প্রিন্ট এর তারিখ : ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৭ মার্চ ২০২৬
চাকরির পেছনে না ছুটে বরই চাষে বাজিমাত: বছরে ১২ লাখ টাকা লাভের স্বপ্ন দেখছেন দুই ভাই।
নাহিদ হোসেন , বিশেষ প্রতিনিধি ||
চাকরি নামক ‘সোনার হরিণ’ ধরতে না পেরে হতাশ হয়ে ঘরে বসে থাকেননি গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার ভেন্নাবাড়ি গ্রামের দুই ভাই প্রবীর বাকচি ও অপূর্ব বাকচি। পৈতৃক ও লিজ নেওয়া জমিতে উচ্চ ফলনশীল বরই চাষ করে আজ তারা জেলার কৃষি উদ্যোক্তাদের মধ্যে দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করেছেন। তাদের বাগানজুড়ে এখন দুলছে ভারত সুন্দরী, কাশ্মীরি আপেল আর বল সুন্দরীর মতো উন্নত জাতের বরই।
হার না মানা এক সংগ্রামের গল্প
মধ্যবিত্ত পরিবারের এই দুই ভাই অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে আজ এই অবস্থানে পৌঁছেছেন। বাবা কাপড় ব্যবসায়ী ছিলেন, অনেক কষ্টে ছেলেদের লেখাপড়া শিখিয়েছিলেন। কিন্তু চাকরির বয়সসীমা শেষ হয়ে যাওয়ায় বড় কোনো সুযোগ মেলেনি। এরপরই তারা সিদ্ধান্ত নেন কৃষির মাধ্যমে স্বাবলম্বী হওয়ার। ২০২০ সালে চুয়াডাঙ্গা থেকে চারা এনে শুরু করা এই উদ্যোগ আজ সাফল্যের মুখ দেখছে।
২২ বিঘার বিশাল বাগান ও বিশাল আয়
নিজেদের ১২ বিঘা এবং অন্যের ১০ বিঘা জমি লিজ নিয়ে মোট ২২ বিঘা জমিতে ফল চাষ শুরু করেন তারা। অপূর্ব বাকচি জানান:
“এ বছর প্রায় ৪০০ মণ বরই উৎপাদনের আশা করছি। এরই মধ্যে প্রায় ১০ লাখ টাকার বরই বিক্রি হয়েছে। আকারভেদে প্রতি কেজি ৫০ থেকে ২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। খরচ বাদে এবার প্রায় ১২ থেকে ১৩ লাখ টাকা লাভের সম্ভাবনা আছে।”
বাগানের পাশাপাশি একটি পুকুরে চিংড়িসহ বিভিন্ন মাছ এবং পুকুরপাড়ে সবজি চাষ করেও অতিরিক্ত আয়ের পথ বের করেছেন এই দুই উদ্যোক্তা।
আলোড়ন সৃষ্টি করেছে ‘বাংলার আপেল’
তাদের বাগানে এখন ৮০০টি ফলন্ত গাছ রয়েছে। ভারত সুন্দরী, কাশ্মীরি আপেল, বল সুন্দরী ও থাই আপেল জাতের বরইগুলো দেখতে যেমন সুন্দর, খেতেও তেমনি সুস্বাদু। স্থানীয় বাজারে এই বরইয়ের ব্যাপক চাহিদা থাকায় পাইকারি ব্যবসায়ীরা বাগান থেকেই তা কিনে নিচ্ছেন। তাদের এই অভাবনীয় সাফল্য দেখে শ্যামল কান্তি বিশ্বাস, বিমল বিশ্বাস ও পংকজ মন্ডলের মতো আশপাশের গ্রামের অনেক যুবক এখন বরই চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।
কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও সম্ভাবনা
গোপালগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. মামুনুর রহমান বলেন:
“প্রবীর ও অপূর্ব বাকচির এই উদ্যোগ স্থানীয় যুবকদের জন্য বড় একটি দৃষ্টান্ত। তাদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও উন্নত প্রযুক্তি দিয়ে সহযোগিতা করা হচ্ছে। বর্তমানে জেলায় প্রায় ৯০ হেক্টর জমিতে বরই চাষ হচ্ছে। পরিকল্পিতভাবে চাষ করলে এটি জেলার অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখবে।”
প্রবীর বাকচির মতে, চাকরির পেছনে ছুটে সময় নষ্ট না করে সঠিক পরিকল্পনা নিয়ে উদ্যোক্তা হতে পারলে যেকোনো বেকার যুবকই স্বাবলম্বী হতে পারেন।
প্রকাশক : সাদিয়া নূর পূর্ণ
সম্পাদক : নাহিদ হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক নতুন আলো