প্রিন্ট এর তারিখ : ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৭ মার্চ ২০২৬
পদ্মাপাড়ের ঢালার চর: নদী ও মানুষের টিকে থাকার অনন্য এক উপাখ্যান।
নাহিদ হোসেন , বিশেষ প্রতিনিধি ||
পদ্মার বিশাল জলরাশির মাঝে জেগে ওঠা এক বিস্তৃত জনপদ ‘ঢালার চর’। পাবনার বেড়া উপজেলার একেবারে শেষ প্রান্তে অবস্থিত এই চরটি একদিকে যেমন তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে মুগ্ধ করে, অন্যদিকে তেমনি প্রতিকূল পরিবেশের সঙ্গে মানুষের লড়াইয়ের গল্প শোনায়। নদীমাতৃক বাংলাদেশের সার্থক রূপ দেখতে হলে ঢালার চরের চেয়ে ভালো উদাহরণ আর হতে পারে না।
চরের জীবন ও সংগ্রাম
পদ্মার ঢেউয়ের সঙ্গে যুদ্ধ করেই এখানে জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত কাটাতে হয় স্থানীয়দের। ঢালার চরের মানুষের প্রধান জীবিকা কৃষি ও মাছ ধরা। চরের উর্বর পলি মাটিতে ফলে সোনালি ফসল, আর নদী থেকে আহরিত মাছে মেটে তাদের আমিষের চাহিদা। তবে বর্ষাকালে নদী যখন ফুঁসে ওঠে, তখন শুরু হয় ভাঙনের আতঙ্ক। ঘরবাড়ি আর স্বপ্নগুলো নিমেষেই বিলীন হয়ে যায় উত্তাল পদ্মায়। তবুও মাটি কামড়ে পড়ে থাকা এখানকার মানুষের অদম্য সাহস অবাক করার মতো।
এক দুর্গম স্বর্গ
প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য ঢালার চর এক দুর্গম স্বর্গের মতো। মাইলের পর মাইল বিস্তৃত বালুচর, নদীর বুক চিরে বয়ে চলা নৌকা আর গোধূলি বেলায় পদ্মার পানিতে সূর্যের শেষ আভার প্রতিফলন—সব মিলিয়ে এক অপার্থিব দৃশ্য তৈরি হয় এখানে। শীতকালে পরিযায়ী পাখিদের কলকাকলিতে মুখরিত থাকে পুরো চর এলাকা। তবে পর্যটনের আধুনিক কোনো সুযোগ-সুবিধা না থাকলেও, রোমাঞ্চপ্রিয় মানুষজন প্রায়ই এখানে ছুটে আসেন চরের অকৃত্রিম জীবন দেখতে।
যোগাযোগ ও উন্নয়ন
একটা সময় ঢালার চরকে বলা হতো ‘বিচ্ছিন্ন দ্বীপ’। যোগাযোগ ব্যবস্থা অত্যন্ত দুর্গম হওয়ায় এখানকার মানুষ আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিল। তবে বর্তমান সময়ে সরকারের নানামুখী উদ্যোগে পরিস্থিতি কিছুটা বদলাতে শুরু করেছে। রেললাইন সংযোগ এবং প্রশাসনিক নজরদারি বাড়ায় ঢালার চর এখন আর আগের মতো অবহেলিত নয়। তবুও স্বাস্থ্য ও উন্নত শিক্ষার ক্ষেত্রে এখানকার মানুষকে এখনো অনেকটা পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে।
কেন যাবেন ঢালার চরে?
নদীর বিশালতা যারা ভালোবাসেন, তাদের জন্য ঢালার চর এক রোমাঞ্চকর গন্তব্য। ট্রলারে করে পদ্মা পাড়ি দিয়ে যখন আপনি জনহীন চরে পা রাখবেন, মনে হবে যান্ত্রিক শহর থেকে বহুদূরের কোনো এক অন্য জগতে পৌঁছে গেছেন। এখানকার মানুষের সহজ-সরল জীবনযাপন এবং আতিথেয়তা আপনার ভ্রমণের ক্লান্তি ভুলিয়ে দেবে।
https://www.youtube.com/watch?v=lbu0kq00kUw
প্রকাশক : সাদিয়া নূর পূর্ণ
সম্পাদক : নাহিদ হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক নতুন আলো