প্রিন্ট এর তারিখ : ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৩ জুন ২০২৬
৪৭ বছর পর বাবার খালে ছেলের ছোঁয়া! কক্সবাজারে পাতলী খালের পুনঃখনন করলেন প্রধানমন্ত্রী
বিশেষ প্রতিনিধি , চট্টগ্রাম ||
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবার পর্যটন নগরী কক্সবাজার সফরে এসেই এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সূচনা করলেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আজ শনিবার সকালে কক্সবাজারে পা রেখেই তিনি তাঁর পিতা, সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক পাতলী খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।আজ শনিবার (১৩ জুন) সকাল ৯টা ৪৮ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমানটি কক্সবাজার বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এরপর সকাল ১০টার দিকে তিনি বিমানবন্দরের ভিআইপি গেট দিয়ে বের হন।সকাল থেকেই কক্সবাজারে মুষলধারে বৃষ্টি হওয়া সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দর এলাকায় লাখো মানুষের ঢল নামে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহম্মদ, স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান। বৃষ্টি উপেক্ষা করে হাজার হাজার নেতাকর্মীকে রাস্তার দুপাশে দাঁড়িয়ে ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড হাতে স্লোগান দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানাতে দেখা যায়।কক্সবাজারের পিএমখালী এলাকায় অবস্থিত এই পাতলী খালটি বাংলাদেশের গ্রামীণ অর্থনীতি ও সেচ ব্যবস্থার এক ঐতিহাসিক সাক্ষী।ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: গ্রামীণ অর্থনীতি ও কৃষির আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্যে ১৯৭৭ সালে দেশব্যাপী ঐতিহাসিক খাল খনন কর্মসূচি চালু করেছিলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান।উদ্বোধন: তারই ধারাবাহিকতায় ১৯৭৯ সালের নভেম্বর মাসে জিয়াউর রহমান নিজেই এই পিএমখালীর পাতলী খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেছিলেন।বর্তমান উৎসবমুখর পরিবেশ: বাবার হাতে শুরু হওয়া সেই খালের আধুনিক রূপ ও পুনঃখনন কার্যক্রম আজ তাঁরই সুযোগ্য পুত্র প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত ধরে উদ্বোধন হওয়ায় পুরো পিএমখালী এলাকায় সকাল থেকেই এক উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ কক্সবাজার সদর উপজেলার স্মৃতি বিজড়িত পাতলী খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেছেন। ছবি: পিএমওকক্সবাজারের এই স্থানীয় উদ্যোগের পাশাপাশি দেশের সেচ ব্যবস্থা ও জলবদ্ধতা দূরীকরণে একটি সরকারি মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বর্তমান সরকার।পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ ও কৃষি মন্ত্রণালয় যৌথভাবে আগামী ৫ বছরে সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের একটি বৃহৎ জাতীয় কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। যার প্রথম দফায় চলতি বছরের জুন (২০২৬) পর্যন্ত ১ হাজার ২০৪ কিলোমিটার খাল খননের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে দ্রুত গতিতে কাজ এগিয়ে চলছে।মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শুধু খাল খননই নয়, পরিবেশ রক্ষায় খালের পাড় সংরক্ষণ, ব্যাপক বৃক্ষরোপণ এবং খালের জায়গা থেকে অবৈধ দখল উচ্ছেদেও প্রশাসনকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।দিনভর কক্সবাজারে বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় ও দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শেষে আজ রাতেই ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি নিয়মিত ফ্লাইটে ঢাকার উদ্দেশ্যে কক্সবাজার ত্যাগ করবেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রকাশক : সাদিয়া নূর পূর্ণ
সম্পাদক : নাহিদ হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক নতুন আলো