প্রিন্ট এর তারিখ : ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২১ জুন ২০২৬
মুকসুদপুরে বিপুল পরিমাণ অবৈধ মাছ শিকারের উপকরণ জব্দ, পুড়িয়ে দিল প্রশাসন!
মোঃ ছিরু মিয়া , নির্বাহী সম্পাদক ||
গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে দেশীয় মৎস্য সম্পদ রক্ষায় এক বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়েছে। অবৈধভাবে মাছ শিকারে ব্যবহৃত ৩০০টি নিষিদ্ধ দোহার (মাছ ধরার উপকরণ) জব্দ করে প্রকাশ্য আগুনে পুড়িয়ে সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হয়েছে। আজ রবিবার (২১ জুন) সকাল ১১টার দিকে মুকসুদপুর থানার সামনে থেকে এই অবৈধ মালামালের চালানটি জব্দ করে মুকসুদপুর থানা পুলিশ।সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জব্দ হওয়া এই দোহারগুলো পাশের মাগুরা জেলা থেকে মুকসুদপুরে নিয়ে আসা হয়েছিল। পরবর্তীতে জব্দকৃত এসব নিষিদ্ধ উপকরণ মুকসুদপুরের সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো: আজিজুল ইসলামের কাছে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য হস্তান্তর করা হয়।থানার সামনে থেকে নিষিদ্ধ এই দোহারগুলো জব্দ করার পর বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ আবিরুল ইসলামকে অবহিত করা হয় এবং তিনি দেশের প্রচলিত মৎস্য আইন অনুযায়ী দেশীয় প্রজাতি সুরক্ষায় তিনি তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। তাঁর সুনির্দিষ্ট নির্দেশনায় জব্দকৃত মৎস্য ধ্বংসকারী ৩০০টি অবৈধ দোহার জনসম্মুখে আগুনে পুড়িয়ে সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হয়। মৎস্য বিভাগ ও স্থানীয় সূত্র থেকে জানা গেছে, ধ্বংস করা এই ৩০০টি নিষিদ্ধ দোহারের আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা।মৎস্য বিভাগ জানায়, বাঁশ ও জালের তৈরি এই বিশেষ উপকরণগুলো দেশের প্রচলিত মৎস্য আইন অনুযায়ী সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। বর্ষা ও প্রজনন মৌসুমে নদী-নালা, খাল-বিল বা যেকোনো উন্মুক্ত জলাশয়ে এগুলো ব্যবহারের ফলে দেশীয় মাছের স্বাভাবিক প্রজনন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। এই ফাঁদে রেণু পোনা ও মা মাছসহ সব ধরণের মাছ নির্বিচারে আটকে যায়, যা সামগ্রিক মৎস্য সম্পদের ওপর অত্যন্ত নেতিবাচক ও দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে।অনুসন্ধানে জানা গেছে, মাগুরা জেলা থেকে নিয়ে আসা এই অবৈধ দোহারগুলোর প্রকৃত মালিক মাগুরা জেলার মোহাম্মদপুর উপজেলার মুসা নামে এক ব্যক্তি। তবে অভিযান পরিচালনার সময় মূল অভিযুক্ত মুসাকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়নি। মালামাল পরিবহনের কাজে নিয়োজিত ভ্যানচালক আব্দুর রহমানকে আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদ করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। তবে ঘটনার সাথে সরাসরি বা ব্যবসায়িক সম্পৃক্ততা না থাকায় এবং কেবল ভাড়ায় পণ্য বহনের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ায় পরবর্তীতে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।উপজিলা মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, দেশের মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ, মাছের নিরাপদ ও প্রাকৃতিক প্রজনন নিশ্চিতকরণ এবং অবৈধ মাছ শিকার প্রতিরোধে এই ধরণের বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতেও নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।
প্রকাশক : সাদিয়া নূর পূর্ণ
সম্পাদক : নাহিদ হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক নতুন আলো