মুকসুদপুর    বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
দৈনিক নতুন আলো
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬

গোপালগঞ্জ পুলিশ লাইন্সে মাস্টার প্যারেড ও কল্যাণসভা অনুষ্ঠিত

গোপালগঞ্জ পুলিশ লাইন্সে মাস্টার প্যারেড ও কল্যাণসভা অনুষ্ঠিত

কোটালীপাড়া ও টুঙ্গিপাড়ায় দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি: সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান

কোটালীপাড়া ও টুঙ্গিপাড়ায় দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি: সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান

মুকসুদপুরে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত

মুকসুদপুরে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় পদ্মায় দ্বিতীয় দফায় ভয়াবহ ভাঙন: বিলীন ৫০০ বিঘা আবাদি জমি

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় পদ্মায় দ্বিতীয় দফায় ভয়াবহ ভাঙন: বিলীন ৫০০ বিঘা আবাদি জমি

গোপালগঞ্জে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

গোপালগঞ্জে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নে মুকসুদপুরে মাঠ পর্যায়ের সুপারভাইজারদের প্রশিক্ষণ ও ল্যাপটপ প্রদান

ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নে মুকসুদপুরে মাঠ পর্যায়ের সুপারভাইজারদের প্রশিক্ষণ ও ল্যাপটপ প্রদান

মুকসুদপুরে পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় মতবিনিময় সভা

মুকসুদপুরে পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় মতবিনিময় সভা

মেহেরপুরের গাংনীতে ঘন কুয়াশায় নামল শীতের আমেজ, সড়কে ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন

মেহেরপুরের গাংনীতে ঘন কুয়াশায় নামল শীতের আমেজ, সড়কে ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন

৫২৪ হেক্টর জমিতে বাম্পার ফলন; পাইকারদের ভিড়ে জমজমাট মানিকগঞ্জের আখের বাজার

মানিকগঞ্জে আখ কাটার ধুম, ফলন ও দামে খুশি কৃষক

মানিকগঞ্জে আখ কাটার ধুম, ফলন ও দামে খুশি কৃষক
কেউ আখ কাটছেন, কেউ পাতা ও আঁশ পরিষ্কার করছেন। আজ সকালে সদর উপজেলার তরা এলাকায়। ছবি: ছবি : সংগৃহীত

মানিকগঞ্জে জমে উঠেছে পরিপক্ব আখ কাটার মরশুম। জেলার বিস্তৃত খেতজুড়ে এখন কৃষকদের ব্যস্ত সময় পার করতে দেখা যাচ্ছে। কেউ ধারালো দা দিয়ে আখ কাটছেন, কেউ পাতা ও আঁশ পরিষ্কার করছেন, আবার কেউবা বাজারে পাঠানোর জন্য যত্ন করে আঁটি বাঁধছেন। চলতি মৌসুমে আখের ফলন ভালো হওয়ার পাশাপাশি বাজারে উপযুক্ত চাহিদা থাকায় লাভের মুখ দেখছেন স্থানীয় কৃষকেরা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলার সাতটি উপজেলায় মোট ৫১০ হেক্টর জমিতে আখ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। যেখানে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ২৫ হাজার ২৪৫ টন। তবে সব হিসাব ছাড়িয়ে এবার জেলায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি, অর্থাৎ ৫২৪ হেক্টর জমিতে আখের আবাদ হয়েছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জেলার সিংগাইর, সাটুরিয়া ও মানিকগঞ্জ সদর উপজেলায় সবচেয়ে বেশি আখের খেত রয়েছে। এছাড়া ঘিওর, শিবালয় ও দৌলতপুর উপজেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলেও দিন দিন অর্থকরী এই ফসলের আবাদ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

বৃহস্পতিবার সকালে সদর উপজেলার তরা এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কৃষকেরা কাদা-পানি মাড়িয়ে খেত থেকে পরিপক্ব আখ তুলছেন। এরপর সেই আখের ছাল ও পাতা ছাড়িয়ে আঁটি বেঁধে পাইকারদের হাতে তুলে দিচ্ছেন।

তরা এলাকার কৃষক আবদুল মান্নান জানান, এক বিঘা জমিতে আখ চাষে সব মিলিয়ে প্রায় ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। তবে আখের সারির ফাঁকে ফাঁকে মুলা, ধনেপাতা ও লালশাকের মতো সাথি ফসল চাষ করে বাড়তি আয় করার সুযোগ পেয়েছি। ইতিমধ্যে খেত থেকেই প্রায় ৫০ হাজার টাকার আখ বিক্রি করে ফেলেছি।

অন্যদিকে সিংগাইরের বায়রা ইউনিয়নের গেরাদিয়া গ্রামের কৃষক আব্দুল কাদের বলেন, “আমি সাত বিঘা জমিতে উন্নত জাতের আখ রোপণ করেছি। চারা, সার, সেচ ও শ্রমিকের মজুরিসহ বিঘা প্রতি প্রায় ৫০ হাজার টাকা খরচ পড়েছে। বর্তমানে প্রতি বিঘার আখ বাজারে ৮০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।”

সাভারের আশুলিয়া থেকে আসা পাইকারি ব্যবসায়ী মো. সোহেল মিয়া জানান, আমরা সরাসরি কৃষকের খেত থেকেই আখ কিনে নিচ্ছি। মানভেদে প্রতি পিস আখ ২০ থেকে ৪০ টাকা দরে কেনা পড়ছে। মানিকগঞ্জের মিষ্টতা ও রসালো আখের মান ভালো হওয়ায় ঢাকার বাজারে এর বেশ কদর রয়েছে।

তবে মাঠপর্যায়ে দাম ভালো পেলেও কৃষকদের মনে রয়েছে কিছুটা ক্ষোভ। কৃষকদের অভিযোগ, খেত থেকে যে আখ তাঁরা ৩০ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি করছেন, সেটি ঢাকার খুচরা বাজারে সাধারণ ভোক্তার কাছে পৌঁছে ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণে কৃষক ও ভোক্তার মধ্যে এই বিশাল দামের ফারাক তৈরি হচ্ছে। তাই চাষিরা উৎপাদন খরচের সাথে সামঞ্জস্য রেখে মাঠে আখের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার দাবি জানান।


মানিকগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সাজাহান সিরাজ বলেন, আখ অত্যন্ত লাভজনক একটি অর্থকরী ফসল। একই জমিতে সাথী ফসল হিসেবে শাকসবজি চাষের সুযোগ থাকায় কৃষকদের মধ্যে আখ চাষে আগ্রহ উত্তরোত্তর বাড়ছে। স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পর মানিকগঞ্জের আখ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে। কৃষি দপ্তরের পক্ষ থেকে কৃষকদের পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় উপকরণ দেওয়া হচ্ছে, আশা করছি আগামীতে জেলায় আখ চাষের পরিধি আরও সমৃদ্ধ হবে।

বিষয় : কৃষক ঢাকা বিভাগ মানিকগঞ্জ সদর বাজার

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক নতুন আলো

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬


মানিকগঞ্জে আখ কাটার ধুম, ফলন ও দামে খুশি কৃষক

প্রকাশের তারিখ : ১৩ আগস্ট ২০২৬

featured Image

মানিকগঞ্জে জমে উঠেছে পরিপক্ব আখ কাটার মরশুম। জেলার বিস্তৃত খেতজুড়ে এখন কৃষকদের ব্যস্ত সময় পার করতে দেখা যাচ্ছে। কেউ ধারালো দা দিয়ে আখ কাটছেন, কেউ পাতা ও আঁশ পরিষ্কার করছেন, আবার কেউবা বাজারে পাঠানোর জন্য যত্ন করে আঁটি বাঁধছেন। চলতি মৌসুমে আখের ফলন ভালো হওয়ার পাশাপাশি বাজারে উপযুক্ত চাহিদা থাকায় লাভের মুখ দেখছেন স্থানীয় কৃষকেরা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলার সাতটি উপজেলায় মোট ৫১০ হেক্টর জমিতে আখ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। যেখানে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ২৫ হাজার ২৪৫ টন। তবে সব হিসাব ছাড়িয়ে এবার জেলায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি, অর্থাৎ ৫২৪ হেক্টর জমিতে আখের আবাদ হয়েছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জেলার সিংগাইর, সাটুরিয়া ও মানিকগঞ্জ সদর উপজেলায় সবচেয়ে বেশি আখের খেত রয়েছে। এছাড়া ঘিওর, শিবালয় ও দৌলতপুর উপজেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলেও দিন দিন অর্থকরী এই ফসলের আবাদ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

বৃহস্পতিবার সকালে সদর উপজেলার তরা এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কৃষকেরা কাদা-পানি মাড়িয়ে খেত থেকে পরিপক্ব আখ তুলছেন। এরপর সেই আখের ছাল ও পাতা ছাড়িয়ে আঁটি বেঁধে পাইকারদের হাতে তুলে দিচ্ছেন।

তরা এলাকার কৃষক আবদুল মান্নান জানান, এক বিঘা জমিতে আখ চাষে সব মিলিয়ে প্রায় ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। তবে আখের সারির ফাঁকে ফাঁকে মুলা, ধনেপাতা ও লালশাকের মতো সাথি ফসল চাষ করে বাড়তি আয় করার সুযোগ পেয়েছি। ইতিমধ্যে খেত থেকেই প্রায় ৫০ হাজার টাকার আখ বিক্রি করে ফেলেছি।

অন্যদিকে সিংগাইরের বায়রা ইউনিয়নের গেরাদিয়া গ্রামের কৃষক আব্দুল কাদের বলেন, “আমি সাত বিঘা জমিতে উন্নত জাতের আখ রোপণ করেছি। চারা, সার, সেচ ও শ্রমিকের মজুরিসহ বিঘা প্রতি প্রায় ৫০ হাজার টাকা খরচ পড়েছে। বর্তমানে প্রতি বিঘার আখ বাজারে ৮০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।”

সাভারের আশুলিয়া থেকে আসা পাইকারি ব্যবসায়ী মো. সোহেল মিয়া জানান, আমরা সরাসরি কৃষকের খেত থেকেই আখ কিনে নিচ্ছি। মানভেদে প্রতি পিস আখ ২০ থেকে ৪০ টাকা দরে কেনা পড়ছে। মানিকগঞ্জের মিষ্টতা ও রসালো আখের মান ভালো হওয়ায় ঢাকার বাজারে এর বেশ কদর রয়েছে।

তবে মাঠপর্যায়ে দাম ভালো পেলেও কৃষকদের মনে রয়েছে কিছুটা ক্ষোভ। কৃষকদের অভিযোগ, খেত থেকে যে আখ তাঁরা ৩০ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি করছেন, সেটি ঢাকার খুচরা বাজারে সাধারণ ভোক্তার কাছে পৌঁছে ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণে কৃষক ও ভোক্তার মধ্যে এই বিশাল দামের ফারাক তৈরি হচ্ছে। তাই চাষিরা উৎপাদন খরচের সাথে সামঞ্জস্য রেখে মাঠে আখের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার দাবি জানান।


মানিকগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সাজাহান সিরাজ বলেন, আখ অত্যন্ত লাভজনক একটি অর্থকরী ফসল। একই জমিতে সাথী ফসল হিসেবে শাকসবজি চাষের সুযোগ থাকায় কৃষকদের মধ্যে আখ চাষে আগ্রহ উত্তরোত্তর বাড়ছে। স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পর মানিকগঞ্জের আখ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে। কৃষি দপ্তরের পক্ষ থেকে কৃষকদের পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় উপকরণ দেওয়া হচ্ছে, আশা করছি আগামীতে জেলায় আখ চাষের পরিধি আরও সমৃদ্ধ হবে।


দৈনিক নতুন আলো

প্রকাশক : সাদিয়া নূর পূর্ণ
সম্পাদক : নাহিদ হোসেন
নির্বাহী সম্পাদক : মোঃ ছিরু মিয়া

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক নতুন আলো