বর্ষাকাল মানেই হাওরাঞ্চলের এক অপরূপ রূপ রূপান্তর। আর এই সময়ে মেঘালয়ের পাদদেশে অবস্থিত সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওর ধারণ করে তার সবচেয়ে মোহনীয় ও নির্মল সৌন্দর্য। থৈ থৈ স্বচ্ছ জলরাশি, হিজল-করচের বন, বিকেলের নীলাদ্রি লেক কিংবা জাদুকাটা নদীর পাড়ে পাহাড়ের মেলবন্ধন—সব মিলিয়ে বর্ষায় প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্য এই হাওর।
পর্যটকদের জন্য টাঙ্গুয়ার হাওর ও এর আশেপাশের দর্শনীয় স্থানগুলো ভ্রমণের খুঁটিনাটি তথ্য, রুট এবং সতর্কতা নিয়ে নিচে একটি পূর্ণাঙ্গ গাইড তুলে ধরা হলো:

শিমুল বাগান। ছবি : সংগৃহীত
টাঙ্গুয়ার হাওর ও ওয়াচ টাওয়ার : হাওরের বিস্তীর্ণ জলরাশির মাঝে বলাই নদীর তীরে দাঁড়িয়ে আছে ওয়াচ টাওয়ার। হিজল বনের মধ্য দিয়ে ছোট নৌকায় ঘুরে বেড়ানো এবং স্বচ্ছ পানিতে গোসল করার চমৎকার অভিজ্ঞতা মেলে এখানে।
২. নীলাদ্রি লেক (শহীদ সিরাজ লেক) : টেকেরঘাট সীমান্তে অবস্থিত এই লেকের নীল পানি ও পেছনে ভারতের মেঘালয় পাহাড়ের টিলাগুলো স্থানটিকে ছবির মতো সুন্দর করে তুলেছে।
লাকমা ছড়া : মেঘালয় পাহাড় থেকে নেমে আসা শীতল পানির ঝরনা ও ছড়া। সীমান্তঘেঁষা এই স্থানে দাঁড়িয়ে পাহাড়ের শীতল হাওয়া ও স্বচ্ছ পানির ছোঁয়া পাওয়া যায়।
জাদুকাটা নদী ও বারিক্কা টিলা : স্বচ্ছ পানির জাদুকাটা নদী এবং তার পাশেই অবস্থিত উঁচু বারিক্কা টিলা। টিলার ওপর থেকে এক নজর তাকালেই নদী, পাহাড় ও হাওরের সীমানা চোখে পড়ে।
শিমুল বাগান : এশিয়া মহাদেশের অন্যতম বৃহৎ শিমুল বাগান। বর্ষায় ফুল না থাকলেও বিশাল সবুজ ক্যানভাস এবং পাহাড়ঘেরা পরিবেশ অন্যরকম প্রশান্তি দেয়।
ঢাকা থেকে সুনামগঞ্জ: ঢাকা থেকে সরাসরি দূরপাল্লার বাসে (হানিফ, শ্যামলী, এনা ইত্যাদি) সুনামগঞ্জ যাওয়া যায়। এ ছাড়া ট্রেনে সিলেট পৌঁছে সেখান থেকে লোকাল বাস বা মাইক্রোবাসে সুনামগঞ্জ জেলা সদরে যাওয়া সম্ভব।
সুনামগঞ্জ থেকে তাহিরপুর/আনোয়ার ঘাট: সুনামগঞ্জ শহর থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশা, লেগুনা বা রিজার্ভ গাড়িতে করে প্রায় ১ ঘণ্টায় তাহিরপুর উপজেলার 'আনোয়ার ঘাট' পৌঁছানো যায়।
হাওর যাত্রা: আনোয়ার ঘাট থেকেই মূলত হাউসবোট, স্পিডবোট বা ইঞ্জিনচালিত ট্রলারে টাঙ্গুয়ার হাওর ভ্রমণ শুরু হয়।
হাউসবোট রাত্রিযাপন: বর্তমানে টাঙ্গুয়ার হাওরে রাত্রিযাপনের জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয় ব্যবস্থা হলো আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন 'হাউসবোট'। বিভিন্ন বাজেট ও মানের হাউসবোট রয়েছে, যেগুলো আগে থেকেই অনলাইনে বুকিং দিয়ে রাখা যায়।
