প্রিন্ট এর তারিখ : ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৬ জুন ২০২৬
ইউরোপের মাটিতে বাংলাদেশের রূপকথা! তপু বর্মণের জোড়া গোলে সান মারিনোকে হারিয়ে ঐতিহাসিক জয়
খেলা ডেস্ক ||
কাগজে-কলমে কিংবা ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের হিসাবে সান মারিনো হয়তো তলানির দল, কিন্তু ইউরোপের কন্ডিশনে তাদেরই ঘরের মাঠে খেলাটা বাংলাদেশের জন্য ছিল এক চরম অগ্নিপরীক্ষা। সেই কঠিন পরীক্ষাতেই পাস নম্বর নয়, বরং লেটার মার্কস নিয়ে ঐতিহাসিক এক রূপকথা লিখল বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল। সান মারিনোর সেরাফাল্লে স্টেডিয়ামে স্বাগতিকদের ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে ইউরোপের মাটিতে নিজেদের ফুটবল ইতিহাসের প্রথম আন্তর্জাতিক জয়ের স্বাদ পেল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। আর এই মহাকাব্যিক জয়ের মহানায়ক আর কেউ নন—রক্ষণভাগের অতন্দ্র প্রহরী তপু বর্মণ, যার জোড়া গোলেই লেখা হলো এই নতুন ইতিহাস।ম্যাচ শুরুর আগেই বড় চমক উপহার দেন বাংলাদেশের সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত প্রধান কোচ টমাস ডুলি। সাবেক কোচের অধীনে প্রায় একাদশের বাইরে চলে যাওয়া অভিজ্ঞ অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়াকে মাঝমাঠের মূল দায়িত্ব সঁপে দেন তিনি। ডুলির সাজানো ৪-৩-৩ ফরমেশনে জামালের সাথে মাঝমাঠে প্রাচীর তোলেন প্রিমিয়ার লিগ তারকা হামজা চৌধুরী ও সোহেল রানা সিনিয়র। রক্ষণে তপু বর্মণ ও তারিক কাজীর রসায়নের পাশাপাশি আক্রমণভাগের কেন্দ্রে রাখা হয় তরুণ তুর্কি শেখ মোরসালিনকে।ম্যাচটি সান মারিনোর মাঠে হলেও গ্যালারির চিত্র দেখে চেনার উপায় ছিল না যে এটি ইউরোপ। ইতালিতে বসবাসরত হাজার হাজার প্রবাসী বাংলাদেশি সমর্থক পুরো স্টেডিয়ামকে লাল-সবুজের চাদরে ঢেকে ফেলেন। প্রবাসীদের অবিরাম স্লোগানের ওপর ভর করে ম্যাচের ১৯ মিনিটেই লিড নেয় বাংলাদেশ। শেখ মোরসালিনের নিখুঁত ও চমৎকার এক ক্রস থেকে দুর্দান্ত হেডে সান মারিনোর জাল কাঁপান ডিফেন্ডার তপু বর্মণ।তবে ম্যাচের ৩১ মিনিটে ডিফেন্সের একটি ছোট ভুলের সুযোগ নিয়ে কাউন্টার অ্যাটাক থেকে ফিলিপ্পো বেরার্দির পাসে গোল করে স্বাগতিকদের সমতায় ফেরান নিকোলাস জাকোপেত্তি। ১-১ গোলে সমতায় আসার পর ম্যাচটিতে শারীরিক শক্তি ও ফাউলের মহড়া চলতে থাকে, যার খেসারত হিসেবে ৩৩ মিনিটে হলুদ কার্ড দেখেন বাংলাদেশের উইঙ্গার রফিকুল ইসলাম।বিরতির পর দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই গোল করতে মরিয়া হয়ে ওঠে দু’দলই। ৫৩ মিনিটে ফাহিমের একটি দুর্দান্ত শট গোলপোস্টে লেগে ফিরে এলে হতাশ হতে হয় বাংলাদেশকে। এরপর ৫৬ থেকে ৬২ মিনিট পর্যন্ত বাংলাদেশের রক্ষণভাগে চড়াও হয় সান মারিনো। তবে ৬১ মিনিটে লরেঞ্জো কাপিক্কিওনির একটি নিশ্চিত গোলের শট বাজপাখির মতো পজিশনে থেকে রুখে দেন বাংলাদেশের গোলরক্ষক মিতুল মারমা।খেলার গতি পরিবর্তন করতে কোচ ডুলি ৬৪ মিনিটে মাঠে নামান ফাহামিদুল ইসলাম ও বিশ্বনাথ ঘোষকে। ম্যাচ যখন ১-১ সমতায় শেষের দিকে এগোচ্ছিল, ঠিক তখনই আসে ৮৫ মিনিটের সেই ম্যাজিক মোমেন্ট। সাদ উদ্দিনকে ফাউল করায় ফ্রি-কিক পায় বাংলাদেশ। ৮৬ মিনিটে হামজা চৌধুরীর নেওয়া ফ্রি-কিকটি সান মারিনোর ডি-বক্সে জটলা তৈরি করলে, বদলি নামা বিশ্বনাথ ঘোষের শট থেকে বল পেয়ে আলতো ছোঁয়ায় তা জালে জড়ান তপু বর্মণ।তপুর এই জয়সূচক গোলের সাথে সাথেই সেরাফাল্লে স্টেডিয়ামের গ্যালারি যেন এক টুকরো বাংলাদেশে পরিণত হয়। ইউরোপীয় কন্ডিশন ও স্বাগতিকদের মুহুর্মুহু আক্রমণ সামলে ২-১ গোলের এই ঐতিহাসিক জয় দিয়ে নতুন কোচের অধীনে এক নতুন যুগের সূচনা করল বাংলাদেশ ফুটবল দল।
প্রকাশক : সাদিয়া নূর পূর্ণ
সম্পাদক : নাহিদ হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক নতুন আলো