প্রিন্ট এর তারিখ : ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২০ জুন ২০২৬
নীল খামের রহস্য
নাহিদ হোসেন ||
পর্ব ৩ : হারিয়ে যাওয়া উইলরাত তখন সাড়ে আটটা।আরিয়ান দ্রুত হাঁটছে। নীলা তার পাশে প্রায় দৌড়াচ্ছে। পিছনে তাকাতে সাহস হচ্ছে না।পুরনো রেলস্টেশনটা ধীরে ধীরে অন্ধকারে মিলিয়ে গেল।একটা নির্জন চায়ের দোকানের সামনে এসে আরিয়ান থামল। দোকান বন্ধ। চারপাশে কেউ নেই।নীলা হাঁপাতে হাঁপাতে বলল,— কে ছিল ওটা?আরিয়ান কিছুক্ষণ চুপ করে রইল।তারপর নিচু স্বরে বলল,— তুমি যাকে দেখেছো, তাকে কি চিনতে পেরেছো?নীলা ধীরে ধীরে মাথা নাড়ল।— হ্যাঁ। উনি আমাদের বাড়ির ম্যানেজার কাদের চাচা।— আর এটাই সবচেয়ে ভয়ের বিষয়।নীলার বুক ধক করে উঠল।— মানে?— কাদের সাহেব সাত বছর ধরে তোমাদের বাড়িতে কাজ করছেন, তাই না?— হ্যাঁ। বাবা মারা যাওয়ার পর থেকেই।— ভুল। তিনি তারও আগে থেকে তোমাদের পরিবারের সঙ্গে জড়িত।নীলা অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল।আরিয়ান ব্যাগ থেকে বাবার ডায়েরিটা বের করল।একটি পাতায় আঙুল রেখে বলল,— এটা পড়ো।পাতায় লেখা—আজ বাবার উইল নিয়ে আবার ঝামেলা হলো। করিম ভাই বলছে উইল নেই। কিন্তু আমি জানি, উইল আছে। আর কাদের সব জানে।নীলার হাত ঠান্ডা হয়ে গেল।— এটা বাবার লেখা?— হ্যাঁ।— কিন্তু চাচা তো কখনো এসব বলেননি!— কারণ হয়তো বললে অনেক কিছু বেরিয়ে আসত।ঠিক তখনই দূরে একটা মোটরসাইকেলের শব্দ শোনা গেল।আরিয়ান দ্রুত ডায়েরিটা ব্যাগে ঢুকিয়ে ফেলল।— আমাদের এখান থেকে যেতে হবে।— কিন্তু আমি কিছুই বুঝতে পারছি না!— বুঝবে। তবে ধীরে ধীরে।— আপনি আসলে কে?আরিয়ান প্রথমবার একটু হাসল।— আমি এমন একজন মানুষ, যার বাবার জীবনও তোমার বাবার সঙ্গে জড়িয়ে ছিল।— আপনার বাবা?— হ্যাঁ। আর সেই কারণেই আমি সাত বছর ধরে এই রহস্যের পেছনে ঘুরছি।নীলা বাড়ি ফিরল রাত দশটার দিকে।মা দরজা খুলেই বললেন,— এত দেরি হলো কেন?— বান্ধবীর বাড়িতে ছিলাম।মা কিছু বললেন না।কিন্তু নীলা লক্ষ্য করল, ড্রইংরুমে কাদের চাচা বসে আছেন।তিনি সাধারণত এত রাতে আসেন না।কাদের চাচা নীলার দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসলেন।— কেমন আছো মা?নীলার গলা শুকিয়ে গেল।— জি... ভালো।লোকটার চোখে আজ অদ্ভুত কিছু ছিল।যেন তিনি জানেন নীলা কোথায় গিয়েছিল।রাতে ঘুম আসছিল না।হঠাৎ তার মনে পড়ল বাবার পুরনো স্টাডি রুমের কথা।ঘরটা বহু বছর ধরে বন্ধ।চাবি মায়ের আলমারিতে থাকে।নীলা নিঃশব্দে চাবি নিয়ে ঘরটা খুলল।ধুলোর গন্ধ। পুরনো বই। কাঠের টেবিল।সবকিছু যেন বাবার অপেক্ষায় আছে।ড্রয়ারের ভেতর খুঁজতে খুঁজতে সে একটি লোহার ছোট বাক্স পেল।বাক্সটা তালাবদ্ধ নয়।ভেতরে কিছু কাগজ আর একটি হলুদ খাম।খামের ওপর বাবার হাতের লেখা—যদি আমার কিছু হয়, নীলা যেন এটা পড়ে।নীলার বুক কেঁপে উঠল।সে কাঁপা হাতে খাম খুলল।ভেতরে একটি চিঠি।প্রথম লাইন পড়েই তার মাথা ঝিমঝিম করে উঠল—নীলা, যদি তুমি এই চিঠি পড়ো, তাহলে বুঝবে আমি হয়তো আর বাড়ি ফিরতে পারিনি।আর সবচেয়ে বড় কথা— কাউকে বিশ্বাস করো না, বিশেষ করে...ঠিক তখনই ঘরের বাইরে কারও পায়ের শব্দ শোনা গেল।ধীরে ধীরে দরজার হাতল নড়ল।কেউ একজন বাইরে দাঁড়িয়ে আছে।
চলবে...
প্রকাশক : সাদিয়া নূর পূর্ণ
সম্পাদক : নাহিদ হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক নতুন আলো