প্রতিদিন নিয়ম মেনে সকালেই খোলে স্কুলের দরজা, ওড়ে লাল-সবুজের জাতীয় পতাকা। শিক্ষকেরা হাজির হয়ে দাপ্তরিক খাতাপত্রে সইও করেন এবং মাস শেষে নিয়মিত বেতন তুলে নেন। কিন্তু শ্রেণিকক্ষে নেই কোনো শিক্ষার্থীর কোলাহল, বাজে না অ্যাসেম্বলি বা ছুটির ঘণ্টা। গত প্রায় দুই বছর ধরে সম্পূর্ণ শিক্ষার্থীশূন্য অবস্থায় পার হচ্ছে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার হাটিকুমরুল ইউনিয়নের বওলাতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
১৯৮১ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়টি ২০১৪ সালে জাতীয়করণ করা হয়। তবে দীর্ঘদিনের শিক্ষক অবহেলা, শিক্ষার নিম্নমান এবং শিক্ষা বিভাগের কার্যকর তদারকির অভাবে একে একে সব শিক্ষার্থী মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। ভবনের খাতায় প্রথম থেকে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত কেবল ১১ জন শিক্ষার্থীর নাম দেখা গেলেও বাস্তবে ক্লাসে কেউ উপস্থিত হয় না। ফলে পরীক্ষা বা পাঠদান—সবই বন্ধ রয়েছে। ব্যবহার না থাকায় খেলার মাঠ এখন বড় ঘাস ও আগাছায় ঢেকে গেছে, জং ধরেছে বারান্দার গ্রিলে আর দেয়ালে জমেছে ময়লার আস্তরণ।
২০২৪ সালের জুনে বিদ্যালয়টিতে প্রধান শিক্ষক সুশীল কুমারসহ সহকারী শিক্ষক আল মামুন ও মুনি আক্তার নতুন করে যোগদান করেন। তাঁরা আশপাশের বাড়ি বাড়ি ঘুরে অভিভাবকদের কাছে একাধিকবার আকুতি জানালেও আস্থা পাননি। আশপাশের প্রায় ৭৫টি পরিবারের অভিভাবকেরা এখন তাঁদের সন্তানদের সলঙ্গা কেজি স্কুল, মোস্তফা কেজি স্কুলসহ নিকটস্থ বিভিন্ন কিন্ডারগার্টেন ও মাদ্রাসায় পড়াচ্ছেন। শিক্ষার্থী সংগ্রহে ব্যর্থতার কারণে সম্প্রতি উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে এই তিন শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
শিক্ষকদের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সঠিক তদারকি ছিল না। উল্লাপাড়া উপজেলার ২৭৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনের জন্য ১১ জন সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার পদ থাকলেও দীর্ঘ এক বছর ধরে মাত্র একজন দিয়ে কাজ চালানো হচ্ছিল। ফলে সঠিক নজরদারির অভাবে স্কুলটি এই সংকটে পড়েছে।
উল্লাপাড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মুস্তাফিজুর রহমান জানান, বিষয়টি জানার পরপরই পরিদর্শন পরিচালনা করা হয় এবং শিক্ষার্থী আনয়ন ব্যর্থতায় শিক্ষকদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সুধীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে পাশের এলাকার শিক্ষার্থীদের ফিরিয়ে এনে বিদ্যালয়টি চালুর সমন্বিত প্রয়াস চালানো হচ্ছে।
বিষয় : শিক্ষক স্কুলে ভর্তি সিরাজগঞ্জ

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রতিদিন নিয়ম মেনে সকালেই খোলে স্কুলের দরজা, ওড়ে লাল-সবুজের জাতীয় পতাকা। শিক্ষকেরা হাজির হয়ে দাপ্তরিক খাতাপত্রে সইও করেন এবং মাস শেষে নিয়মিত বেতন তুলে নেন। কিন্তু শ্রেণিকক্ষে নেই কোনো শিক্ষার্থীর কোলাহল, বাজে না অ্যাসেম্বলি বা ছুটির ঘণ্টা। গত প্রায় দুই বছর ধরে সম্পূর্ণ শিক্ষার্থীশূন্য অবস্থায় পার হচ্ছে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার হাটিকুমরুল ইউনিয়নের বওলাতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
১৯৮১ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়টি ২০১৪ সালে জাতীয়করণ করা হয়। তবে দীর্ঘদিনের শিক্ষক অবহেলা, শিক্ষার নিম্নমান এবং শিক্ষা বিভাগের কার্যকর তদারকির অভাবে একে একে সব শিক্ষার্থী মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। ভবনের খাতায় প্রথম থেকে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত কেবল ১১ জন শিক্ষার্থীর নাম দেখা গেলেও বাস্তবে ক্লাসে কেউ উপস্থিত হয় না। ফলে পরীক্ষা বা পাঠদান—সবই বন্ধ রয়েছে। ব্যবহার না থাকায় খেলার মাঠ এখন বড় ঘাস ও আগাছায় ঢেকে গেছে, জং ধরেছে বারান্দার গ্রিলে আর দেয়ালে জমেছে ময়লার আস্তরণ।
২০২৪ সালের জুনে বিদ্যালয়টিতে প্রধান শিক্ষক সুশীল কুমারসহ সহকারী শিক্ষক আল মামুন ও মুনি আক্তার নতুন করে যোগদান করেন। তাঁরা আশপাশের বাড়ি বাড়ি ঘুরে অভিভাবকদের কাছে একাধিকবার আকুতি জানালেও আস্থা পাননি। আশপাশের প্রায় ৭৫টি পরিবারের অভিভাবকেরা এখন তাঁদের সন্তানদের সলঙ্গা কেজি স্কুল, মোস্তফা কেজি স্কুলসহ নিকটস্থ বিভিন্ন কিন্ডারগার্টেন ও মাদ্রাসায় পড়াচ্ছেন। শিক্ষার্থী সংগ্রহে ব্যর্থতার কারণে সম্প্রতি উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে এই তিন শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
শিক্ষকদের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সঠিক তদারকি ছিল না। উল্লাপাড়া উপজেলার ২৭৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনের জন্য ১১ জন সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার পদ থাকলেও দীর্ঘ এক বছর ধরে মাত্র একজন দিয়ে কাজ চালানো হচ্ছিল। ফলে সঠিক নজরদারির অভাবে স্কুলটি এই সংকটে পড়েছে।
উল্লাপাড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মুস্তাফিজুর রহমান জানান, বিষয়টি জানার পরপরই পরিদর্শন পরিচালনা করা হয় এবং শিক্ষার্থী আনয়ন ব্যর্থতায় শিক্ষকদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সুধীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে পাশের এলাকার শিক্ষার্থীদের ফিরিয়ে এনে বিদ্যালয়টি চালুর সমন্বিত প্রয়াস চালানো হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন