গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার পশারগাতী ইউনিয়নে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ‘১২৬ নং পূর্ব কৃষ্ণাদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে’র নতুন ব্যবস্থাপনা কমিটি (SMC)-২০২৬ গঠিত হয়েছে। এতে বিশিষ্ট সমাজসেবক ও অবসরপ্রাপ্ত নৌ-বাহিনী কর্মকর্তা শেখ আলমগীর হোসেনকে সভাপতি এবং আলামিন শরীফকে সহ-সভাপতি নির্বাচিত করে ১২ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি বিদ্যালয় মিলনায়তনে অভিভাবক, শিক্ষক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে আয়োজিত এক সাধারণ সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এই পরিচালনা পরিষদ গঠন করা হয়। নতুন এই কমিটির নেতৃত্বে দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানটির সার্বিক শিক্ষা ও ভৌত অবকাঠামোগত উন্নয়নে নতুন গতি আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করছেন সংশ্লিষ্ট সকলে।
অনুমোদিত ২০২৬ সালের ব্যবস্থাপনা কমিটিতে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন কৃষ্ণাদিয়া গ্রামের বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত নৌ-বাহিনী কর্মকর্তা শেখ আলমগীর হোসেন (পিতা: মো. নজির উদ্দীন শেখ)। সহ-সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন অভিভাবক সদস্য আলামিন শরীফ (পিতা: ইছাহাক শরীফ)। সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আফরোজা আক্তার (স্বামী: মো. বাবুল মোল্যা, গ্রাম: বাহাড়া)।
কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন— বিদ্যোৎসাহী পুরুষ সদস্য হাছিব সিকদার (পিতা: আনোয়ার সিকদার), বিদ্যোৎসাহী মহিলা সদস্য নাজমা খানম (স্বামী: মো. তোফায়েল মোল্যা), অভিভাবক সদস্য মো. আবু তালিব (পিতা: মো. আব্দুর রহমান), প্রমিলা বিশ্বাস (স্বামী: কিরণ বিশ্বাস), ও দোলেনা বেগম (স্বামী: মো.কামাল শেখ)।
এ ছাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রতিনিধি হিসেবে সদস্য রয়েছেন বাবু মনোজিৎ দাস (পিতা: অমূল্য দাস), শিক্ষক প্রতিনিধি সদস্য স্বপ্না ঘোষ (স্বামী: নীল রতন শীল), জমিদাতা সদস্য সুমিত্রা রানী সাহা (পিতা: মৃত মধুসূদন সাহা) এবং ইউপি সদস্য প্রতিনিধি হিসেবে কমিটিতে রয়েছেন বিপ্লব কুমার শীল (পিতা: দিলীপ কুমার শীল)। কমিটির সদস্য সচিব ছাড়া বাকি সকল সদস্যই স্থানীয় কৃষ্ণাদিয়া গ্রামের বাসিন্দা।
উল্লেখ্য, ১৯৭৪ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি প্রতিষ্ঠিত এই প্রাচীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘ ৫২ বছর ধরে কৃষ্ণাদিয়া ও পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন গ্রামের সাধারণ শিশুদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে আসছে। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে প্রাক-প্রাথমিক থেকে শুরু করে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত মোট ১১৮ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষার সার্বিক পরিবেশ এবং পাসের হার বেশ সন্তোষজনক, যার বর্তমান গড় পাসের হার ৮৫ শতাংশ। তবে শ্রেণিকক্ষের কিছু অবকাঠামোগত সংস্কার, শিক্ষার্থীদের যাতায়াত ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং ডিজিটাল পাঠদান সামগ্রীর প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, শেখ আলমগীর হোসেনের মতো একজন সুশৃঙ্খল ও সমাজসেবক অবসরপ্রাপ্ত নৌ-বাহিনী কর্মকর্তা সভাপতির দায়িত্ব পাওয়ায় বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত ও শিক্ষার পরিবেশের বিদ্যমান সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান হবে।
সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর এক প্রতিক্রিয়ায় শেখ আলমগীর হোসেন বলেন, ১২৬ নং পূর্ব কৃষ্ণাদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এই অঞ্চলের একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। আমাকে এই গুরুদায়িত্ব দেওয়ার জন্য আমি অভিভাবক, শিক্ষক এবং এলাকার সর্বস্তরের মানুষের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
তিনি আরও বলেন, সকলকে সাথে নিয়ে আমার প্রধান লক্ষ্য হবে বিদ্যালয়ের পাঠদানের পরিবেশকে আরও আধুনিক ও শিক্ষার্থীবান্ধব করা। শতভাগ শিক্ষার্থীর নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করার পাশাপাশি ঝরে পড়া রোধে আমি বিশেষ উদ্যোগ নেব। ভৌত অবকাঠামোগত সমস্যা সমাধানে নতুন কমিটির সকল সদস্য, শিক্ষক ও স্থানীয় প্রশাসনকে সাথে নিয়ে আমি আন্তরিকভাবে কাজ করব। আমার লক্ষ্য—এটিকে মুকসুদপুর উপজেলার একটি অন্যতম মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তোলা।

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ আগস্ট ২০২৬
গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার পশারগাতী ইউনিয়নে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ‘১২৬ নং পূর্ব কৃষ্ণাদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে’র নতুন ব্যবস্থাপনা কমিটি (SMC)-২০২৬ গঠিত হয়েছে। এতে বিশিষ্ট সমাজসেবক ও অবসরপ্রাপ্ত নৌ-বাহিনী কর্মকর্তা শেখ আলমগীর হোসেনকে সভাপতি এবং আলামিন শরীফকে সহ-সভাপতি নির্বাচিত করে ১২ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি বিদ্যালয় মিলনায়তনে অভিভাবক, শিক্ষক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে আয়োজিত এক সাধারণ সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এই পরিচালনা পরিষদ গঠন করা হয়। নতুন এই কমিটির নেতৃত্বে দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানটির সার্বিক শিক্ষা ও ভৌত অবকাঠামোগত উন্নয়নে নতুন গতি আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করছেন সংশ্লিষ্ট সকলে।
অনুমোদিত ২০২৬ সালের ব্যবস্থাপনা কমিটিতে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন কৃষ্ণাদিয়া গ্রামের বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত নৌ-বাহিনী কর্মকর্তা শেখ আলমগীর হোসেন (পিতা: মো. নজির উদ্দীন শেখ)। সহ-সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন অভিভাবক সদস্য আলামিন শরীফ (পিতা: ইছাহাক শরীফ)। সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আফরোজা আক্তার (স্বামী: মো. বাবুল মোল্যা, গ্রাম: বাহাড়া)।
কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন— বিদ্যোৎসাহী পুরুষ সদস্য হাছিব সিকদার (পিতা: আনোয়ার সিকদার), বিদ্যোৎসাহী মহিলা সদস্য নাজমা খানম (স্বামী: মো. তোফায়েল মোল্যা), অভিভাবক সদস্য মো. আবু তালিব (পিতা: মো. আব্দুর রহমান), প্রমিলা বিশ্বাস (স্বামী: কিরণ বিশ্বাস), ও দোলেনা বেগম (স্বামী: মো.কামাল শেখ)।
এ ছাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রতিনিধি হিসেবে সদস্য রয়েছেন বাবু মনোজিৎ দাস (পিতা: অমূল্য দাস), শিক্ষক প্রতিনিধি সদস্য স্বপ্না ঘোষ (স্বামী: নীল রতন শীল), জমিদাতা সদস্য সুমিত্রা রানী সাহা (পিতা: মৃত মধুসূদন সাহা) এবং ইউপি সদস্য প্রতিনিধি হিসেবে কমিটিতে রয়েছেন বিপ্লব কুমার শীল (পিতা: দিলীপ কুমার শীল)। কমিটির সদস্য সচিব ছাড়া বাকি সকল সদস্যই স্থানীয় কৃষ্ণাদিয়া গ্রামের বাসিন্দা।
উল্লেখ্য, ১৯৭৪ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি প্রতিষ্ঠিত এই প্রাচীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘ ৫২ বছর ধরে কৃষ্ণাদিয়া ও পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন গ্রামের সাধারণ শিশুদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে আসছে। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে প্রাক-প্রাথমিক থেকে শুরু করে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত মোট ১১৮ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষার সার্বিক পরিবেশ এবং পাসের হার বেশ সন্তোষজনক, যার বর্তমান গড় পাসের হার ৮৫ শতাংশ। তবে শ্রেণিকক্ষের কিছু অবকাঠামোগত সংস্কার, শিক্ষার্থীদের যাতায়াত ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং ডিজিটাল পাঠদান সামগ্রীর প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, শেখ আলমগীর হোসেনের মতো একজন সুশৃঙ্খল ও সমাজসেবক অবসরপ্রাপ্ত নৌ-বাহিনী কর্মকর্তা সভাপতির দায়িত্ব পাওয়ায় বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত ও শিক্ষার পরিবেশের বিদ্যমান সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান হবে।
সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর এক প্রতিক্রিয়ায় শেখ আলমগীর হোসেন বলেন, ১২৬ নং পূর্ব কৃষ্ণাদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এই অঞ্চলের একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। আমাকে এই গুরুদায়িত্ব দেওয়ার জন্য আমি অভিভাবক, শিক্ষক এবং এলাকার সর্বস্তরের মানুষের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
তিনি আরও বলেন, সকলকে সাথে নিয়ে আমার প্রধান লক্ষ্য হবে বিদ্যালয়ের পাঠদানের পরিবেশকে আরও আধুনিক ও শিক্ষার্থীবান্ধব করা। শতভাগ শিক্ষার্থীর নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করার পাশাপাশি ঝরে পড়া রোধে আমি বিশেষ উদ্যোগ নেব। ভৌত অবকাঠামোগত সমস্যা সমাধানে নতুন কমিটির সকল সদস্য, শিক্ষক ও স্থানীয় প্রশাসনকে সাথে নিয়ে আমি আন্তরিকভাবে কাজ করব। আমার লক্ষ্য—এটিকে মুকসুদপুর উপজেলার একটি অন্যতম মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তোলা।
সাধারণ সভা শেষে বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ এবং ম্যানেজিং কমিটির অন্যান্য সদস্যগণ নতুন নির্বাচিত সভাপতিসহ কমিটির সদস্যদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন এবং তাঁদের দায়িত্বকালীন মেয়াদের সাফল্য কামনা করেন।

আপনার মতামত লিখুন