মুকসুদপুর    বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
দৈনিক নতুন আলো
প্রকাশ : বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গোপালগঞ্জ সরকারি কলেজে নবীনবরণ ও সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত

গোপালগঞ্জ সরকারি কলেজে নবীনবরণ ও সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত

গোপালগঞ্জে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত, ‘স্বচ্ছতা’ অডিটোরিয়ামে মতবিনিময়

গোপালগঞ্জে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত, ‘স্বচ্ছতা’ অডিটোরিয়ামে মতবিনিময়

মুকসুদপুরে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও সভায় বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত

মুকসুদপুরে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও সভায় বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত

গোপালগঞ্জে দুর্নীতিবিরোধী প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ ও মতবিনিময় সভা

গোপালগঞ্জে দুর্নীতিবিরোধী প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ ও মতবিনিময় সভা

দুই বছর ধরে শিক্ষার্থীশূন্য সিরাজগঞ্জের বওলাতলা প্রাথমিক বিদ্যালয়

দুই বছর ধরে শিক্ষার্থীশূন্য সিরাজগঞ্জের বওলাতলা প্রাথমিক বিদ্যালয়

জীবনের সব সঞ্চয়ে মেয়েদের স্কুল, বুরুয়া গ্রামের ‘আলোর দিশারি’ রেখা রানী ওঝা

জীবনের সব সঞ্চয়ে মেয়েদের স্কুল, বুরুয়া গ্রামের ‘আলোর দিশারি’ রেখা রানী ওঝা

পুরোনো নেতৃত্বেই আস্থা বোর্ডের: শেখ আব্দুর রাজ্জাক আলিম মাদ্রাসার অ্যাডহক কমিটির সভাপতি শেখ নাজিম

পুরোনো নেতৃত্বেই আস্থা বোর্ডের: শেখ আব্দুর রাজ্জাক আলিম মাদ্রাসার অ্যাডহক কমিটির সভাপতি শেখ নাজিম

প্রাথমিক শিক্ষায় প্রমিত বাংলার চর্চা জরুরি: গোপালগঞ্জে প্রশিক্ষণ কর্মশালা

প্রাথমিক শিক্ষায় প্রমিত বাংলার চর্চা জরুরি: গোপালগঞ্জে প্রশিক্ষণ কর্মশালা

শিক্ষা

দুই বছর ধরে শিক্ষার্থীশূন্য সিরাজগঞ্জের বওলাতলা প্রাথমিক বিদ্যালয়

দুই বছর ধরে শিক্ষার্থীশূন্য সিরাজগঞ্জের বওলাতলা প্রাথমিক বিদ্যালয়
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার হাটিকুমরুল ইউনিয়নের বওলাতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ছবি : সংগৃহীত

প্রতিদিন নিয়ম মেনে সকালেই খোলে স্কুলের দরজা, ওড়ে লাল-সবুজের জাতীয় পতাকা। শিক্ষকেরা হাজির হয়ে দাপ্তরিক খাতাপত্রে সইও করেন এবং মাস শেষে নিয়মিত বেতন তুলে নেন। কিন্তু শ্রেণিকক্ষে নেই কোনো শিক্ষার্থীর কোলাহল, বাজে না অ্যাসেম্বলি বা ছুটির ঘণ্টা। গত প্রায় দুই বছর ধরে সম্পূর্ণ শিক্ষার্থীশূন্য অবস্থায় পার হচ্ছে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার হাটিকুমরুল ইউনিয়নের বওলাতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

১৯৮১ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়টি ২০১৪ সালে জাতীয়করণ করা হয়। তবে দীর্ঘদিনের শিক্ষক অবহেলা, শিক্ষার নিম্নমান এবং শিক্ষা বিভাগের কার্যকর তদারকির অভাবে একে একে সব শিক্ষার্থী মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। ভবনের খাতায় প্রথম থেকে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত কেবল ১১ জন শিক্ষার্থীর নাম দেখা গেলেও বাস্তবে ক্লাসে কেউ উপস্থিত হয় না। ফলে পরীক্ষা বা পাঠদান—সবই বন্ধ রয়েছে। ব্যবহার না থাকায় খেলার মাঠ এখন বড় ঘাস ও আগাছায় ঢেকে গেছে, জং ধরেছে বারান্দার গ্রিলে আর দেয়ালে জমেছে ময়লার আস্তরণ।

২০২৪ সালের জুনে বিদ্যালয়টিতে প্রধান শিক্ষক সুশীল কুমারসহ সহকারী শিক্ষক আল মামুন ও মুনি আক্তার নতুন করে যোগদান করেন। তাঁরা আশপাশের বাড়ি বাড়ি ঘুরে অভিভাবকদের কাছে একাধিকবার আকুতি জানালেও আস্থা পাননি। আশপাশের প্রায় ৭৫টি পরিবারের অভিভাবকেরা এখন তাঁদের সন্তানদের সলঙ্গা কেজি স্কুল, মোস্তফা কেজি স্কুলসহ নিকটস্থ বিভিন্ন কিন্ডারগার্টেন ও মাদ্রাসায় পড়াচ্ছেন। শিক্ষার্থী সংগ্রহে ব্যর্থতার কারণে সম্প্রতি উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে এই তিন শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

শিক্ষকদের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সঠিক তদারকি ছিল না। উল্লাপাড়া উপজেলার ২৭৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনের জন্য ১১ জন সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার পদ থাকলেও দীর্ঘ এক বছর ধরে মাত্র একজন দিয়ে কাজ চালানো হচ্ছিল। ফলে সঠিক নজরদারির অভাবে স্কুলটি এই সংকটে পড়েছে।


উল্লাপাড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মুস্তাফিজুর রহমান জানান, বিষয়টি জানার পরপরই পরিদর্শন পরিচালনা করা হয় এবং শিক্ষার্থী আনয়ন ব্যর্থতায় শিক্ষকদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সুধীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে পাশের এলাকার শিক্ষার্থীদের ফিরিয়ে এনে বিদ্যালয়টি চালুর সমন্বিত প্রয়াস চালানো হচ্ছে।

বিষয় : শিক্ষক স্কুলে ভর্তি সিরাজগঞ্জ

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক নতুন আলো

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬


দুই বছর ধরে শিক্ষার্থীশূন্য সিরাজগঞ্জের বওলাতলা প্রাথমিক বিদ্যালয়

প্রকাশের তারিখ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

প্রতিদিন নিয়ম মেনে সকালেই খোলে স্কুলের দরজা, ওড়ে লাল-সবুজের জাতীয় পতাকা। শিক্ষকেরা হাজির হয়ে দাপ্তরিক খাতাপত্রে সইও করেন এবং মাস শেষে নিয়মিত বেতন তুলে নেন। কিন্তু শ্রেণিকক্ষে নেই কোনো শিক্ষার্থীর কোলাহল, বাজে না অ্যাসেম্বলি বা ছুটির ঘণ্টা। গত প্রায় দুই বছর ধরে সম্পূর্ণ শিক্ষার্থীশূন্য অবস্থায় পার হচ্ছে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার হাটিকুমরুল ইউনিয়নের বওলাতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

১৯৮১ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়টি ২০১৪ সালে জাতীয়করণ করা হয়। তবে দীর্ঘদিনের শিক্ষক অবহেলা, শিক্ষার নিম্নমান এবং শিক্ষা বিভাগের কার্যকর তদারকির অভাবে একে একে সব শিক্ষার্থী মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। ভবনের খাতায় প্রথম থেকে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত কেবল ১১ জন শিক্ষার্থীর নাম দেখা গেলেও বাস্তবে ক্লাসে কেউ উপস্থিত হয় না। ফলে পরীক্ষা বা পাঠদান—সবই বন্ধ রয়েছে। ব্যবহার না থাকায় খেলার মাঠ এখন বড় ঘাস ও আগাছায় ঢেকে গেছে, জং ধরেছে বারান্দার গ্রিলে আর দেয়ালে জমেছে ময়লার আস্তরণ।

২০২৪ সালের জুনে বিদ্যালয়টিতে প্রধান শিক্ষক সুশীল কুমারসহ সহকারী শিক্ষক আল মামুন ও মুনি আক্তার নতুন করে যোগদান করেন। তাঁরা আশপাশের বাড়ি বাড়ি ঘুরে অভিভাবকদের কাছে একাধিকবার আকুতি জানালেও আস্থা পাননি। আশপাশের প্রায় ৭৫টি পরিবারের অভিভাবকেরা এখন তাঁদের সন্তানদের সলঙ্গা কেজি স্কুল, মোস্তফা কেজি স্কুলসহ নিকটস্থ বিভিন্ন কিন্ডারগার্টেন ও মাদ্রাসায় পড়াচ্ছেন। শিক্ষার্থী সংগ্রহে ব্যর্থতার কারণে সম্প্রতি উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে এই তিন শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

শিক্ষকদের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সঠিক তদারকি ছিল না। উল্লাপাড়া উপজেলার ২৭৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনের জন্য ১১ জন সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার পদ থাকলেও দীর্ঘ এক বছর ধরে মাত্র একজন দিয়ে কাজ চালানো হচ্ছিল। ফলে সঠিক নজরদারির অভাবে স্কুলটি এই সংকটে পড়েছে।


উল্লাপাড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মুস্তাফিজুর রহমান জানান, বিষয়টি জানার পরপরই পরিদর্শন পরিচালনা করা হয় এবং শিক্ষার্থী আনয়ন ব্যর্থতায় শিক্ষকদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সুধীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে পাশের এলাকার শিক্ষার্থীদের ফিরিয়ে এনে বিদ্যালয়টি চালুর সমন্বিত প্রয়াস চালানো হচ্ছে।


দৈনিক নতুন আলো

প্রকাশক : সাদিয়া নূর পূর্ণ
সম্পাদক : নাহিদ হোসেন
নির্বাহী সম্পাদক : মোঃ ছিরু মিয়া

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক নতুন আলো