প্রিন্ট এর তারিখ : ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৭ জুন ২০২৬
রামিসা হত্যার রায় কার্যকর কবে ও কীভাবে? উচ্চ আদালতে দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার
বিশেষ প্রতিনিধি , ঢাকা ||
রাজধানীর পল্লবী এলাকার শিশু রামিসা আক্তারকে পাশবিক ধর্ষণ ও নির্মম হত্যার মামলায় প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্ন খাতুনকে ঢাকার একটি আদালত মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করেছেন। রোববার (৭ জুন) ঢাকার সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনাল আসামিদের মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি অর্থদণ্ডও প্রদান করেন। মাত্র ৬ কার্যদিবসের মধ্যে এই বেদনাদায়ক ও চাঞ্চল্যকর মামলার বিচারপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করে রায় ঘোষণা করা হয়েছে, যা বাংলাদেশের বিচারিক ইতিহাসে প্রথম এবং একটি অনন্য মাইলফলক। এই রায় ঘোষণার পর থেকে রায়টি কোন প্রক্রিয়ায়, কবে এবং কীভাবে কার্যকর হবে, তা নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।সচিবালয়ে নিজের দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আইনমন্ত্রী মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, আমরা আইনের প্রতিটি ধাপ পেরিয়ে মাত্র ৬ কার্যদিবসে বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পেরেছি। এ রায়ে আমরা আপাতত সন্তুষ্ট। আশা করি উচ্চ আদালতেও এ রায় বহাল থাকবে। মামলার পরবর্তী প্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি জানান, নিয়ম অনুযায়ী সাত দিনের মধ্যে ডেথ রেফারেন্স কনফার্মেশনের জন্য হাইকোর্ট ডিভিশনে যাওয়ার বাধ্যবাধকতা আছে। সুপ্রিম কোর্টের তত্ত্বাবধানে পেপার বুক প্রস্তুত হওয়ার পর সিরিয়ালি মৃত্যুদণ্ডের মামলা নিষ্পত্তি করা হয়। আইনমন্ত্রী আরও জানান, তিনি এই মামলার ডেথ রেফারেন্স দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য প্রধান বিচারপতির সাথে কথা বলেছেন এবং প্রধান বিচারপতিও এ বিষয়ে ফোকাসড সিদ্ধান্ত নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।অন্যদিকে, অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল জানিয়েছেন, বিচারিক আদালত থেকে ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে পাঠানোর পর তারা দ্রুততম সময়ে মামলার শুনানির ব্যবস্থা করার চেষ্টা করবেন। সেক্ষেত্রে প্রধান বিচারপতির বিশেষ নির্দেশনায় দ্রুত পেপার বুক তৈরি করে আপিল নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হবে।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সচিবালয়ে বলেন, জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী দ্রুততম সময়ে ডিএনএ টেস্ট ও পোস্টমর্টেম রিপোর্ট সংগ্রহ করে দ্রুত চার্জশিট দিয়ে বিচারে সহযোগিতা করা হয়েছে। আদালত ন্যায়বিচার করেছেন। ডেথ রেফারেন্স যাতে শুনানির জন্য এগিয়ে আনা যায়, সেজন্য আমরা সুপ্রিম কোর্টের নজরে আনবো ও অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসকে বলবো। তাহলে রায় বাস্তবায়ন আর বিলম্বিত হবে না।আদালতের রায় ঘোষণার পর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু বলেন, অটোপসি রিপোর্টে চিকিৎসক ভিকটিম রামিসার দেহে ধর্ষণের আলামত পাওয়ার কথা পরিষ্কার বলেছেন। ট্রাইব্যুনাল অতি দ্রুততম সময়ে রায় ঘোষণা করেছেন। এমন অপরাধে কোনো দয়া-দাক্ষিণ্য না দেখিয়ে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে এবং আদালত সেটাই করেছেন।মামলায় আসামিপক্ষ কোনো আইনজীবী নিযুক্ত না করায় রাষ্ট্র কর্তৃক আসামির পক্ষে আইনজীবী হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন মুসা কালিমুল্যাহ। রায় ঘোষণার পর তিনিও স্বস্তি প্রকাশ করে বলেন, এ মামলার বিচার একটি নজির হয়ে থাকবে। সবার জন্য শিক্ষণীয় হবে ও সচেতনতা তৈরি হবে। মানুষ মনে করবে এমন অপরাধ করলে পার পাওয়া যাবে না।রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন মামলার বাদী ও রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা। রায় শুনে সন্তোষ প্রকাশ করে অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে তিনি বলেন, আমি এ রায়ে সন্তুষ্ট। তবে এ রায় যখন বাস্তবে কার্যকর বা বাস্তবায়ন হবে, তখন আমি একশ পার্সেন্ট সন্তুষ্ট হবো। প্রধানমন্ত্রী, বিচারপতি, পুলিশ প্রশাসন, জনগণ, মিডিয়া, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী সবাই আমাকে সহযোগিতা করেছেন। আমি সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। দ্রুত থেকে দ্রুততর সময়ের মধ্যে রায় কার্যকর হোক। বাংলাদেশে রামিসার মতো এমন নৃশংস ঘটনা যেন আর কোনো সন্তানের সাথে না ঘটে।উল্লেখ্য, গত ১৯ মে সকালে পল্লবীর মিরপুর-১১ নম্বর এলাকায় নিজেদের বাসার পাশের ফ্ল্যাটের একটি কক্ষ থেকে রক্তাক্ত ও খণ্ডিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছিল শিশু রামিসার লাশ। এই বর্বরোচিত ঘটনার পর দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের দ্রুততম সময়ে গ্রেপ্তার ও চার্জশিট প্রদানের মাধ্যমে মাত্র ৬ দিনের আইনি লড়াই শেষে আজ এই ঐতিহাসিক রায় প্রদান করলেন আদালত।
প্রকাশক : সাদিয়া নূর পূর্ণ
সম্পাদক : নাহিদ হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক নতুন আলো