প্রিন্ট এর তারিখ : ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৮ জুন ২০২৬
ভাঙ্গায় মাদকবিরোধী সভা নিয়ে দুই পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, আহত অন্তত ২০
ফরিদপুর প্রতিনিধি ||
ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় মাদকবিরোধী সভাকে কেন্দ্র করে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে একই গ্রামের দুই পক্ষের মধ্যে ব্যাপক ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।আজ রোববার (২৮ জুন ২০২৬) সকাল থেকে উপজেলার হামিরদী ইউনিয়নের মহেশ্বরদী গ্রামে দফায় দফায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।এলাকাবাসী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মহেশ্বরদী এলাকার একটি পক্ষের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ছিরু মিয়া, কালাম কাজী, জাহিদ শেখ, মিরাজ মাতুব্বর ও বাকি মাতুব্বর। অপর পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন হামিরদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খোকন মিয়া, মোকসেদ খালাসী, ইলিয়াস মাতুব্বর ও বাদল মাতুব্বর।গত শুক্রবার মহেশ্বরদী গ্রামের কালাম কাজীর বাড়িতে প্রথম একটি মাদকবিরোধী সভা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর শনিবার হামিরদী ইউনিয়ন পরিষদে দ্বিতীয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য, এই সভা দুটিকে কেন্দ্র করেই দুই পক্ষের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি ও দ্বন্দের সৃষ্টি হয়।একটি পক্ষের দাবি, মাদককারবারিরা মাদকবিরোধী মিটিংয়ের নাম করে মূলত নিজেদের দল ভারী করার চেষ্টা করছে। অন্য পক্ষের দাবি, মাদকবিরোধী মিটিংয়ে কেন মাদকের সাথে জড়িত লোকেরাই হাজির হয়েছে—এই নিয়ে বিরোধ চরম আকার ধারণ করে। এর জেরে শনিবার সন্ধ্যায় সভা শেষে ছিরু মিয়ার পক্ষের লোকজন প্রতিপক্ষের সমর্থক দেলোয়ার মাতুব্বরের বাড়িতে হামলা চালিয়ে তাকে মারধর ও বাড়িঘর ভাঙচুর করে।শনিবারের হামলার জের ধরে আজ রোববার সকালে পুখুরিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় খোকন মিয়া চেয়ারম্যানের পক্ষের লোকজন ছিরু মিয়ার পক্ষকে ধাওয়া দেয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের শত শত মানুষ দেশীয় অস্ত্র, ঢাল, সরকি, টেঁটা, তলোয়ার এবং ইট-পাটকেল নিয়ে প্রকাশ্য সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হন। এদের মধ্যে গুরুতর আহত আকতার মাতুব্বর, রিয়াদ মাতুব্বর ও মামুন মাতুব্বরকে উদ্ধার করে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। বাকি আহতদের স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।হামিরদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খোকন মিয়া বলেন, মাদকবিরোধী সভায় অংশ নেওয়ায় দেলোয়ার মাতুব্বরের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর করা হয়েছে। অন্যায়ভাবে এই হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করেই পরবর্তীতে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়।অন্যদিকে পাল্টা দাবি করে ছিরু মিয়া বলেন, মাদকবিরোধী সভার নামে খোকন চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে মূলত চিহ্নিত মাদককারবারিদের একত্রিত করা হয়েছে। আমরা এর প্রতিবাদ করায় তারা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটিয়েছে।ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। নতুন করে সংঘাত এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কড়া নজরদারিতে কাজ করছে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
প্রকাশক : সাদিয়া নূর পূর্ণ
সম্পাদক : নাহিদ হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক নতুন আলো