মরার পরে চাইনি ওরে অমর হতে/ অমর হব আঁখির তব সুধার স্রোতে—কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ক্ষণিকা কাব্যগ্রন্থের এমন অসংখ্য কালোত্তীর্ণ সৃষ্টির মধ্য দিয়ে ঘুরেফিরে আসে শ্রাবণের চিরন্তন রূপ ও জীবনের গভীর উপলব্ধি। শ্রাবণের সেই প্রকৃতি, সৌন্দর্য ও আবেগের অনন্য আবহকে সুরের মূর্ছনায় রাঙিয়ে তুলতে আজ শনিবার (১৮ জুলাই) সন্ধ্যায় ঢাকার ইন্দিরা গান্ধী কালচারাল সেন্টার (আইজিসিসি) আয়োজন করল বর্ষাকালীন সংগীত সন্ধ্যা শ্রাবণ সন্ধ্যা।
রাজধানীর বারিধারায় ভারতের হাইকমিশনের মাল্টিপারপাস (এমপি) হল রুমে এই বিশেষ অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়। কবিগুরুর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে আয়োজিত এই সংগীত সন্ধ্যায় উপস্থিত ছিলেন ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীসহ হাইকমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এ ছাড়া দুই দেশের প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী, কবি, লেখক, সাহিত্যিক, অভিনয়শিল্পী, চিত্রশিল্পী, বিভিন্ন দৈনিকের সম্পাদক এবং জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকসহ নানা শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ অনুষ্ঠানে অংশ নেন। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন ইন্দিরা গান্ধী কালচারাল সেন্টারের সমন্বয়ক খোকন চন্দ্র দাস।
আয়োজকেরা জানান, এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বাঙালি সাহিত্য ও সংগীত ঐতিহ্যে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ শ্রাবণ মাস তথা বর্ষা ঋতুকে উদযাপন করা হয়েছে—যা কবি ও শিল্পীদের চিরকালই অনুপ্রাণিত করে এসেছে। যত্নসহকারে নির্বাচিত গানের মধ্য দিয়ে এই সন্ধ্যায় বর্ষা ঋতুর মূল সুর এবং ভারত ও বাংলাদেশের যৌথ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে এর স্থায়ী স্থানকে তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে হিন্দুস্তানি শাস্ত্রীয় সংগীত পরিবেশন করেন বাংলাদেশের বিশিষ্ট শিল্পী ও সংগীত গুরু অনিল কুমার সাহা এবং অলোক কুমার সেন। হিন্দুস্তানি শাস্ত্রীয় সংগীতে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য সুপরিচিত অনিল কুমার সাহা দেশে-বিদেশে ব্যাপকভাবে সংগীত পরিবেশন করে প্রশংসা কুড়িয়েছেন।
এরপর মঞ্চে আসেন প্রখ্যাত রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী, গবেষক ও শিক্ষাবিদ ড. চঞ্চল খান। কবিগুরুর গানের হৃদয়স্পর্শী পরিবেশনার জন্য সমাদৃত এই শিল্পী বর্ষা-কেন্দ্রিক বাংলা ও হিন্দি গানের এক মনোমুগ্ধকর সমাহার উপহার দেন। ১৩২৯ বঙ্গাব্দের ২২ শ্রাবণ শান্তিনিকেতনে অনুষ্ঠিত বর্ষামঙ্গলে রবীন্দ্রনাথের যে ৯টি নতুন গান পরিবেশিত হয়েছিল, তার মধ্য থেকে কয়েকটি গান এই শ্রাবণ সন্ধ্যায় পরিবেশন করা হয়। এই পরিবেশনাটি দর্শক-শ্রোতাদের এক অনন্য সংগীত-অভিজ্ঞতা উপহার দেয়, যা বর্ষাকালের রূপ ফুটিয়ে তোলার পাশাপাশি দুই দেশের জনগণকে সংযুক্তকারী যৌথ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকেও উদযাপন করে।
বাঙালি জীবনে শ্রাবণ ও রবীন্দ্রনাথ ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ১৯০৫ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ) কলকাতার টাউন হলের এক প্রতিবাদ সভায় প্রথম গাওয়া হয়েছিল ‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি’ গানটি, যা পরবর্তীতে বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতের মর্যাদা পায়। আবার ১৯৩৭ সাল থেকে দীর্ঘকালীন অসুস্থতার পর ১৩৪৮ সনের এই ২২ শ্রাবণেই কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়িতে লোকান্তরিত হন বিশ্বকবি। তাঁর সেই মহাপ্রয়াণ ও সৃষ্টির স্মৃতিকে ধারণ করেই সুরের ধারায় শেষ হয় এই শ্রাবণ সন্ধ্যা।

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ জুলাই ২০২৬
