মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় শনিবার ভোরের আলো ফুটতেই দেখা মিলেছে ঘন কুয়াশার চাদর। কুয়াশার তীব্রতায় পুরো রাস্তাঘাট, ফসলের মাঠ ও লোকালয় ঢাকা পড়ে যায়। একই সাথে হালকা ঠাণ্ডা বাতাস এবং ভোরের আমেজ প্রকৃতিতে বার্তা দিচ্ছে শীতের আগমনীর। সড়কে সামনের অংশ স্পষ্ট না দেখা যাওয়ায় চরম সতর্কতা অবলম্বন করে হেডলাইট জ্বালিয়ে বাস, অটো ও ভ্যানসহ অন্যান্য যানবাহন চলাচল করতে দেখা গেছে।
স্থানীয় অধিবাসীদের সূত্রে জানা যায়, চলতি শরৎ-হেমন্তের এই সময়টিতে শনিবার (১০ অক্টোবর ২০২৬) সকালেই সবচেয়ে ঘন কুয়াশা পরিলক্ষিত হয়েছে। বিগত কয়েক দিন শেষরাতে হালকা শীত অনুভূত হলেও আজকের কুয়াশার ঘনত্ব ছিল বেশ বেশি। ফলে ভোরবেলা জরুরি কাজে কিংবা জীবিকার প্রয়োজনে বাইরে বের হওয়া মানুষদের কিছুটা দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এমনকি কুয়াশার শিশিরে পথচারীদের জামাকাপড় পর্যন্ত ভিজে যেতে দেখা যায়।
সড়কে চলাচলকারী চালকেরা জানান, কুয়াশার কারণে ১০-১৫ হাত দূরের বস্তুও স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে না, যা সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। বামন্দী-তেঁতুলবেড়িয়া রুটের একাধিক অটো ও পাখিভ্যান চালক জানান, অত্যন্ত ধীরগতিতে ছোট লাইট বা হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে তাঁদের। দুর্ঘটনা এড়াতে এই পরিস্থিতিতে সব ধরণের যানবাহন চালককে অতিরিক্ত সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তাঁরা।
অন্যান্য শ্রমজীবী মানুষের পাশাপাশি গাংনীর ষাটোর্ধ্ব রিপন আলীর মতো দিনমজুরেরা কুয়াশা ও হালকা ঠাণ্ডা উপেক্ষা করেই ভোরের আলোয় কাজে নেমে পড়েন। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ঋতুবৈচিত্র্যের নিয়মিত রূপ যে বদলে যাচ্ছে, সে বিষয়েও স্থানীয় বাসিন্দারা সংশয় প্রকাশ করেন।
এদিকে ফসলের সুরক্ষার বিষয়ে গাংনী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন আশ্বস্ত করে জানান, বর্তমানে ভোরের দিকে যে পরিমাণে কুয়াশা পড়ছে, তাতে শাকসবজি বা ফসলের ক্ষতির কোনো আশঙ্কা নেই; বরং এটি কিছু ফসলের জন্য উপকারী। তবে পরবর্তীতে তীব্র শীতের মৌসুমে অতিমাত্রায় ঘন কুয়াশা স্থায়ী হলে সে ক্ষেত্রে কিছু নির্দিষ্ট ফসলের বাড়তি যত্ন ও স্প্রে প্রয়োগের প্রয়োজন হতে পারে।
বিষয় : মেহেরপুর খুলনা বিভাগ গাংনী জেলার খবর শীত

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ অক্টোবর ২০২৬
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় শনিবার ভোরের আলো ফুটতেই দেখা মিলেছে ঘন কুয়াশার চাদর। কুয়াশার তীব্রতায় পুরো রাস্তাঘাট, ফসলের মাঠ ও লোকালয় ঢাকা পড়ে যায়। একই সাথে হালকা ঠাণ্ডা বাতাস এবং ভোরের আমেজ প্রকৃতিতে বার্তা দিচ্ছে শীতের আগমনীর। সড়কে সামনের অংশ স্পষ্ট না দেখা যাওয়ায় চরম সতর্কতা অবলম্বন করে হেডলাইট জ্বালিয়ে বাস, অটো ও ভ্যানসহ অন্যান্য যানবাহন চলাচল করতে দেখা গেছে।
স্থানীয় অধিবাসীদের সূত্রে জানা যায়, চলতি শরৎ-হেমন্তের এই সময়টিতে শনিবার (১০ অক্টোবর ২০২৬) সকালেই সবচেয়ে ঘন কুয়াশা পরিলক্ষিত হয়েছে। বিগত কয়েক দিন শেষরাতে হালকা শীত অনুভূত হলেও আজকের কুয়াশার ঘনত্ব ছিল বেশ বেশি। ফলে ভোরবেলা জরুরি কাজে কিংবা জীবিকার প্রয়োজনে বাইরে বের হওয়া মানুষদের কিছুটা দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এমনকি কুয়াশার শিশিরে পথচারীদের জামাকাপড় পর্যন্ত ভিজে যেতে দেখা যায়।
সড়কে চলাচলকারী চালকেরা জানান, কুয়াশার কারণে ১০-১৫ হাত দূরের বস্তুও স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে না, যা সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। বামন্দী-তেঁতুলবেড়িয়া রুটের একাধিক অটো ও পাখিভ্যান চালক জানান, অত্যন্ত ধীরগতিতে ছোট লাইট বা হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে তাঁদের। দুর্ঘটনা এড়াতে এই পরিস্থিতিতে সব ধরণের যানবাহন চালককে অতিরিক্ত সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তাঁরা।
অন্যান্য শ্রমজীবী মানুষের পাশাপাশি গাংনীর ষাটোর্ধ্ব রিপন আলীর মতো দিনমজুরেরা কুয়াশা ও হালকা ঠাণ্ডা উপেক্ষা করেই ভোরের আলোয় কাজে নেমে পড়েন। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ঋতুবৈচিত্র্যের নিয়মিত রূপ যে বদলে যাচ্ছে, সে বিষয়েও স্থানীয় বাসিন্দারা সংশয় প্রকাশ করেন।
এদিকে ফসলের সুরক্ষার বিষয়ে গাংনী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন আশ্বস্ত করে জানান, বর্তমানে ভোরের দিকে যে পরিমাণে কুয়াশা পড়ছে, তাতে শাকসবজি বা ফসলের ক্ষতির কোনো আশঙ্কা নেই; বরং এটি কিছু ফসলের জন্য উপকারী। তবে পরবর্তীতে তীব্র শীতের মৌসুমে অতিমাত্রায় ঘন কুয়াশা স্থায়ী হলে সে ক্ষেত্রে কিছু নির্দিষ্ট ফসলের বাড়তি যত্ন ও স্প্রে প্রয়োগের প্রয়োজন হতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন