প্রিন্ট এর তারিখ : ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৭ মার্চ ২০২৬
মাগুরার ২০০০ বছরের প্রাচীন ‘ভাতের ভিটা’ সংরক্ষণে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর।
নাহিদ হোসেন , বিশেষ প্রতিনিধি ||
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর মাগুরা সদরের টিলা গ্রামে অবস্থিত ঐতিহাসিকভাবে পরিচিত ‘ভাতের ভিটা’ সংরক্ষণের কাজ শুরু করেছে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর। প্রাচীন এই জনপদে খনন কাজ শেষ করার পর বর্তমানে ধ্বংসাবশেষ সংস্কার ও দীর্ঘমেয়াদী সুরক্ষার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন সংশ্লিষ্ট শ্রমিক ও বিশেষজ্ঞরা।
খনন পরবর্তী সংরক্ষণ কার্যক্রম
শনিবার (৭ মার্চ) সকালে সরেজমিনে টিলা গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, প্রাচীন আমলের ইট, টালি ও চুন-সুরকির তৈরি স্থাপনাটির ধ্বংসাবশেষের চারপাশে নতুন করে সুরক্ষার বেষ্টনী তৈরি করা হচ্ছে। কর্মরত শ্রমিক নিপেন চন্দ্র জানান, গত দুই মাস ধরে এখানে কাজ চলছে। প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ প্রথমে মাটির নিচের বিভিন্ন প্রত্নসামগ্রী যাচাই-বাছাই শেষ করে এটি সংরক্ষণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়।
বর্তমানে স্থাপনাটির অবশিষ্টাংশ পরিষ্কার করা হচ্ছে এবং আদি রূপ ধরে রাখতে ইটের ওপর বিশেষ প্রলেপ দেওয়ার কাজ চলছে।
কিংবদন্তি ও ভাতের ভিটার ইতিহাস
টিলা গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, এই স্থাপনার ইতিহাস প্রায় দুই হাজার বছরের পুরোনো। স্থানীয় বাসিন্দা খোকন মৃধা জানান,
প্রাচীনকালে এখানে ‘ভীম রাজা’ নামে একজন পরাক্রমশালী শাসক বসবাস করতেন, যার রাজ্যের বিস্তৃতি ছিল সুদূর পাবনা পর্যন্ত।
নামকরণ: প্রাচীনকালে এই গ্রামের নাম ছিল ‘ভ্রমর দা’, যা কালক্রমে ‘টিলা’ গ্রামে রূপান্তরিত হয়।
স্থাপত্য: এটি মূলত একটি প্রাচীন কুঠিবাড়ির ধ্বংসাবশেষ, যা তৎকালীন রাজবংশের আভিজাত্যের প্রতীক ছিল। বর্তমানে এর ওপরের অংশ ধ্বংস হয়ে গেলেও মাটির নিচে ইটের মজবুত ভিত্তির চিহ্ন পাওয়া গেছে।
এলাকাবাসীর সন্তুষ্টি
ঐতিহাসিক এই স্থানটি দীর্ঘকাল অবহেলিত থাকায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ছিল। তবে বর্তমানে সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন তারা। স্থানীয়দের মতে, ভাতের ভিটা সংরক্ষিত হলে এটি মাগুরা জেলার পর্যটন ও প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণায় নতুন মাত্রা যোগ করবে।
প্রকাশক : সাদিয়া নূর পূর্ণ
সম্পাদক : নাহিদ হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক নতুন আলো