সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত এলাকা খামিস মুশাইত ও রাজধানী রিয়াদকে লক্ষ্য করে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহী বাহিনীর ছোড়া ৩টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই ধ্বংস করার দাবি করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। একই সময়ে ইয়েমেনের বাব আল-মান্দেব প্রণালির নিকটবর্তী সীমান্ত এলাকায় তীব্র সামরিক সংঘর্ষের পর সৌদি জোটের ৮৫ জন সেনাকে বন্দি করার বিস্ফোরক দাবি করেছে হুথিরা। বন্দিদের মধ্যে অন্তত ৪৭ জন পাকিস্তানি সেনা রয়েছেন বলে দলটির সামরিক মুখপাত্র ইয়াহইয়া সারি নিশ্চিত করেছেন।
সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বিবৃতিতে জানান, রিয়াদ অভিমুখে একটি এবং ইয়েমেন সীমান্তঘেঁষা খামিস মুশাইত শহরের সামরিক ঘাটি লক্ষ্য করে ছোড়া আরও দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে। তবে সোমবার রাতে রিয়াদের আকাশে একাধিক শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ এবং মোবাইল ফোনে হঠাৎ আসা অতর্কিত আকাশ হামলার সতর্কবার্তায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
হুথি মুখপাত্র ইয়াহইয়া সারি আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্স ও যাত্রীদের সতর্ক করে জানান, মক্কা ও মদিনা ব্যতীত সৌদি আরবের প্রায় সব বিমানবন্দর এখন হামলা ঝুঁকিতে রয়েছে। রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গত শনি ও রবিবারের প্রাণঘাতী হামলায় ১৪ জন নিহত ও শতাধিক মানুষ আহত হওয়ার পর থেকে বিমানবন্দরটি বন্ধ রয়েছে। আগামী শনিবার পর্যন্ত রিয়াদের সব ধরনের আকাশপথ ব্যবহার স্থগিত রাখা হয়েছে, যার ফলে ইতিহাদ এয়ারওয়েজ, গালফ এয়ার ও ডেল্টার মতো আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলো রিয়াদগামী তাদের সমস্ত ফ্লাইট বাতিল করেছে।
এ ঘটনার পর সৌদি আরবের পেট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতা ও আগাম সতর্কসংকেত দিতে ব্যর্থ হওয়ার কারণ অনুসন্ধান করতে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু করেছে রিয়াদ। প্রাথমিক অনুসন্ধানে ধারণা করা হচ্ছে, প্রথমে ঝাঁকে ঝাঁকে ড্রোন পাঠিয়ে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ব্যস্ত রেখে পরবর্তীতে গতিপথ পরিবর্তনকারী আধুনিক ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে বিমানবন্দরগুলোতে আঘাত হানে হুথিরা।
এমন নাজুক পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটনের সম্ভাব্য সামরিক হস্তক্ষেপের বিষয়ে তীব্র ক্ষোভ ও হুশিয়ারি বার্তা দিয়েছে হুথিদের রাজনৈতিক কাউন্সিল। হুতি নেতা মোহাম্মদ আল-বুখাইতি স্পষ্ট জানান, যুক্তরাষ্ট্র কোনো সামরিক অভিযানে অংশ নিলে অঞ্চলে থাকা তাদের সমস্ত স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনা ও ঘাঁটিতে দ্রুত ও ভয়াবহ পাল্টা আঘাত হানা হবে। আন্তর্জাতিক সূত্র আলজাজিরা ও রাডার আফ্রিকার তথ্যানুসারে, রিয়াদের আসন্ন আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ সম্মেলন ও অর্থনৈতিক ‘ভিশন ২০৩০’ বাস্তবায়নের পরিবেশ এখন চরম নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে।
বিষয় : সৌদি আরব পাকিস্তান হুতি বিদ্রোহী ইয়েমেন

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ অক্টোবর ২০২৬
সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত এলাকা খামিস মুশাইত ও রাজধানী রিয়াদকে লক্ষ্য করে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহী বাহিনীর ছোড়া ৩টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই ধ্বংস করার দাবি করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। একই সময়ে ইয়েমেনের বাব আল-মান্দেব প্রণালির নিকটবর্তী সীমান্ত এলাকায় তীব্র সামরিক সংঘর্ষের পর সৌদি জোটের ৮৫ জন সেনাকে বন্দি করার বিস্ফোরক দাবি করেছে হুথিরা। বন্দিদের মধ্যে অন্তত ৪৭ জন পাকিস্তানি সেনা রয়েছেন বলে দলটির সামরিক মুখপাত্র ইয়াহইয়া সারি নিশ্চিত করেছেন।
সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বিবৃতিতে জানান, রিয়াদ অভিমুখে একটি এবং ইয়েমেন সীমান্তঘেঁষা খামিস মুশাইত শহরের সামরিক ঘাটি লক্ষ্য করে ছোড়া আরও দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে। তবে সোমবার রাতে রিয়াদের আকাশে একাধিক শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ এবং মোবাইল ফোনে হঠাৎ আসা অতর্কিত আকাশ হামলার সতর্কবার্তায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
হুথি মুখপাত্র ইয়াহইয়া সারি আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্স ও যাত্রীদের সতর্ক করে জানান, মক্কা ও মদিনা ব্যতীত সৌদি আরবের প্রায় সব বিমানবন্দর এখন হামলা ঝুঁকিতে রয়েছে। রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গত শনি ও রবিবারের প্রাণঘাতী হামলায় ১৪ জন নিহত ও শতাধিক মানুষ আহত হওয়ার পর থেকে বিমানবন্দরটি বন্ধ রয়েছে। আগামী শনিবার পর্যন্ত রিয়াদের সব ধরনের আকাশপথ ব্যবহার স্থগিত রাখা হয়েছে, যার ফলে ইতিহাদ এয়ারওয়েজ, গালফ এয়ার ও ডেল্টার মতো আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলো রিয়াদগামী তাদের সমস্ত ফ্লাইট বাতিল করেছে।
এ ঘটনার পর সৌদি আরবের পেট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতা ও আগাম সতর্কসংকেত দিতে ব্যর্থ হওয়ার কারণ অনুসন্ধান করতে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু করেছে রিয়াদ। প্রাথমিক অনুসন্ধানে ধারণা করা হচ্ছে, প্রথমে ঝাঁকে ঝাঁকে ড্রোন পাঠিয়ে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ব্যস্ত রেখে পরবর্তীতে গতিপথ পরিবর্তনকারী আধুনিক ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে বিমানবন্দরগুলোতে আঘাত হানে হুথিরা।
এমন নাজুক পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটনের সম্ভাব্য সামরিক হস্তক্ষেপের বিষয়ে তীব্র ক্ষোভ ও হুশিয়ারি বার্তা দিয়েছে হুথিদের রাজনৈতিক কাউন্সিল। হুতি নেতা মোহাম্মদ আল-বুখাইতি স্পষ্ট জানান, যুক্তরাষ্ট্র কোনো সামরিক অভিযানে অংশ নিলে অঞ্চলে থাকা তাদের সমস্ত স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনা ও ঘাঁটিতে দ্রুত ও ভয়াবহ পাল্টা আঘাত হানা হবে। আন্তর্জাতিক সূত্র আলজাজিরা ও রাডার আফ্রিকার তথ্যানুসারে, রিয়াদের আসন্ন আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ সম্মেলন ও অর্থনৈতিক ‘ভিশন ২০৩০’ বাস্তবায়নের পরিবেশ এখন চরম নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে।

আপনার মতামত লিখুন