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের। পুলিশ প্রশাসনের মূল কাজ হচ্ছে আইনশৃঙ্খলার তদারকি করা এবং সকল সম্প্রদায়ের মধ্যে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখা।এদিকে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে কথা বলা হলে তারা জানান, একটি ছোট ভুল বোঝাবুঝিকে কেন্দ্র করে অযথা গুজব বা বিভ্রান্তি ছড়ানো ঠিক নয়। জলিলপাড় এলাকার দীর্ঘদিনের সামাজিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতি অক্ষুণ্ণ রাখতে তারা সকলকে পারস্পরিক সহনশীলতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
প্রকাশক : সাদিয়া নূর পূর্ণ
সম্পাদক : নাহিদ হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক নতুন আলো