খাবার ব্যবস্থা: হাউসবোটে প্যাকেজের আওতাতেই সকাল, দুপুর ও রাতের খাবার সরবরাহ করা হয়। খাবারের তালিকায় হাওরের টাটকা মাছ, দেশি মুরগি, হরেক রকমের ভর্তা ও বারবিকিউ প্রধান আকর্ষণ।
হোটেল ব্যবস্থা: চাইলে স্পিডবোটে সারা দিন ঘুরে রাতে সুনামগঞ্জ শহরের ভালো মানের আবাসিক হোটেল বা রেস্টহাউসেও থাকা যায়।
লাইফ জ্যাকেট ব্যবহার : বর্ষায় হাওরের পানি অনেক গভীর থাকে। তাই নৌকায় ভ্রমণ বা পানিতে নামার সময় অবশ্যই লাইফ জ্যাকেট পরা বাধ্যতামূলক। আবহাওয়া পরীক্ষা : বর্ষায় হঠাৎ ঝড় বা বৃষ্টি হতে পারে, তাই যাত্রার আগে আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেখে নিন।
পরিবেশ রক্ষা : প্লাস্টিকের বোতল, চিপসের প্যাকেট বা অন্য কোনো বর্জ্য হাওরের পানিতে ফেলা থেকে কঠোরভাবে বিরত থাকুন।
সীমান্তের নিয়মকানুন: টেকেরঘাট ও লাকমা ছড়া এলাকা সীমান্তঘেঁষা হওয়ায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) নির্দেশিকা মেনে চলুন এবং জিরো পয়েন্ট অতিক্রম করবেন না।

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ জুলাই ২০২৬
বর্ষাকাল মানেই হাওরাঞ্চলের এক অপরূপ রূপ রূপান্তর। আর এই সময়ে মেঘালয়ের পাদদেশে অবস্থিত সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওর ধারণ করে তার সবচেয়ে মোহনীয় ও নির্মল সৌন্দর্য। থৈ থৈ স্বচ্ছ জলরাশি, হিজল-করচের বন, বিকেলের নীলাদ্রি লেক কিংবা জাদুকাটা নদীর পাড়ে পাহাড়ের মেলবন্ধন—সব মিলিয়ে বর্ষায় প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্য এই হাওর।
পর্যটকদের জন্য টাঙ্গুয়ার হাওর ও এর আশেপাশের দর্শনীয় স্থানগুলো ভ্রমণের খুঁটিনাটি তথ্য, রুট এবং সতর্কতা নিয়ে নিচে একটি পূর্ণাঙ্গ গাইড তুলে ধরা হলো:

শিমুল বাগান। ছবি : সংগৃহীত
টাঙ্গুয়ার হাওর ও ওয়াচ টাওয়ার : হাওরের বিস্তীর্ণ জলরাশির মাঝে বলাই নদীর তীরে দাঁড়িয়ে আছে ওয়াচ টাওয়ার। হিজল বনের মধ্য দিয়ে ছোট নৌকায় ঘুরে বেড়ানো এবং স্বচ্ছ পানিতে গোসল করার চমৎকার অভিজ্ঞতা মেলে এখানে।
২. নীলাদ্রি লেক (শহীদ সিরাজ লেক) : টেকেরঘাট সীমান্তে অবস্থিত এই লেকের নীল পানি ও পেছনে ভারতের মেঘালয় পাহাড়ের টিলাগুলো স্থানটিকে ছবির মতো সুন্দর করে তুলেছে।
লাকমা ছড়া : মেঘালয় পাহাড় থেকে নেমে আসা শীতল পানির ঝরনা ও ছড়া। সীমান্তঘেঁষা এই স্থানে দাঁড়িয়ে পাহাড়ের শীতল হাওয়া ও স্বচ্ছ পানির ছোঁয়া পাওয়া যায়।