মরার পরে চাইনি ওরে অমর হতে/ অমর হব আঁখির তব সুধার স্রোতে—কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ক্ষণিকা কাব্যগ্রন্থের এমন অসংখ্য কালোত্তীর্ণ সৃষ্টির মধ্য দিয়ে ঘুরেফিরে আসে শ্রাবণের চিরন্তন রূপ ও জীবনের গভীর উপলব্ধি। শ্রাবণের সেই প্রকৃতি, সৌন্দর্য ও আবেগের অনন্য আবহকে সুরের মূর্ছনায় রাঙিয়ে তুলতে আজ শনিবার (১৮ জুলাই) সন্ধ্যায় ঢাকার ইন্দিরা গান্ধী কালচারাল সেন্টার (আইজিসিসি) আয়োজন করল বর্ষাকালীন সংগীত সন্ধ্যা শ্রাবণ সন্ধ্যা।
রাজধানীর বারিধারায় ভারতের হাইকমিশনের মাল্টিপারপাস (এমপি) হল রুমে এই বিশেষ অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়। কবিগুরুর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে আয়োজিত এই সংগীত সন্ধ্যায় উপস্থিত ছিলেন ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীসহ হাইকমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এ ছাড়া দুই দেশের প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী, কবি, লেখক, সাহিত্যিক, অভিনয়শিল্পী, চিত্রশিল্পী, বিভিন্ন দৈনিকের সম্পাদক এবং জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকসহ নানা শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ অনুষ্ঠানে অংশ নেন। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন ইন্দিরা গান্ধী কালচারাল সেন্টারের সমন্বয়ক খোকন চন্দ্র দাস।
আয়োজকেরা জানান, এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বাঙালি সাহিত্য ও সংগীত ঐতিহ্যে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ শ্রাবণ মাস তথা বর্ষা ঋতুকে উদযাপন করা হয়েছে—যা কবি ও শিল্পীদের চিরকালই অনুপ্রাণিত করে এসেছে। যত্নসহকারে নির্বাচিত গানের মধ্য দিয়ে এই সন্ধ্যায় বর্ষা ঋতুর মূল সুর এবং ভারত ও বাংলাদেশের যৌথ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে এর স্থায়ী স্থানকে তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে হিন্দুস্তানি শাস্ত্রীয় সংগীত পরিবেশন করেন বাংলাদেশের বিশিষ্ট শিল্পী ও সংগীত গুরু অনিল কুমার সাহা এবং অলোক কুমার সেন। হিন্দুস্তানি শাস্ত্রীয় সংগীতে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য সুপরিচিত অনিল কুমার সাহা দেশে-বিদেশে ব্যাপকভাবে সংগীত পরিবেশন করে প্রশংসা কুড়িয়েছেন।
এরপর মঞ্চে আসেন প্রখ্যাত রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী, গবেষক ও শিক্ষাবিদ ড. চঞ্চল খান। কবিগুরুর গানের হৃদয়স্পর্শী পরিবেশনার জন্য সমাদৃত এই শিল্পী বর্ষা-কেন্দ্রিক বাংলা ও হিন্দি গানের এক মনোমুগ্ধকর সমাহার উপহার দেন। ১৩২৯ বঙ্গাব্দের ২২ শ্রাবণ শান্তিনিকেতনে অনুষ্ঠিত বর্ষামঙ্গলে রবীন্দ্রনাথের যে ৯টি নতুন গান পরিবেশিত হয়েছিল, তার মধ্য থেকে কয়েকটি গান এই শ্রাবণ সন্ধ্যায় পরিবেশন করা হয়। এই পরিবেশনাটি দর্শক-শ্রোতাদের এক অনন্য সংগীত-অভিজ্ঞতা উপহার দেয়, যা বর্ষাকালের রূপ ফুটিয়ে তোলার পাশাপাশি দুই দেশের জনগণকে সংযুক্তকারী যৌথ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকেও উদযাপন করে।
বাঙালি জীবনে শ্রাবণ ও রবীন্দ্রনাথ ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ১৯০৫ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ) কলকাতার টাউন হলের এক প্রতিবাদ সভায় প্রথম গাওয়া হয়েছিল ‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি’ গানটি, যা পরবর্তীতে বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতের মর্যাদা পায়। আবার ১৯৩৭ সাল থেকে দীর্ঘকালীন অসুস্থতার পর ১৩৪৮ সনের এই ২২ শ্রাবণেই কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়িতে লোকান্তরিত হন বিশ্বকবি। তাঁর সেই মহাপ্রয়াণ ও সৃষ্টির স্মৃতিকে ধারণ করেই সুরের ধারায় শেষ হয় এই শ্রাবণ সন্ধ্যা।

আপনার মতামত লিখুন