প্রিন্ট এর তারিখ : ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৫ জুলাই ২০২৬
মালয়েশিয়ায় এমবিএফএ-এর ঈদ পুনর্মিলনী ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা সম্পন্ন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক ||
হাজার মাইল দূরে প্রবাসজীবনের ব্যস্ততার মাঝেও বাংলা ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের বন্ধন অটুট রাখতে এবং নতুন প্রজন্মের কাছে শেকড়ের পরিচয় পৌঁছে দেওয়ার প্রত্যয়ে মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশ ফোরাম অ্যাসোসিয়েশন (এমবিএফএ)-এর ফ্যামিলি ঈদ ডিনার ও কালচারাল নাইট। পরিবার-পরিজনের অংশগ্রহণ, শিশু-কিশোরদের মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের মিলনমেলায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো আয়োজন।গত শনিবার (৪ জুলাই) রাজধানী কুয়ালালামপুরের বুকিত কিয়ারার কুয়েস্ট্রেইন রিসোর্টে বীরজায়া হলে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত এই উৎসবমুখর অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশনের মিনিস্টার (লেবার) সিদ্দিকুর রহমান।এমবিএফএ-এর সাংগঠনিক সম্পাদক জাফর ফিরোজ ও অপূর্ব মোহনার যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি প্রফেসর ড. জাহাঙ্গীর আলম। স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের সাবেক সভাপতি প্রফেসর ডা. আবুল বাশার। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার বিভিন্ন অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, কূটনীতিক, কমিউনিটি নেতা, ব্যবসায়ী, পেশাজীবী ও বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি সপরিবারে অংশ নেন।পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন এমবিএফএ-এর আর্ট, কালচার অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ প্রোগ্রাম (এসিএলপি)-এর শিক্ষার্থী মোহাম্মদ রাহেব আল আলম। পরে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। নতুন সদস্য পরিচিতি, প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখা ব্যক্তিদের সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলে।প্রধান অতিথির বক্তব্যে মিনিস্টার (লেবার) সিদ্দিকুর রহমান বলেন, বিদেশে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের মধ্যে বাংলা ভাষা, শিল্প ও সংস্কৃতির চর্চা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রবাসে জন্ম নেওয়া শিশুদের মাতৃভাষা ও সাংস্কৃতিক পরিচয় ধরে রাখতে এ ধরনের উদ্যোগ কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। তিনি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে বাংলাদেশের ঐতিহ্যকে পৌঁছে দিতে সাংস্কৃতিক কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার পাশাপাশি প্রবাসীদের কল্যাণে সংগঠনের ভূমিকা জোরদারের আহ্বান জানান।সভাপতির বক্তব্যে প্রফেসর ড. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এই সফল আয়োজন প্রমাণ করেছে যে প্রবাসে বসবাসরত বাংলাদেশিরা ঐক্য, সহযোগিতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী কমিউনিটি গড়ে তুলতে সক্ষম। ভবিষ্যতেও এমবিএফএ বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার বন্ধুত্ব এবং সাংস্কৃতিক বিনিময় অব্যাহত রাখবে বলে তিনি প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল সাংস্কৃতিক পর্ব। বাংলাদেশি ও মালয়েশিয়ান শিল্পী পুয়ান শ্রী আইশা এবং চিক পুয়ান হানিমের পরিবেশনা দর্শকদের মুগ্ধ করে। পাশাপাশি এসিএলপি-এর শিশু-কিশোর শিক্ষার্থীদের গান, নৃত্য ও আবৃত্তিতে ফুটে ওঠে বাংলা লোকসংস্কৃতির নানা অনুষঙ্গ। সবশেষে ইঞ্জিনিয়ার রনি মিনহাজের পরিচালনায় একটি আকর্ষণীয় র্যাফেল ড্র, পারিবারিক আড্ডা এবং নৈশভোজের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।২০১৪ সালে প্রতিষ্ঠিত মালয়েশিয়ার রেজিস্ট্রার অব সোসাইটিজ (আরওএস)-এর অধীনে নিবন্ধিত অরাজনৈতিক ও ধর্মনিরপেক্ষ সংগঠন এমবিএফএ বর্তমানে প্রবাসীদের অন্যতম বৃহৎ প্ল্যাটফর্ম। প্রবাসে জন্ম নেওয়া নতুন প্রজন্মকে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে ২০১৯ সালের নভেম্বরে কুয়ালালামপুরে চালু করা হয় আর্ট, কালচার অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ প্রোগ্রাম (এসিএলপি)। সংগীত, নৃত্য ও বাংলা ভাষা শিক্ষার সমন্বয়ে পরিচালিত এ কর্মসূচির মাধ্যমে শিশু-কিশোরদের শেকড়ের সন্ধান দেওয়ার কাজ সফলভাবে চলছে।
প্রকাশক : সাদিয়া নূর পূর্ণ
সম্পাদক : নাহিদ হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক নতুন আলো