ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে উঠতি বয়সের দুই কিশোরের তুচ্ছ বাকবিতণ্ডা ও ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের বাসিন্দারা মারাত্মক সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছেন। রাতের অন্ধকারে টর্চলাইটের আলো জ্বালিয়ে দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টা ধরে থেমে থেমে চলা এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাত ৭টার দিকে উপজেলার নতুন হাবলিপাড়া এবং স্বল্পনোয়াগাঁও এলাকার অধিবাসীদের মধ্যে এই সহিংস ঘটনার সূত্রপাত হয়, যা রাত ১০টা নাগাদ মহাসড়ক ও আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় অধিবাসী ও পুলিশি সূত্রে জানা গেছে, বুধবার বিকেলে স্বল্পনোয়াগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত একটি ফুটবল ম্যাচ দেখতে যায় সংলগ্ন নতুন হাবলিপাড়া গ্রামের কিশোর লামিন। খেলা চলাকালীন তুচ্ছ বিষয় নিয়ে স্বল্পনোয়াগাঁও গ্রামের শুভ নামের অপর এক তরুণ বা কিশোরের সঙ্গে তার হাতাহাতি ও কথা-কাটাকাটি হয়। উত্তেজনার একপর্যায়ে শুভ লামিনকে চড়-থাপ্পড় মারে।
এই খবরটি দ্রুত দুই পাড়াতে ছড়িয়ে পড়লে মুরুব্বি ও যুবকদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। রাত নামার সঙ্গে সঙ্গে উভয় পক্ষের শত শত লোক দেশীয় ধারালো অস্ত্র, টেঁটা ও লাঠিসোঁটা নিয়ে দুই গ্রামের সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থান নেয়। এ সময় রাতের গভীর অন্ধকারে লাইটের আলো জ্বালিয়ে প্রতিপক্ষকে লক্ষ্য করে বৃষ্টির মতো ইটপাটকেল ছোঁড়া হতে থাকে। কয়েক ঘণ্টাব্যাপী ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ায় এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হলে সাধারণ পথচারী ও বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্কের সৃষ্টি হয়।
সংঘর্ষের ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে আহতদের বিস্তারিত পরিচয় জানা না গেলেও আহতদের অধিকাংশকে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও জেলা সদরের বেসরকারি ক্লিনিকগুলোতে চিকিৎসা দিতে দেখা গেছে।
ঘটনার সত্যতা সুনির্দিষ্টভাবে নিশ্চিত করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. ওবায়দুর রহমান জানান, খবর পাওয়ার পরপরই সরাইল থানা ও জেলা সদরের অতিরিক্ত দাঙ্গা পুলিশ টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। পরিস্থিতি শান্ত ও স্বাভাবিক করতে কাঁদানে গ্যাস ও রাবার বুলেট প্রয়োগসহ পুলিশ সদস্যরা কাজ করছেন। বর্তমান অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে।
বিষয় : ব্রাহ্মণবাড়িয়া

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে উঠতি বয়সের দুই কিশোরের তুচ্ছ বাকবিতণ্ডা ও ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের বাসিন্দারা মারাত্মক সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছেন। রাতের অন্ধকারে টর্চলাইটের আলো জ্বালিয়ে দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টা ধরে থেমে থেমে চলা এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাত ৭টার দিকে উপজেলার নতুন হাবলিপাড়া এবং স্বল্পনোয়াগাঁও এলাকার অধিবাসীদের মধ্যে এই সহিংস ঘটনার সূত্রপাত হয়, যা রাত ১০টা নাগাদ মহাসড়ক ও আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় অধিবাসী ও পুলিশি সূত্রে জানা গেছে, বুধবার বিকেলে স্বল্পনোয়াগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত একটি ফুটবল ম্যাচ দেখতে যায় সংলগ্ন নতুন হাবলিপাড়া গ্রামের কিশোর লামিন। খেলা চলাকালীন তুচ্ছ বিষয় নিয়ে স্বল্পনোয়াগাঁও গ্রামের শুভ নামের অপর এক তরুণ বা কিশোরের সঙ্গে তার হাতাহাতি ও কথা-কাটাকাটি হয়। উত্তেজনার একপর্যায়ে শুভ লামিনকে চড়-থাপ্পড় মারে।
এই খবরটি দ্রুত দুই পাড়াতে ছড়িয়ে পড়লে মুরুব্বি ও যুবকদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। রাত নামার সঙ্গে সঙ্গে উভয় পক্ষের শত শত লোক দেশীয় ধারালো অস্ত্র, টেঁটা ও লাঠিসোঁটা নিয়ে দুই গ্রামের সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থান নেয়। এ সময় রাতের গভীর অন্ধকারে লাইটের আলো জ্বালিয়ে প্রতিপক্ষকে লক্ষ্য করে বৃষ্টির মতো ইটপাটকেল ছোঁড়া হতে থাকে। কয়েক ঘণ্টাব্যাপী ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ায় এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হলে সাধারণ পথচারী ও বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্কের সৃষ্টি হয়।
সংঘর্ষের ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে আহতদের বিস্তারিত পরিচয় জানা না গেলেও আহতদের অধিকাংশকে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও জেলা সদরের বেসরকারি ক্লিনিকগুলোতে চিকিৎসা দিতে দেখা গেছে।
ঘটনার সত্যতা সুনির্দিষ্টভাবে নিশ্চিত করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. ওবায়দুর রহমান জানান, খবর পাওয়ার পরপরই সরাইল থানা ও জেলা সদরের অতিরিক্ত দাঙ্গা পুলিশ টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। পরিস্থিতি শান্ত ও স্বাভাবিক করতে কাঁদানে গ্যাস ও রাবার বুলেট প্রয়োগসহ পুলিশ সদস্যরা কাজ করছেন। বর্তমান অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন