মুকসুদপুর    বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
দৈনিক নতুন আলো
প্রকাশ : সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

গোপালগঞ্জ পুলিশ লাইন্সে মাস্টার প্যারেড ও কল্যাণসভা অনুষ্ঠিত

গোপালগঞ্জ পুলিশ লাইন্সে মাস্টার প্যারেড ও কল্যাণসভা অনুষ্ঠিত

কোটালীপাড়া ও টুঙ্গিপাড়ায় দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি: সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান

কোটালীপাড়া ও টুঙ্গিপাড়ায় দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি: সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান

মুকসুদপুরে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত

মুকসুদপুরে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় পদ্মায় দ্বিতীয় দফায় ভয়াবহ ভাঙন: বিলীন ৫০০ বিঘা আবাদি জমি

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় পদ্মায় দ্বিতীয় দফায় ভয়াবহ ভাঙন: বিলীন ৫০০ বিঘা আবাদি জমি

গোপালগঞ্জে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

গোপালগঞ্জে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নে মুকসুদপুরে মাঠ পর্যায়ের সুপারভাইজারদের প্রশিক্ষণ ও ল্যাপটপ প্রদান

ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নে মুকসুদপুরে মাঠ পর্যায়ের সুপারভাইজারদের প্রশিক্ষণ ও ল্যাপটপ প্রদান

মুকসুদপুরে পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় মতবিনিময় সভা

মুকসুদপুরে পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় মতবিনিময় সভা

মেহেরপুরের গাংনীতে ঘন কুয়াশায় নামল শীতের আমেজ, সড়কে ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন

মেহেরপুরের গাংনীতে ঘন কুয়াশায় নামল শীতের আমেজ, সড়কে ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন

সারাদেশ

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় পদ্মায় দ্বিতীয় দফায় ভয়াবহ ভাঙন: বিলীন ৫০০ বিঘা আবাদি জমি

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় পদ্মায় দ্বিতীয় দফায় ভয়াবহ ভাঙন: বিলীন ৫০০ বিঘা আবাদি জমি
ছবি: সংগৃহীত

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলায় পদ্মা নদীর পানি কমার পর শুরু হওয়া দ্বিতীয় দফার নদীভাঙন চরম ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বিগত দুই মাসে অব্যাহত এই ভাঙনে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে অন্তত ৫০০ বিঘা আবাদি জমি, যার বড় অংশজুড়ে ছিল এলাকার প্রধান অর্থকরী ফসল পানের বরজ। ফলে তীব্র নিঃস্বতার কবলে পড়েছেন স্থানীয় শত শত কৃষক ও পানচাষি।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের মাধবপুর, লিসেনদিয়া, রায়টা ও আরকান্দি এবং জুনিয়াদহ ইউনিয়নজুড়ে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে পদ্মার তাণ্ডব অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে এই দুই ইউনিয়নে প্রায় দুই হাজার বিঘা ফসলি জমি নদীতে তলিয়ে গেছে। এই অঞ্চলে ব্যাপকভাবে পান চাষ হওয়ায় এবং তা বিলীন হতে থাকায় দেশের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী ‘কুচিয়ামোড়া পানবাজার’-এর অস্তিত্বও এখন চরম হুমকির মুখে।

ক্ষতিগ্রস্ত পানচাষি ও ব্যবসায়ী নেতা আসলাম হোসেন জানান, প্রতিদিনই গড়ে ৯ থেকে ১০ বিঘা জমি নদীতে চলে যাচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডকে (পাউবো) একাধিকবার গণআবেদন করেও কোনো কার্যকর প্রতিকার পাওয়া যায়নি। ইতোমধ্যে গত এক বছরে কৃষকরা প্রায় ৩০ হাজার পিলি পানবরজ হারিয়েছেন। রায়টা এলাকার চাষি নাসিম হোসেন জানান, সম্প্রতি তাঁর চার বিঘা জমি ও ২২০ পিলি বরজ বিলীন হওয়ায় তিনি নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। অন্যদিকে মাধবপুরের কৃষক আব্দুল জলিল জানান, সাত বিঘা জমির মধ্যে এখন তাঁর কেবল চার কাঠা অবশিষ্ট রয়েছে।

