সূর্য ওঠার আগেই থালাভর্তি দুপুরের খাবার হাতে নিয়ে বাঁশের সাঁকো আর কাঁচা পথ পেরিয়ে হাওরের ভেজা জমিতে নামেন নারী কৃষিশ্রমিকেরা। সারাদিন রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে ধান রোপণ, নিড়ানি ও আগাছা পরিষ্কারের কাজ করেন তাঁরা। দুপুরের তীব্র রোদে আইলে বসে সামান্য সময়ের জন্য খাওয়াদাওয়া আর একদণ্ডের বিশ্রাম—বোরো ও আমন মৌসুমে কিশোরগঞ্জের বিশাল হাওরাঞ্চলের এ যেন এক চিরপরিচিত চিত্র।
তবে উদয়াস্ত কায়িক পরিশ্রম করলেও আন্তর্জাতিক সমমজুরি দিবস কিংবা কোনো বিশ্ব শ্রম দিবস তাঁদের জীবনে ইতিবাচক কোনো পরিবর্তন আনে না। স্থানীয় হাওরে নারী শ্রমিকের ব্যাপক চাহিদা থাকলেও দিনশেষে মজুরি বন্টনে থেকে যাচ্ছে চরম বৈষম্য।
শুক্রবার সকালে অষ্টগ্রাম উপজেলার সদর এলাকা এবং পূর্ব অষ্টগ্রাম ইউনিয়নের একাধিক হাওর ঘুরে দেখা যায়, আমন ধান রোপণে পুরুষদের পাশাপাশি পূর্ণ গতিতে কাজ করছেন নারী শ্রমিকেরা। ধান রোপণ ও জমি পরিচর্যার একই ধরণের কাজে পুরুষ শ্রমিকেরা যেখানে দিনে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা বা তার বেশি মজুরি পাচ্ছেন, সেখানে নারী শ্রমিকদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে মাত্র ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা।
কলমা ইউনিয়নের ৪৩ বছর বয়সী নারী শ্রমিক সূচনা রাণী দাস আক্ষেপ প্রকাশ করে জানান, তারা পুরুষের চেয়ে কোনো অংশে কম কাজ করেন না, কিন্তু পারিশ্রমিক পান অর্ধেক। সমান শ্রমের সঠিক মূল্য পেলে সন্তান ও পরিবার নিয়ে কিছুটা স্বাচ্ছন্দে জীবনযাপন করা সম্ভব হতো বলে জানান পূর্ব অষ্টগ্রামের আরেক শ্রমিক সবিতা সরকার।
এ বিষয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও অষ্টগ্রাম সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সৈয়দ ফাইয়াজ হাসান বাবু বলেন, উৎপাদন খাতে নারীর অংশগ্রহণ প্রশংসনীয় হলেও মজুরি বৈষম্য অত্যন্ত দুঃখজনক। এই ব্যবধান দূর করতে হলে শ্রম নীতিমালার কঠোর প্রয়োগ প্রয়োজন।
মিঠামইন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. ওবায়দুল ইসলাম খাঁন অপু জানান, হাওরাঞ্চলে কৃষি শ্রমশক্তির সম্প্রসারণ ঘটাতে নারী শ্রমিকদের মজুরি বৈষম্য দূর করা জরুরি, যা নারীদের স্বাবলম্বী করার পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক উৎপাদন বাড়াবে। অন্যদিকে, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন পরিদপ্তরের উপমহাপরিচালক সৈয়দা সায়মা বেগম জানান, প্রাতিষ্ঠানিক খাতের পাশাপাশি কৃষিখাতেও এমন মজুরি বৈষম্য অনাকাঙ্ক্ষিত এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় তদারকি ও পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সূর্য ওঠার আগেই থালাভর্তি দুপুরের খাবার হাতে নিয়ে বাঁশের সাঁকো আর কাঁচা পথ পেরিয়ে হাওরের ভেজা জমিতে নামেন নারী কৃষিশ্রমিকেরা। সারাদিন রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে ধান রোপণ, নিড়ানি ও আগাছা পরিষ্কারের কাজ করেন তাঁরা। দুপুরের তীব্র রোদে আইলে বসে সামান্য সময়ের জন্য খাওয়াদাওয়া আর একদণ্ডের বিশ্রাম—বোরো ও আমন মৌসুমে কিশোরগঞ্জের বিশাল হাওরাঞ্চলের এ যেন এক চিরপরিচিত চিত্র।
তবে উদয়াস্ত কায়িক পরিশ্রম করলেও আন্তর্জাতিক সমমজুরি দিবস কিংবা কোনো বিশ্ব শ্রম দিবস তাঁদের জীবনে ইতিবাচক কোনো পরিবর্তন আনে না। স্থানীয় হাওরে নারী শ্রমিকের ব্যাপক চাহিদা থাকলেও দিনশেষে মজুরি বন্টনে থেকে যাচ্ছে চরম বৈষম্য।
শুক্রবার সকালে অষ্টগ্রাম উপজেলার সদর এলাকা এবং পূর্ব অষ্টগ্রাম ইউনিয়নের একাধিক হাওর ঘুরে দেখা যায়, আমন ধান রোপণে পুরুষদের পাশাপাশি পূর্ণ গতিতে কাজ করছেন নারী শ্রমিকেরা। ধান রোপণ ও জমি পরিচর্যার একই ধরণের কাজে পুরুষ শ্রমিকেরা যেখানে দিনে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা বা তার বেশি মজুরি পাচ্ছেন, সেখানে নারী শ্রমিকদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে মাত্র ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা।
কলমা ইউনিয়নের ৪৩ বছর বয়সী নারী শ্রমিক সূচনা রাণী দাস আক্ষেপ প্রকাশ করে জানান, তারা পুরুষের চেয়ে কোনো অংশে কম কাজ করেন না, কিন্তু পারিশ্রমিক পান অর্ধেক। সমান শ্রমের সঠিক মূল্য পেলে সন্তান ও পরিবার নিয়ে কিছুটা স্বাচ্ছন্দে জীবনযাপন করা সম্ভব হতো বলে জানান পূর্ব অষ্টগ্রামের আরেক শ্রমিক সবিতা সরকার।
এ বিষয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও অষ্টগ্রাম সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সৈয়দ ফাইয়াজ হাসান বাবু বলেন, উৎপাদন খাতে নারীর অংশগ্রহণ প্রশংসনীয় হলেও মজুরি বৈষম্য অত্যন্ত দুঃখজনক। এই ব্যবধান দূর করতে হলে শ্রম নীতিমালার কঠোর প্রয়োগ প্রয়োজন।
মিঠামইন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. ওবায়দুল ইসলাম খাঁন অপু জানান, হাওরাঞ্চলে কৃষি শ্রমশক্তির সম্প্রসারণ ঘটাতে নারী শ্রমিকদের মজুরি বৈষম্য দূর করা জরুরি, যা নারীদের স্বাবলম্বী করার পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক উৎপাদন বাড়াবে। অন্যদিকে, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন পরিদপ্তরের উপমহাপরিচালক সৈয়দা সায়মা বেগম জানান, প্রাতিষ্ঠানিক খাতের পাশাপাশি কৃষিখাতেও এমন মজুরি বৈষম্য অনাকাঙ্ক্ষিত এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় তদারকি ও পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন