প্রিন্ট এর তারিখ : ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৮ জুন ২০২৬
ফ্রান্সে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের জন্য বড় সতর্কবার্তা, যেকোনো সময় হতে পারে বহিষ্কার!
জাহিদ হোসেন, ইউরোপ প্রতিনিধি ||
ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) বসবাসরত অনিয়মিত ও অবৈধ অভিবাসীদের বহিষ্কার প্রক্রিয়া আরও দ্রুত এবং কঠোর করতে এক নতুন নীতিমালায় একমত হয়েছে জোটের সদস্য রাষ্ট্রগুলো। ফরাসি বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন এই ব্যবস্থার আওতায় আশ্রয় আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়া বা বৈধ কাগজপত্রবিহীন অভিবাসীদের ইউরোপ থেকে সরাসরি নিজ দেশে অথবা ইউরোপের বাইরে অন্য কোনো তৃতীয় দেশে স্থাপিত বিশেষ প্রত্যাবাসন কেন্দ্রে (রিটার্ন হাব) পাঠানোর সুযোগ থাকবে।সম্প্রতি প্রকাশিত রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউরোপে যেসব বিদেশিকে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়, তাদের একটি বড় অংশই বাস্তবে নিজ দেশে ফিরে যায় না। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং বহিষ্কার প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর করতে ইউরোপীয় কমিশন, ইউরোপীয় পার্লামেন্ট এবং সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে এই নতুন নীতিগত সমঝোতা হয়েছে।নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তির আশ্রয় আবেদন চূড়ান্তভাবে নাকচ হলে অথবা ইউরোপে অবস্থানের বৈধ অনুমতি না থাকলে সংশ্লিষ্ট দেশ তাকে সরাসরি বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। এক্ষেত্রে তাকে নিজ দেশে না পাঠিয়ে ইউরোপের বাইরে কোনো তৃতীয় দেশে স্থাপিত রিটার্ন হাব বা প্রত্যাবাসন কেন্দ্রে পাঠানো যাবে।এ ছাড়া নতুন ব্যবস্থায় সদস্য দেশগুলোর বহিষ্কার-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত পারস্পরিকভাবে স্বীকৃত হবে। ফলে এক দেশ থেকে পালিয়ে অন্য দেশে গিয়ে বহিষ্কার এড়ানোর সুযোগ অনেকটাই সীমিত হয়ে আসবে। ইতালি, ফ্রান্স, জার্মানি ও নেদারল্যান্ডসের মতো দেশগুলোতে অভিবাসন ইস্যুতে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ বাড়তে থাকায় ইউরোপীয় নেতারা এমন কঠোর অবস্থান গ্রহণ করছেন।ফ্রান্সসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বর্তমানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশি বসবাস করছেন। তাদের একটি বড় অংশ বৈধভাবে কর্মসংস্থান, ব্যবসা কিংবা শিক্ষার সাথে যুক্ত থাকলেও, অনেকেরই এখনো কাগজপত্র সংক্রান্ত জটিলতা রয়েছে কিংবা তারা আশ্রয় আবেদন (অ্যাসাইলাম) প্রক্রিয়ার মধ্যে আছেন।অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন নীতিমালা কার্যকর হলে যাদের আশ্রয় আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয়েছে বা যাদের বৈধ বসবাসের অনুমতি নেই, তারা আগের তুলনায় খুব দ্রুত প্রশাসনিক নজরদারি ও প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার আওতায় চলে আসবেন। ফলে ফ্রান্সসহ ইউরোপে অনিয়মিতভাবে অবস্থানকারী বাংলাদেশিদের জন্য ঝুঁকি ও উদ্বেগ আরও বাড়বে।এদিকে নতুন এই ব্যবস্থার তীব্র সমালোচনা করেছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন। তাদের মতে, তৃতীয় দেশে প্রত্যাবাসন কেন্দ্র স্থাপনের এই পরিকল্পনা অভিবাসীদের মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন করতে পারে। তবে ইউরোপীয় কমিশনের দাবি, যাদের ইউরোপে থাকার আইনগত ভিত্তি নেই, কেবল তাদের ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থাকে কার্যকর করতেই এই উদ্যোগ।
প্রকাশক : সাদিয়া নূর পূর্ণ
সম্পাদক : নাহিদ হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক নতুন আলো