প্রিন্ট এর তারিখ : ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৫ জুন ২০২৬
গোপালগঞ্জে ১০ শয্যার আইসিইউ উদ্বোধন: ১০টি ভেন্টিলেটরের ৯টিই অকেজো, তদন্ত চাইলেন সংসদ সদস্য ডা. কে এম বাবর!
বিশেষ প্রতিনিধি , গোপালগঞ্জ ||
গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে বহুল প্রতীক্ষিত ১০ শয্যার আইসিইউ (ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট) ইউনিটের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। তবে উদ্বোধনের মাহেন্দ্রক্ষণেই প্রকাশ পেয়েছে এক চরম বিপর্যয়। আইসিইউ ইউনিটের জীবনরক্ষাকারী ১০টি ভেন্টিলেটরের মধ্যে মাত্র একটি সচল রয়েছে। বাকি ৯টি ভেন্টিলেটরই গুরুতর কারিগরি ত্রুটির কারণে অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে।গতকাল রোববার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ (ভিক্টোরিয়া) জেনারেল হাসপাতাল থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে গোপালগঞ্জসহ দেশের ১০টি জেলার এই ১০ শয্যার আইসিইউ ইউনিটের একযোগে শুভ উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।কেন্দ্রীয় এই প্রকল্পের আওতায় দেশের যেসব জেলা সদর ও জেনারেল হাসপাতালে ১০ শয্যার আইসিইউ ইউনিট চালু করা হয়েছে, সেগুলো হলো— গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল নারায়ণগঞ্জ সরকারি জেনারেল হাসপাতাল মুন্সীগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতাল টাঙ্গাইল ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতাল সুনামগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতাল চুয়াডাঙ্গা জেলা সদর হাসপাতাল যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল শেরপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতাল মাদারীপুর জেলা সদর হাসপাতাল বাগেরহাট জেলা সদর হাসপাতাল।গোপালগঞ্জ অংশে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন— গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. কে এম বাবর, সিভিল সার্জন ডা. আবু সাইদ মো. ফারুক, হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. জীবিতেশ বিশ্বাস এবং জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট রিহাব ইনামসহ বিভিন্ন দপ্তরের পদস্থ কর্মকর্তারা।উদ্বোধন শেষে ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করে গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. কে এম বাবর বলেন, ২০২০ সালে বরাদ্দ পাওয়া ভেন্টিলেটরগুলো দীর্ঘদিন ব্যবহার করা হয়নি। এগুলো অত্যন্ত নিম্নমানের হওয়ায় অধিকাংশ ইতিমধ্যে অকেজো হয়ে পড়েছে। গোপালগঞ্জে আইসিইউ ও ভেন্টিলেশন সেবা পূর্ণাঙ্গভাবে চালু না হওয়ায় রোগীরা দীর্ঘদিন ধরে এই জরুরি চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। সরকারি অর্থের এমন অপচয় ও গাফিলতির বিষয়টি উচ্চপর্যায়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. জীবিতেশ বিশ্বাস জানান, ২০২০ সালে এই আইসিইউ ইউনিটের সরঞ্জামগুলো ক্রয় করা হয়েছিল। বর্তমানে ১০টি ভেন্টিলেটরের মধ্যে মাত্র একটি সচল রয়েছে এবং বাকিগুলোর যান্ত্রিক ত্রুটি শনাক্ত করা গেছে। তবে আশার কথা হলো— আইসিইউ বেড, মনিটরসহ অন্যান্য যন্ত্রপাতি কার্যকর রয়েছে। অকেজো ভেন্টিলেটরগুলো দ্রুত মেরামতের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রকৌশল বিভাগের কাছে পাঠানো হয়েছে।তিনি আরও যোগ করেন, শুধুমাত্র যন্ত্রপাতির ত্রুটিই নয়, আইসিইউ ইউনিটটি সুচারুভাবে পরিচালনার জন্য হাসপাতালে প্রয়োজনীয় বিশেষায়িত জনবলেরও চরম ঘাটতি রয়েছে। তবে খুব দ্রুত জনবল বৃদ্ধি এবং যন্ত্রপাতি সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।গোপালগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. আবু সাইদ মো. ফারুক বলেন, ১০টি জেলায় একযোগে এই আইসিইউ ইউনিট উদ্বোধন করা হয়েছে এবং আমাদের এখানে ১০টি আইসিইউ বেড প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ভেন্টিলেটরগুলোর কারিগরি সমস্যা সমাধানে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং আশা করছি অল্প সময়ের মধ্যেই সেগুলো সচল করা সম্ভব হবে।
প্রকাশক : সাদিয়া নূর পূর্ণ
সম্পাদক : নাহিদ হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক নতুন আলো