রাজধানীর সড়কে ব্যাটারিচালিত রিকশার দাপট: যানজট ও নিরাপত্তাহীনতায় স্থবির নগর জীবন
রাজধানী ঢাকার অলিগলি পেরিয়ে প্রধান প্রধান সড়কে ব্যাটারিচালিত রিকশার বেপরোয়া চলাচল এখন পুরো নগর ব্যবস্থাপনার জন্য এক বিরাট সংকট ও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ট্রাফিক আইন অমান্য, উল্টো পথে দ্রুতগতিতে চলাচল, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং এবং অদক্ষ চালকদের বেপরোয়া মনোভাবের কারণে প্রতিদিন ঘটছে ছোট-বড় একাধিক দুর্ঘটনা, একই সঙ্গে অচল হয়ে পড়ছে নগরের স্বাভাবিক ট্রাফিক ব্যবস্থা।মিরপুর, মোহাম্মদপুর, উত্তরা, খিলক্ষেত ও পুরান ঢাকাসহ রাজধানীর প্রায় প্রতিটি এলাকাতেই এখন ত্রাস সৃষ্টি করছে ‘বাংলার টেসলা’ নামে পরিচিত এই তিন চাকার যানবাহনগুলো। পরিবহন বিশেষজ্ঞদের মতে, পর্যাপ্ত ও সুনির্দিষ্ট তথ্যভাণ্ডার না থাকলেও বর্তমানে রাজধানীতে প্রায় ১০ লক্ষাধিক ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল করছে। এসব যানকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে হাজার হাজার অবৈধ গ্যারেজ, ব্যাটারি বিক্রির দোকান ও অননুমোদিত চার্জিং পয়েন্টের এক বিশাল অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতি। ডিএমপির তথ্য অনুযায়ী, নগরীর আটটি অপরাধ বিভাগে অন্তত ৪৮ হাজার ১৩৬টি অবৈধ চার্জিং পয়েন্ট এবং প্রায় এক হাজার অবৈধ গ্যারেজের সন্ধান পাওয়া গেছে, যা বিদ্যুতের অবৈধ ব্যবহারসহ বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকিতে ফেলছে পুরো শহরকে।এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিসুর রহমান স্পষ্ট জানান, প্রধান সড়কগুলোতে এই অবৈধ যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ করতে নিয়মিত অভিযান পরিচালিত হচ্ছে এবং ট্রাফিক বিভাগের পক্ষ থেকে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অবলম্বন করা হচ্ছে। অন্যদিকে, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানিয়েছেন, ব্যাটারিচালিত রিকশার সুনির্দিষ্ট নিবন্ধন, কারিগরি ফিটনেস সনদ, নিরাপদ নকশা যাচাইকরণ এবং গ্যারেজ ও চার্জিং পয়েন্ট পরিচালনার জন্য একটি সমন্বিত নীতিমালার চূড়ান্ত কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় বুয়েটসহ বিভিন্ন প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে নিরাপদ যানবাহনের নকশা অনুমোদন এবং সিটি করপোরেশনের মাধ্যমে কিউআর কোডযুক্ত নিবন্ধনের পরিকল্পনা রাখা হয়েছে।[TECHTARANGA-POST:1374]বুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মো. এহসান এবং বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজম্মেল হক চৌধুরীর মতো বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, কেবল সড়কে রিকশা আটক কিংবা সাময়িক অভিযান চালিয়ে এই সংকটের দীর্ঘমেয়াদি সমাধান করা সম্ভব নয়। তারা জানান, বিকল্প নিরাপদ নকশা তৈরি, উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে মোটর সরবরাহকারী ও গ্যারেজ মালিকদেরও কঠোর আইনি নজরদারি ও নিবন্ধনের আওতায় আনতে হবে। পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল ডেটাবেজ, দক্ষ চালক তৈরি এবং নিরাপদ চার্জিং অবকাঠামো গড়ে তোলার মাধ্যমে সমন্বিত তদারকি নিশ্চিত করা না গেলে সড়ক নিরাপত্তা অর্জিত হবে না।