প্রিন্ট এর তারিখ : ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০২ জুন ২০২৬
কোরবানির ঈদে অতিরিক্ত মাংস খাচ্ছেন? জেনে নিন কখন এই বদহজমই হতে পারে বিপদের সংকেত
লাইফস্টাইল ডেস্ক ||
ঈদুল আজহার আনন্দ ও উৎসবের অন্যতম মূল আকর্ষণ হলো হরেক রকমের মাংসের পদ। তবে কোরবানির ঈদে অতিরিক্ত মাংস খাওয়ার ফলে অনেকেই বুকজ্বালা, গ্যাস, পেট ফাঁপা বা বদহজমের মতো সমস্যায় ভোগেন। সামান্য অসাবধানতা উৎসবের আনন্দকে বিষাদে পরিণত করতে পারে। তাই এ সময়ে খাদ্য গ্রহণে সচেতন হওয়া এবং শরীরের বিপজ্জনক লক্ষণগুলো চিনে রাখা অত্যন্ত জরুরি।ঈদের দিনগুলোতে আমাদের কিছু অসচেতনতা ও ভুল অভ্যাসের কারণে হজমতন্ত্রের ওপর প্রচণ্ড চাপ পড়ে :অতিরিক্ত প্রোটিন ও চর্বি : মাংসের চর্বি হজম হতে দীর্ঘ সময় নেয়। অতিরিক্ত মাংস খেলে পাকস্থলীতে অ্যাসিড নিঃসরণ বেড়ে যায়, যা বুকজ্বালার সৃষ্টি করে।অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস ও কোমল পানীয়: ঘন ঘন মাংস খাওয়া এবং এর সঙ্গে কোমল পানীয় বা অতিরিক্ত মিষ্টিজাতীয় খাবার পরিপাক প্রক্রিয়াকে ধীর ও ব্যাহত করে।আঁশযুক্ত খাবারের অভাব : মাংসের তুলনায় শাকসবজি ও সালাদ কম খাওয়ার ফলে কোষ্ঠকাঠিন্যের ঝুঁকি বাড়ে।সদ্য কাটা মাংস ও অতিরিক্ত মসলা : সদ্য কাটা শক্ত মাংস সঙ্গে সঙ্গে রান্না করলে তা হজম হতে বেশি সময় নেয়। এছাড়া অতিরিক্ত তেল-মসলা পাকস্থলীর ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে।বিশেষ করে বয়স্ক ব্যক্তি, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ এবং যাদের আগে থেকেই গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা আছে, তাদের এই সময়ে অতিরিক্ত সচেতন থাকা প্রয়োজন।পেট কিছুটা ভারী লাগা, অল্প বুকজ্বালা বা ঢেকুর ওঠাকে সাধারণ বদহজম ধরা হলেও, নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে মোটেও অবহেলা করা যাবে না :তীব্র পেটে ব্যথা: পেটের ওপরের দিকে প্রচণ্ড ও দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা গ্যাস্ট্রিক আলসার বা প্যানক্রিয়াটাইটিসের লক্ষণ হতে পারে।বারবার বমি: অনবরত বমি হওয়া বা বমির সঙ্গে রক্ত আসা অত্যন্ত বিপজ্জনক।মলদ্বারে রক্তপাত: কালো পায়খানা বা মলের সাথে রক্ত যাওয়া পরিপাকতন্ত্রের অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ নির্দেশ করে।বুকে প্রচণ্ড চাপ বা শ্বাসকষ্ট: অনেক সময় হার্ট অ্যাটাকের ব্যথাকে মানুষ গ্যাসের ব্যথা বলে ভুল করে। বুকের ব্যথা যদি চোয়ালে বা বাম হাতে ছড়িয়ে পড়ে এবং সাথে শ্বাসকষ্ট হয়, তবে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে।জ্বর ও কাঁপুনি: বদহজমের পাশাপাশি উচ্চমাত্রার জ্বর পিত্তথলিতে ইনফেকশন বা অন্য কোনো জটিল সংক্রমণের ইঙ্গিত দেয়।কোরবানি-পরবর্তী সময়ে শারীরিক জটিলতা এড়াতে কিছু সাধারণ নিয়ম মেনে চলা আবশ্যক :পরিমাণ মেনে চলা : একবারে বেশি মাংস না খেয়ে অল্প অল্প করে বারবার খাওয়া উচিত এবং রান্নার সময় মাংসের চর্বি ফেলে দেওয়া ভালো।খাবারে ভারসাম্য : মাংসের পদের পাশাপাশি প্রচুর পরিমাণে সালাদ, শসা, লেবু ও ফাইবারযুক্ত সবজি পাতে রাখুন।পর্যাপ্ত পানি পান : শরীর থেকে টক্সিন বের করতে এবং হজমপ্রক্রিয়া সচল রাখতে সারাদিনে অন্তত ২-৩ লিটার পানি পান করুন।হাঁটাচলা করা : ভারী খাবার খাওয়ার পরপরই শুয়ে না পড়ে অন্তত ৩০ মিনিট হালকা হাঁটাহাঁটি করা উচিত, যা মেটাবলিজম বাড়াতে সাহায্য করে।ওষুধের সঠিক ব্যবহার : চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া যেকোনো গ্যাসের ওষুধ বা ওষুধের ওপর অতি-নির্ভরশীল হওয়া যাবে না।আপনার শরীর আপনারই আয়না; তাই অতিরিক্ত মাংস খাওয়ার পর শরীর কোনো অস্বাভাবিক সংকেত দিচ্ছে কিনা, সেদিকে কড়া নজর রাখুন। সচেতনতাই পারে উৎসবের আনন্দকে সুস্থ ও নিরাপদ রাখতে। ওপরে উল্লিখিত জটিল লক্ষণগুলোর কোনো একটি দেখা দিলে কালক্ষেপণ না করে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন।
প্রকাশক : সাদিয়া নূর পূর্ণ
সম্পাদক : নাহিদ হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক নতুন আলো