প্রিন্ট এর তারিখ : ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৮ মার্চ ২০২৬
ইমাম ও মুয়াজ্জিনসহ ধর্মগুরুদের জন্য সরকারি সম্মানী চালু: ১৪ মার্চ উদ্বোধন।
নাহিদ হোসেন , বিশেষ প্রতিনিধি ||
দেশের সব মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম এবং অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের জন্য প্রথমবারের মতো সরকারি সম্মানী ও প্রশিক্ষণভিত্তিক কল্যাণ ব্যবস্থা চালু করতে যাচ্ছে সরকার। আগামী ১৪ মার্চ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন। রোববার (৮ মার্চ) এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জাবিউল্লাহ এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সম্মানীর পরিমাণ ও বণ্টন কাঠামো
প্রাথমিক পর্যায়ে পাইলট প্রকল্পের আওতায় প্রতিটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের জন্য নির্দিষ্ট অংকের সম্মানী নির্ধারণ করা হয়েছে:
মসজিদ (মোট ১০ হাজার টাকা): ইমাম ৫ হাজার, মুয়াজ্জিন ৩ হাজার এবং খাদেম পাবেন ২ হাজার টাকা।
মন্দির (মোট ৮ হাজার টাকা): পুরোহিত ৫ হাজার এবং সেবাইত পাবেন ৩ হাজার টাকা।
বৌদ্ধ বিহার (মোট ৮ হাজার টাকা): বিহার অধ্যক্ষ ৫ হাজার এবং উপাধ্যক্ষ পাবেন ৩ হাজার টাকা।
খ্রিস্টান চার্চ (মোট ৮ হাজার টাকা): পালক বা যাজক ৫ হাজার এবং সহকারী যাজক পাবেন ৩ হাজার টাকা।
উৎসব বোনাস ও আর্থিক বরাদ্দ
সম্মানীর পাশাপাশি বছরে দুইবার বিশেষ উৎসব বোনাসের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। মুসলমানদের জন্য ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার ক্ষেত্রে ১ হাজার টাকা করে দুইবার এবং অন্যান্য ধর্মের ক্ষেত্রে দুর্গাপূজা, বৌদ্ধপূর্ণিমা বা বড়দিনের উৎসবে এককালীন ২ হাজার টাকা করে বোনাস দেওয়া হবে। চলতি অর্থবছরের মার্চ-জুন মেয়াদের জন্য এই খাতে মোট ২৭ কোটি ৫৭ লাখ টাকা বরাদ্দ প্রয়োজন হবে বলে জানিয়েছেন উপদেষ্টা।
বিশেষ শর্তাবলি ও পেমেন্ট পদ্ধতি
জনপ্রশাসন উপদেষ্টা ইসমাইল জাবিউল্লাহ জানান, এই সম্মানী সরাসরি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে প্রদান করা হবে। তবে যেসব মসজিদ বা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সরাসরি সরকারি অনুদান অথবা দেশি-বিদেশি সংস্থার নিয়মিত অনুদান পায়, তারা এই বিশেষ সুবিধার আওতায় থাকবে না। পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি বৈধ ধর্মীয় উপাসনালয়কে এই প্রকল্পের আওতায় আনা হবে।
প্রকাশক : সাদিয়া নূর পূর্ণ
সম্পাদক : নাহিদ হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক নতুন আলো