এ বিষয়ে ভেড়ামারা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মাহমুদা সুলতানা জানান, নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত বাহাদুরপুর ও জুনিয়াদহ ইউনিয়নের প্রায় ৩২০ জন কৃষকের তালিকা প্রস্তুত করে জেলা কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে, যা থেকে অতি দ্রুত সহায়তা প্রদান করা হবে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আসফাউদদৌলা ভাঙনের তীব্রতার কথা স্বীকার করে জানান, প্রায় পাঁচ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে তিন কিলোমিটার অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।জরুরি বরাদ্দে এটি রোধ করা সম্ভব নয় বিধায় স্থায়ী একটি প্রকল্পের প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে, যা অনুমোদিত হলে মূল কাজ শুরু হবে।


ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আমিরুল আরাফাত জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা একাধিকবার পরিদর্শন করে পাউবোকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে জোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও পানচাষিদের উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করা হবে।

বিষয় : পদ্মা ভাঙন

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক নতুন আলো

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬


কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় পদ্মায় দ্বিতীয় দফায় ভয়াবহ ভাঙন: বিলীন ৫০০ বিঘা আবাদি জমি

প্রকাশের তারিখ : ১২ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলায় পদ্মা নদীর পানি কমার পর শুরু হওয়া দ্বিতীয় দফার নদীভাঙন চরম ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বিগত দুই মাসে অব্যাহত এই ভাঙনে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে অন্তত ৫০০ বিঘা আবাদি জমি, যার বড় অংশজুড়ে ছিল এলাকার প্রধান অর্থকরী ফসল পানের বরজ। ফলে তীব্র নিঃস্বতার কবলে পড়েছেন স্থানীয় শত শত কৃষক ও পানচাষি।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের মাধবপুর, লিসেনদিয়া, রায়টা ও আরকান্দি এবং জুনিয়াদহ ইউনিয়নজুড়ে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে পদ্মার তাণ্ডব অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে এই দুই ইউনিয়নে প্রায় দুই হাজার বিঘা ফসলি জমি নদীতে তলিয়ে গেছে। এই অঞ্চলে ব্যাপকভাবে পান চাষ হওয়ায় এবং তা বিলীন হতে থাকায় দেশের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী ‘কুচিয়ামোড়া পানবাজার’-এর অস্তিত্বও এখন চরম হুমকির মুখে।

ক্ষতিগ্রস্ত পানচাষি ও ব্যবসায়ী নেতা আসলাম হোসেন জানান, প্রতিদিনই গড়ে ৯ থেকে ১০ বিঘা জমি নদীতে চলে যাচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডকে (পাউবো) একাধিকবার গণআবেদন করেও কোনো কার্যকর প্রতিকার পাওয়া যায়নি। ইতোমধ্যে গত এক বছরে কৃষকরা প্রায় ৩০ হাজার পিলি পানবরজ হারিয়েছেন। রায়টা এলাকার চাষি নাসিম হোসেন জানান, সম্প্রতি তাঁর চার বিঘা জমি ও ২২০ পিলি বরজ বিলীন হওয়ায় তিনি নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। অন্যদিকে মাধবপুরের কৃষক আব্দুল জলিল জানান, সাত বিঘা জমির মধ্যে এখন তাঁর কেবল চার কাঠা অবশিষ্ট রয়েছে।

এ বিষয়ে ভেড়ামারা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মাহমুদা সুলতানা জানান, নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত বাহাদুরপুর ও জুনিয়াদহ ইউনিয়নের প্রায় ৩২০ জন কৃষকের তালিকা প্রস্তুত করে জেলা কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে, যা থেকে অতি দ্রুত সহায়তা প্রদান করা হবে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আসফাউদদৌলা ভাঙনের তীব্রতার কথা স্বীকার করে জানান, প্রায় পাঁচ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে তিন কিলোমিটার অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।জরুরি বরাদ্দে এটি রোধ করা সম্ভব নয় বিধায় স্থায়ী একটি প্রকল্পের প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে, যা অনুমোদিত হলে মূল কাজ শুরু হবে।

ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আমিরুল আরাফাত জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা একাধিকবার পরিদর্শন করে পাউবোকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে জোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও পানচাষিদের উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করা হবে।


দৈনিক নতুন আলো

প্রকাশক : সাদিয়া নূর পূর্ণ
সম্পাদক : নাহিদ হোসেন
নির্বাহী সম্পাদক : মোঃ ছিরু মিয়া

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক নতুন আলো