পাহাড়, ঝিরিপথ আর ঘন জঙ্গলের আড়ালে লুকিয়ে থাকা এক নতুন রত্নের সন্ধান পেয়েছেন ভ্রমণপিপাসুরা। খাগড়াছড়ি জেলার দীঘিনালা উপজেলার গহীন অরণ্যে অবস্থিত এই বুনো ঝরনাটির নাম 'তোজেংমা'। শহরের ইট-পাথরের কোলাহল ছেড়ে যারা একদম নির্জন প্রকৃতির সান্নিধ্য ও শিহরণ জাগানো অ্যাডভেঞ্চার ভালোবাসেন, তাদের জন্য তোজেংমা এখন এক অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন গন্তব্য।
প্রকৃতির আপন খেয়ালে একটি বিশাল পাহাড় মাঝখান থেকে দুই ভাগ হয়ে যেন এক প্রাকৃতিকভাবে তৈরি গুহা বা দুর্গের রূপ ধারণ করে আছে। সেই গুহাসদৃশ পাহাড়ের ওপর থেকেই অনবরত আছড়ে পড়ছে শুভ্র পানির ফোয়ারা। স্থানীয় পাহাড়ি ঝিরিপথ ও পিচ্ছিল পাথর টপকে সুড়ঙ্গের মতো অংশে ঢুকলেই চোখে পড়ে এক অবিশ্বাস্য প্রাকৃতিক দৃশ্য। দুটি ভিন্ন ধারার পানি এসে এক জায়গায় মিশে তৈরি করেছে এক অপরূপ সুইমিং পুল বা প্রাকৃতিক বাথটাব।
উঁচু-নিচু টিলা, ঝোপঝাড় এবং ছোট-বড় পাহাড়ি ছড়া পার হয়ে এই তোজেংমা ঝরনায় পৌঁছাতে হয়। বিস্তীর্ণ ঝিরিপথে হাঁটার সময় মাথার ওপর গাছের ঘন সবুজ ডালপালা এবং দুপাশের নিঝুম বন তৈরি করে রহস্যময় এক পরিবেশ। ঝরনার আছড়ে পড়া জলের শীতলতা মুহূর্তেই দূর করে দেয় দীর্ঘ ট্র্যাকিংয়ের সব শারীরিক ক্লান্তি। প্রকৃতির অপার শান্তিতে নিজেকে ভিজিয়ে নিতে প্রতিদিন অ্যাডভেঞ্চারপ্রিয় পর্যটকরা ছুটে যাচ্ছেন এই নতুন পর্যটন স্পটটিতে।
ভ্রমণ সহায়িকা: কীভাবে যাবেন, কোথায় থাকবেন ও খাবেন :
কীভাবে যাবেন:
ঢাকা বা দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে দীঘিনালা: প্রথমে আপনাকে খাগড়াছড়ি বা সরাসরি দীঘিনালাগামী বাসে (শান্তি পরিবহন, শ্যামলী, সেন্টমার্টিন বা হানিফ এন্টারপ্রাইজ) উঠতে হবে। সায়েদাবাদ বা গাবতলী থেকে রাতের বাসে উঠলে ভোরেই পৌঁছে যাবেন দীঘিনালা বাসস্ট্যান্ড। (ভাড়া: ৭০০-৯০০ টাকা)।
দীঘিনালা থেকে আলমগীর টিলা: দীঘিনালা বাজার থেকে স্থানীয় লোকাল বাইক বা মোটরবাইক রিজার্ভ করে মাত্র ২০ মিনিটে পৌঁছে যান আলমগীর টিলায়।
হাইকিং ও ট্রেকিং: আলমগীর টিলা থেকেই তোজেংমার মূল পথ শুরু। পথটি অচেনা ও বুনো হওয়ায় নিরাপত্তার জন্য আলমগীর টিলা থেকেই অবশ্যই একজন দক্ষ স্থানীয় গাইড সাথে নিতে হবে। আলমগীর টিলা থেকে প্রায় ৩ থেকে সাড়ে ৩ ঘণ্টার পাহাড়ি পথ ও ঝিরিপথ হেঁটে পৌঁছে যাবেন কাঙ্ক্ষিত তোজেংমা ঝরনায়।
কোথায় থাকবেন:
দীঘিনালা গেস্টহাউস: দীঘিনালা বাজার ও বাসস্ট্যান্ডের আশপাশে বেশ কিছু মানসম্মত ও নিরাপদ বাজেট গেস্টহাউস এবং আবাসিক হোটেল রয়েছে (যেমন: দীঘিনালা রেস্ট হাউজ বা লোকাল গেস্টহাউস)।
খাগড়াছড়ি সদর: আপনি চাইলে খাগড়াছড়ি মূল শহরের পর্যটন মোটেল বা অন্যান্য ভালো মানের রেস্টহাউসে রাত কাটিয়ে পরদিন ভোরে দীঘিনালা এসে তোজেংমা ভ্রমণ সেরে সন্ধ্যায় আবার ফিরে যেতে পারেন।
খাওয়ার ব্যবস্থা:
খাবারের রেস্তোরাঁ: দীঘিনালা বাজারে বেশ কয়েকটি পরিচিত খাবার হোটেল রয়েছে। সেখানে পাহাড়ি ঐতিহ্যবাহী হাঁসের মাংস, কাপ্তাই হ্রদের টাটকা মাছ, দেশি মুরগি ও বিভিন্ন রকমের সুস্বাদু ভর্তা দিয়ে সাশ্রয়ী মূল্যে দুপুরের ও রাতের খাবার সেরে নিতে পারেন।
সাথে যা রাখবেন: তোজেংমা ঝরনা এলাকায় কোনো দোকানপাট নেই। তাই আলমগীর টিলা থেকেই ট্র্যাকিংয়ের জন্য পর্যাপ্ত খাবার পানি, শুকনো খাবার (বিস্কুট, খেজুর, স্যালাইন, চকলেট) কিনে সাথে নিয়ে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
ভ্রমণকারীদের জন্য বিশেষ টিপস:
ঝিরিপথ ও পিচ্ছিল পাথরে নিরাপদে হাঁটার জন্য ভালো গ্রিপের এনফিল্ড বা অ্যান্টি-স্লিপ ট্র্যাকিং শু পরুন। প্রকৃতির ক্ষতি হয় এমন কোনো প্লাস্টিক বা বর্জ্য সেখানে ফেলবেন না এবং পাহাড়ি সুরক্ষার স্বার্থে সবসময় গাইডের দিকনির্দেশনা মেনে চলুন।

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
পাহাড়, ঝিরিপথ আর ঘন জঙ্গলের আড়ালে লুকিয়ে থাকা এক নতুন রত্নের সন্ধান পেয়েছেন ভ্রমণপিপাসুরা। খাগড়াছড়ি জেলার দীঘিনালা উপজেলার গহীন অরণ্যে অবস্থিত এই বুনো ঝরনাটির নাম 'তোজেংমা'। শহরের ইট-পাথরের কোলাহল ছেড়ে যারা একদম নির্জন প্রকৃতির সান্নিধ্য ও শিহরণ জাগানো অ্যাডভেঞ্চার ভালোবাসেন, তাদের জন্য তোজেংমা এখন এক অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন গন্তব্য।
প্রকৃতির আপন খেয়ালে একটি বিশাল পাহাড় মাঝখান থেকে দুই ভাগ হয়ে যেন এক প্রাকৃতিকভাবে তৈরি গুহা বা দুর্গের রূপ ধারণ করে আছে। সেই গুহাসদৃশ পাহাড়ের ওপর থেকেই অনবরত আছড়ে পড়ছে শুভ্র পানির ফোয়ারা। স্থানীয় পাহাড়ি ঝিরিপথ ও পিচ্ছিল পাথর টপকে সুড়ঙ্গের মতো অংশে ঢুকলেই চোখে পড়ে এক অবিশ্বাস্য প্রাকৃতিক দৃশ্য। দুটি ভিন্ন ধারার পানি এসে এক জায়গায় মিশে তৈরি করেছে এক অপরূপ সুইমিং পুল বা প্রাকৃতিক বাথটাব।
উঁচু-নিচু টিলা, ঝোপঝাড় এবং ছোট-বড় পাহাড়ি ছড়া পার হয়ে এই তোজেংমা ঝরনায় পৌঁছাতে হয়। বিস্তীর্ণ ঝিরিপথে হাঁটার সময় মাথার ওপর গাছের ঘন সবুজ ডালপালা এবং দুপাশের নিঝুম বন তৈরি করে রহস্যময় এক পরিবেশ। ঝরনার আছড়ে পড়া জলের শীতলতা মুহূর্তেই দূর করে দেয় দীর্ঘ ট্র্যাকিংয়ের সব শারীরিক ক্লান্তি। প্রকৃতির অপার শান্তিতে নিজেকে ভিজিয়ে নিতে প্রতিদিন অ্যাডভেঞ্চারপ্রিয় পর্যটকরা ছুটে যাচ্ছেন এই নতুন পর্যটন স্পটটিতে।
