মুকসুদপুর    বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
দৈনিক নতুন আলো

কৃষি

বালিয়াকান্দিতে আগাম ফুলকপিতে ভয়াবহ পচন রোগ, মারাত্মক ক্ষতির মুখে চাষিরা

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলায় আগাম জাতের শীতকালীন ফুলকপি ক্ষেতে ভয়াবহ পচন রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। ক্ষেতের পর ক্ষেত কপির গাছ ও মূল ফুল নষ্ট হয়ে যাওয়ায় চরম দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্থানীয় চাষিরা। পচন রোধে বাজার থেকে সংগৃহীত বিভিন্ন ধরনের কীটনাশক ও ছত্রাকনাশক প্রয়োগ করেও কোনো ইতিবাচক প্রতিকার পাচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী কৃষকেরা।উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে বালিয়াকান্দিতে প্রায় ৩০০ হেক্টর জমিতে আগাম শীতকালীন নানা পদের সবজির আবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে শুধু আগাম জাতের ফুলকপির চাষই হয়েছে প্রায় ২০০ হেক্টর জমিতে।আজ মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর ২০২৬) সকালে উপজেলার জামালপুর ও বহরপুর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ মাঠ ঘুরে দেখা যায়, সবজি ক্ষেতজুড়ে কপির ভালো ফলন হলেও পচনের কারণে কৃষকের মুখে হাসি নেই। কপির উপরিভাগে প্রথমে বাদামি রঙের ছোট গোলাকার ক্ষত দেখা দিচ্ছে, যা পরবর্তীতে দ্রুত কপির ভেতরের অংশে ছড়িয়ে পড়ছে। একই সঙ্গে কপির পাতাতেও পচন ধরে পুরো গাছটি দুই-তিন দিনের মধ্যে হেলে পড়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বাধ্য হয়ে অনেক কৃষক জমি থেকে আক্রান্ত নষ্ট কপি গাছ উপড়ে ফেলে দিচ্ছেন।জামালপুর ইউনিয়নের গুপ্তলক্ষ্মণদিয়া গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মো. রেজোয়ান মোল্লা জানান, অধিক লাভের আশায় তিনি ২০ শতাংশ জমিতে আগাম কপির আবাদ করেছিলেন। তবে কপি বাজারে তোলার উপযোগী হওয়ার ঠিক মুখেই পচন দেখা দেয়। ইতোমধ্যে তাঁর ক্ষেতের প্রায় ৭০ শতাংশ কপি সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। অন্য এক কৃষক ব্রজেন বিশ্বাস ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, চড়া দামে সার ও কীটনাশক কিনে আবাদ করলেও পচনের হাত থেকে কপি রক্ষা করা যাচ্ছে না।এদিকে নদীয়ার চাঁদ বিশ্বাস নামের অপর এক কৃষক অভিযোগ করে বলেন, গত দুই সপ্তাহ ধরে এই রোগের প্রকোপ দেখা গেলেও মাঠপর্যায়ে কৃষি উপ-সহকারী কর্মকর্তাদের তেমন কোনো তৎপরতা বা পরামর্শ পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি বাজারে বিক্রি হওয়া নিম্নমানের ও ভেজাল কীটনাশক ব্যবহারের ফলেও কৃষকেরা চরম প্রতারণার শিকার হচ্ছেন।[TECHTARANGA-POST:1345]কৃষকদের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বালিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রতন কুমার ঘোষ জানান, আগাম ফুলকপিতে ছত্রাকজনিত পচন রোগের বিষয়টি তাঁদের নজরে এসেছে। দ্রুত রোগ নিয়ন্ত্রণ ও ক্ষতি কমানোর জন্য মাঠপর্যায়ে চাষিদের সঠিক সুষম সার ও অনুমোদিত ওষুধ ব্যবহারের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

বালিয়াকান্দিতে আগাম ফুলকপিতে ভয়াবহ পচন রোগ, মারাত্মক ক্ষতির মুখে চাষিরা