প্রিন্ট এর তারিখ : ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৯ জুন ২০২৬
মুকসুদপুর পৌরসভার নতুন বাজেট ঘোষণা: গুরুত্ব পাচ্ছে নাগরিক সুবিধা ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা
নাহিদ হোসেন , বিশেষ প্রতিনিধি ||
নাগরিক সেবার মানোন্নয়ন, বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা নিরসন এবং দীর্ঘদিনের অবকাঠামোগত সমস্যা সমাধানের মহাপরিকল্পনা নিয়ে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর পৌরসভায় ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। নতুন এই বাজেটে পৌরসভার সার্বিক চেহারা বদলে দিতে উন্নয়ন খাতে ২৬ কোটি ২০ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে।পৌরসভা কার্যালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ বাজেট সভায় এই প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন মুকসুদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক মাহমুদ আশিক কবির। পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা এ এইচ এম রফিকুল ইসলামের সঞ্চালনায় সভায় উপস্থিত কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সংবাদকর্মীরা বাজেটের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনায় অংশ নেন।ঘোষিত বাজেটে ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জন্য মোট সম্ভাব্য রাজস্ব আয় ধরা হয়েছে ৩ কোটি ৭৪ লক্ষ ৩৪ হাজার টাকা। বিপরীতে সম্ভাব্য রাজস্ব ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ কোটি ৬৩ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা।ছবি : সংগৃহীতবাজেটের ওপর গুরুত্বারোপ করে বক্তব্য রাখেন মুকসুদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রায়হান ইসলাম শোভন,মুকসুদপুর পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী সদানন্দন রায়, মুকসুদপুর প্রেসক্লাবের উপদেষ্টা ফরিদ মিয়া, মুকসুদপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুস সালাম খান এবং সাধারণ সম্পাদক তারিকুল ইসলাম রাজু। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রকৌশলী মাহমুদুল হাসান, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা রাকিবুল হাসান শুভ, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা সায়াদ উদ্দিন আহমেদ, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এম এন নাইম, উপজেলা দারিদ্র্য বিমোচন কর্মকর্তা জাকিয়া রহমান, মুকসুদপুর পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মোয়াজ্জেম হোসেন মিন্টু, মুকসুদপুর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান মিন্টু এবং মুকসুদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ ছিরু মিয়া প্রমুখ।সভায় পৌর এলাকার মূল সংকটগুলো নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হয়। বক্তারা তীব্র পানিসংকট, বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে পাম্প চালু রাখতে বিঘ্ন ঘটা এবং শহরের অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কথা তুলে ধরেন। বিশেষ করে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে যাতে কোনোভাবেই শহরে জলাবদ্ধতা তৈরি না হয়, সেজন্য জরুরি ভিত্তিতে পুরাতন ড্রেন সংস্কার এবং নতুন ড্রেন নির্মাণের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।সভাপতির বক্তব্যে পৌর প্রশাসক মাহমুদ আশিক কবির সংশ্লিষ্ট সকল বিভাগকে উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর কাজ দ্রুত শেষ করার তাগিদ দেন। একই সাথে পৌরসভার নিজস্ব আয় বা রাজস্ব আদায়ের পরিধি বাড়ানোর নির্দেশনা দিয়ে তিনি বলেন, পৌরসভাকে শতভাগ নাগরিক বান্ধব করতে ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা জোরদার করা হবে।নাগরিকদের সেবা প্রাপ্তি সহজ করতে পৌর ভবনের দৃশ্যমান স্থানে সিটিজেন চার্টার স্থাপন এবং সাধারণ মানুষের ক্ষোভ বা পরামর্শ দ্রুত আমলে নিতে একটি কার্যকর অভিযোগ ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম চালুর সিদ্ধান্ত নিয়ে সভা শেষ হয়।
প্রকাশক : সাদিয়া নূর পূর্ণ
সম্পাদক : নাহিদ হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক নতুন আলো