ভ্রমণ সহায়িকা: কীভাবে যাবেন, কোথায় থাকবেন ও খাবেন :
কীভাবে যাবেন:
ঢাকা বা দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে দীঘিনালা: প্রথমে আপনাকে খাগড়াছড়ি বা সরাসরি দীঘিনালাগামী বাসে (শান্তি পরিবহন, শ্যামলী, সেন্টমার্টিন বা হানিফ এন্টারপ্রাইজ) উঠতে হবে। সায়েদাবাদ বা গাবতলী থেকে রাতের বাসে উঠলে ভোরেই পৌঁছে যাবেন দীঘিনালা বাসস্ট্যান্ড। (ভাড়া: ৭০০-৯০০ টাকা)।
দীঘিনালা থেকে আলমগীর টিলা: দীঘিনালা বাজার থেকে স্থানীয় লোকাল বাইক বা মোটরবাইক রিজার্ভ করে মাত্র ২০ মিনিটে পৌঁছে যান আলমগীর টিলায়।
হাইকিং ও ট্রেকিং: আলমগীর টিলা থেকেই তোজেংমার মূল পথ শুরু। পথটি অচেনা ও বুনো হওয়ায় নিরাপত্তার জন্য আলমগীর টিলা থেকেই অবশ্যই একজন দক্ষ স্থানীয় গাইড সাথে নিতে হবে। আলমগীর টিলা থেকে প্রায় ৩ থেকে সাড়ে ৩ ঘণ্টার পাহাড়ি পথ ও ঝিরিপথ হেঁটে পৌঁছে যাবেন কাঙ্ক্ষিত তোজেংমা ঝরনায়।
কোথায় থাকবেন:
দীঘিনালা গেস্টহাউস: দীঘিনালা বাজার ও বাসস্ট্যান্ডের আশপাশে বেশ কিছু মানসম্মত ও নিরাপদ বাজেট গেস্টহাউস এবং আবাসিক হোটেল রয়েছে (যেমন: দীঘিনালা রেস্ট হাউজ বা লোকাল গেস্টহাউস)।
খাগড়াছড়ি সদর: আপনি চাইলে খাগড়াছড়ি মূল শহরের পর্যটন মোটেল বা অন্যান্য ভালো মানের রেস্টহাউসে রাত কাটিয়ে পরদিন ভোরে দীঘিনালা এসে তোজেংমা ভ্রমণ সেরে সন্ধ্যায় আবার ফিরে যেতে পারেন।
খাওয়ার ব্যবস্থা:
খাবারের রেস্তোরাঁ: দীঘিনালা বাজারে বেশ কয়েকটি পরিচিত খাবার হোটেল রয়েছে। সেখানে পাহাড়ি ঐতিহ্যবাহী হাঁসের মাংস, কাপ্তাই হ্রদের টাটকা মাছ, দেশি মুরগি ও বিভিন্ন রকমের সুস্বাদু ভর্তা দিয়ে সাশ্রয়ী মূল্যে দুপুরের ও রাতের খাবার সেরে নিতে পারেন।
সাথে যা রাখবেন: তোজেংমা ঝরনা এলাকায় কোনো দোকানপাট নেই। তাই আলমগীর টিলা থেকেই ট্র্যাকিংয়ের জন্য পর্যাপ্ত খাবার পানি, শুকনো খাবার (বিস্কুট, খেজুর, স্যালাইন, চকলেট) কিনে সাথে নিয়ে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
ভ্রমণকারীদের জন্য বিশেষ টিপস:
ঝিরিপথ ও পিচ্ছিল পাথরে নিরাপদে হাঁটার জন্য ভালো গ্রিপের এনফিল্ড বা অ্যান্টি-স্লিপ ট্র্যাকিং শু পরুন। প্রকৃতির ক্ষতি হয় এমন কোনো প্লাস্টিক বা বর্জ্য সেখানে ফেলবেন না এবং পাহাড়ি সুরক্ষার স্বার্থে সবসময় গাইডের দিকনির্দেশনা মেনে চলুন।

আপনার মতামত লিখুন