পদ্মা সেতু চালুর পর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১টি জেলার সঙ্গে রাজধানীর যোগাযোগের মূল ধমনি হয়ে উঠেছে ঢাকা-ভাঙ্গা-খুলনা এক্সপ্রেসওয়ে। তবে কেবল দ্রুাত যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবেই নয়, মহাসড়কটি এখন নতুন এক পরিচয় পেয়েছে—বাহারি রঙের ফুলের এক্সপ্রেসওয়ে।
বর্ষার শেষভাগে বৃষ্টির ছোঁয়ায় এক্সপ্রেসওয়ের সড়ক বিভাজক (ডিভাইডার) জুড়ে ফোটা লাল, গোলাপি, ধবধবে সাদা, হলুদ ও বেগুনি রঙের অফুরন্ত ফুলের সমারোহ ব্যস্ত এই মহাসড়ককে রাঙিয়ে তুলেছে বর্ণিল সাজে। দূরপাল্লার যানবাহনের যাত্রীদের দীর্ঘ ভ্রমণের ক্লান্তি ঘুচিয়ে দিচ্ছে প্রকৃতির এই অনাবিল সৌন্দর্য।
সরেজমিনে মাদারীপুরের শিবচর অংশে পা রাখতেই বদলে যেতে দেখা যায় চারপাশের দৃশ্যপট। উপজেলার পাঁচ্চর, সন্ন্যাসীরচর, সূর্যনগর, কাঁঠালবাড়ী, মাদবরেরচর ও কুতুবপুর অংশে সবচেয়ে বেশি দৃশ্যমান নান্দনিক এই রূপ। বিভাজকে কাঞ্চন, করবীর পাশাপাশি রাধাচূঁড়া, জারুল, কামিনী, বেলি, সোনালু ও কৃষ্ণচূড়ার মিষ্টি সুবাস ভেসে আসছে চলন্ত গাড়ির জানালায়। এছাড়া সড়কের দুই পাশে মেহগনি, নিম, বহেরা, হরিতকী, চালতা ও কৃষ্ণচূড়াসহ নানান প্রজাতির গাছের সবুজ সীমানা তৈরি করেছে এক অপরূপ আবহ।
স্থানীয় বাসিন্দা, নিয়মিত যাতায়াতকারী কন্টেন্ট ক্রিয়েটর ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা জানান, এক্সপ্রেসওয়ের এমন সৌন্দর্য ভ্রমণকে আরও আনন্দদায়ক করে তোলে। অনেকে গাড়ি থামিয়ে জীবনের সুন্দর মুহূর্তগুলো ফ্রেমবন্দি করছেন, যা ছড়িয়ে পড়ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও। তবে সৌন্দর্য বাড়াতে নিয়মিত আগাছা পরিষ্কার ও সুনির্দিষ্ট পরিচর্যার ওপর জোর দেওয়ার দাবি জানান স্থানীয় সচেতন মহল।
মাদারীপুর সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী খ ম নকীবুল বারী জানান, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, ধুলাবালি ও শব্দদূষণ কমানোর পাশাপাশি এই গাছগুলো রাতে বিপরীত দিক থেকে আসা যানবাহনের হেডলাইটের তীব্র আলো প্রতিরোধ করে চালকদের দৃষ্টি সুরক্ষা দিচ্ছে, যা দুর্ঘটনা কমাতেও কার্যকর। ডিভাইডারের সৌন্দর্য টেকসই করতে ভবিষ্যতে দুপাশে সুরক্ষা রেলিং বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
এদিকে শিবচর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান সৌন্দর্য উপভোগের নামে মহাসড়কে ঝুঁকি না নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন। এক্সপ্রেসওয়ের ওপর গাড়ি থামিয়ে ছবি তোলা, বিভাজকে উঠে ভিডিও ধারণ কিংবা ফুল ছেঁড়ার মতো অসচেতন আচরণে যে কোনো সময় প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই এই পরিবেশ রক্ষা ও নিরাপদ চলাচলে সবার সহযোগিতা কামনা করেছে প্রশাসন।
বিষয় : মহাসড়ক সড়ক পদ্মা সেতু

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
পদ্মা সেতু চালুর পর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১টি জেলার সঙ্গে রাজধানীর যোগাযোগের মূল ধমনি হয়ে উঠেছে ঢাকা-ভাঙ্গা-খুলনা এক্সপ্রেসওয়ে। তবে কেবল দ্রুাত যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবেই নয়, মহাসড়কটি এখন নতুন এক পরিচয় পেয়েছে—বাহারি রঙের ফুলের এক্সপ্রেসওয়ে।
বর্ষার শেষভাগে বৃষ্টির ছোঁয়ায় এক্সপ্রেসওয়ের সড়ক বিভাজক (ডিভাইডার) জুড়ে ফোটা লাল, গোলাপি, ধবধবে সাদা, হলুদ ও বেগুনি রঙের অফুরন্ত ফুলের সমারোহ ব্যস্ত এই মহাসড়ককে রাঙিয়ে তুলেছে বর্ণিল সাজে। দূরপাল্লার যানবাহনের যাত্রীদের দীর্ঘ ভ্রমণের ক্লান্তি ঘুচিয়ে দিচ্ছে প্রকৃতির এই অনাবিল সৌন্দর্য।
সরেজমিনে মাদারীপুরের শিবচর অংশে পা রাখতেই বদলে যেতে দেখা যায় চারপাশের দৃশ্যপট। উপজেলার পাঁচ্চর, সন্ন্যাসীরচর, সূর্যনগর, কাঁঠালবাড়ী, মাদবরেরচর ও কুতুবপুর অংশে সবচেয়ে বেশি দৃশ্যমান নান্দনিক এই রূপ। বিভাজকে কাঞ্চন, করবীর পাশাপাশি রাধাচূঁড়া, জারুল, কামিনী, বেলি, সোনালু ও কৃষ্ণচূড়ার মিষ্টি সুবাস ভেসে আসছে চলন্ত গাড়ির জানালায়। এছাড়া সড়কের দুই পাশে মেহগনি, নিম, বহেরা, হরিতকী, চালতা ও কৃষ্ণচূড়াসহ নানান প্রজাতির গাছের সবুজ সীমানা তৈরি করেছে এক অপরূপ আবহ।
স্থানীয় বাসিন্দা, নিয়মিত যাতায়াতকারী কন্টেন্ট ক্রিয়েটর ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা জানান, এক্সপ্রেসওয়ের এমন সৌন্দর্য ভ্রমণকে আরও আনন্দদায়ক করে তোলে। অনেকে গাড়ি থামিয়ে জীবনের সুন্দর মুহূর্তগুলো ফ্রেমবন্দি করছেন, যা ছড়িয়ে পড়ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও। তবে সৌন্দর্য বাড়াতে নিয়মিত আগাছা পরিষ্কার ও সুনির্দিষ্ট পরিচর্যার ওপর জোর দেওয়ার দাবি জানান স্থানীয় সচেতন মহল।
মাদারীপুর সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী খ ম নকীবুল বারী জানান, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, ধুলাবালি ও শব্দদূষণ কমানোর পাশাপাশি এই গাছগুলো রাতে বিপরীত দিক থেকে আসা যানবাহনের হেডলাইটের তীব্র আলো প্রতিরোধ করে চালকদের দৃষ্টি সুরক্ষা দিচ্ছে, যা দুর্ঘটনা কমাতেও কার্যকর। ডিভাইডারের সৌন্দর্য টেকসই করতে ভবিষ্যতে দুপাশে সুরক্ষা রেলিং বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
এদিকে শিবচর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান সৌন্দর্য উপভোগের নামে মহাসড়কে ঝুঁকি না নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন। এক্সপ্রেসওয়ের ওপর গাড়ি থামিয়ে ছবি তোলা, বিভাজকে উঠে ভিডিও ধারণ কিংবা ফুল ছেঁড়ার মতো অসচেতন আচরণে যে কোনো সময় প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই এই পরিবেশ রক্ষা ও নিরাপদ চলাচলে সবার সহযোগিতা কামনা করেছে প্রশাসন।

আপনার মতামত লিখুন