জাদুকাটা নদী ও বারিক্কা টিলা : স্বচ্ছ পানির জাদুকাটা নদী এবং তার পাশেই অবস্থিত উঁচু বারিক্কা টিলা। টিলার ওপর থেকে এক নজর তাকালেই নদী, পাহাড় ও হাওরের সীমানা চোখে পড়ে।
শিমুল বাগান : এশিয়া মহাদেশের অন্যতম বৃহৎ শিমুল বাগান। বর্ষায় ফুল না থাকলেও বিশাল সবুজ ক্যানভাস এবং পাহাড়ঘেরা পরিবেশ অন্যরকম প্রশান্তি দেয়।
ঢাকা থেকে সুনামগঞ্জ: ঢাকা থেকে সরাসরি দূরপাল্লার বাসে (হানিফ, শ্যামলী, এনা ইত্যাদি) সুনামগঞ্জ যাওয়া যায়। এ ছাড়া ট্রেনে সিলেট পৌঁছে সেখান থেকে লোকাল বাস বা মাইক্রোবাসে সুনামগঞ্জ জেলা সদরে যাওয়া সম্ভব।
সুনামগঞ্জ থেকে তাহিরপুর/আনোয়ার ঘাট: সুনামগঞ্জ শহর থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশা, লেগুনা বা রিজার্ভ গাড়িতে করে প্রায় ১ ঘণ্টায় তাহিরপুর উপজেলার 'আনোয়ার ঘাট' পৌঁছানো যায়।
হাওর যাত্রা: আনোয়ার ঘাট থেকেই মূলত হাউসবোট, স্পিডবোট বা ইঞ্জিনচালিত ট্রলারে টাঙ্গুয়ার হাওর ভ্রমণ শুরু হয়।
হাউসবোট রাত্রিযাপন: বর্তমানে টাঙ্গুয়ার হাওরে রাত্রিযাপনের জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয় ব্যবস্থা হলো আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন 'হাউসবোট'। বিভিন্ন বাজেট ও মানের হাউসবোট রয়েছে, যেগুলো আগে থেকেই অনলাইনে বুকিং দিয়ে রাখা যায়।
খাবার ব্যবস্থা: হাউসবোটে প্যাকেজের আওতাতেই সকাল, দুপুর ও রাতের খাবার সরবরাহ করা হয়। খাবারের তালিকায় হাওরের টাটকা মাছ, দেশি মুরগি, হরেক রকমের ভর্তা ও বারবিকিউ প্রধান আকর্ষণ।
হোটেল ব্যবস্থা: চাইলে স্পিডবোটে সারা দিন ঘুরে রাতে সুনামগঞ্জ শহরের ভালো মানের আবাসিক হোটেল বা রেস্টহাউসেও থাকা যায়।
লাইফ জ্যাকেট ব্যবহার : বর্ষায় হাওরের পানি অনেক গভীর থাকে। তাই নৌকায় ভ্রমণ বা পানিতে নামার সময় অবশ্যই লাইফ জ্যাকেট পরা বাধ্যতামূলক। আবহাওয়া পরীক্ষা : বর্ষায় হঠাৎ ঝড় বা বৃষ্টি হতে পারে, তাই যাত্রার আগে আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেখে নিন।
পরিবেশ রক্ষা : প্লাস্টিকের বোতল, চিপসের প্যাকেট বা অন্য কোনো বর্জ্য হাওরের পানিতে ফেলা থেকে কঠোরভাবে বিরত থাকুন।
সীমান্তের নিয়মকানুন: টেকেরঘাট ও লাকমা ছড়া এলাকা সীমান্তঘেঁষা হওয়ায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) নির্দেশিকা মেনে চলুন এবং জিরো পয়েন্ট অতিক্রম করবেন না।

আপনার মতামত লিখুন