রাজধানী ঢাকার চিরচেনা যানজট নিরসন এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাকে আধুনিকায়নের লক্ষ্যে এক গুচ্ছ বৈপ্লবিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে আয়োজিত এক বিশেষ সভায় এসব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৈঠক শেষে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, স্বল্পমেয়াদী পরিকল্পনাগুলো সঠিক সময়ে বাস্তবায়ন করা গেলে আগামী এপ্রিল মাসের শেষ নাগাদ ঢাকা শহরের যানজট পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি সম্ভব হবে।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাকে ডিজিটাল ও যুগোপযোগী করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ঢাকাকে সচল করতে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ ১২০টি ট্রাফিক সিগন্যাল পর্যায়ক্রমে দেশীয় পদ্ধতিতে অটোমেশনের আওতায় আনা হবে। এছাড়া শহরের ভেতর চলাচলকারী সকল সিটি বাসকে জিপিএস (GPS) সিস্টেমের আওতায় আনা হচ্ছে।
শহরের অভ্যন্তরীণ যানজট কমাতে ঢাকার ভেতরে থাকা ৫টি আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল দ্রুত সময়ের মধ্যে শহরের বাইরে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এই টার্মিনালগুলো পরবর্তীতে শুধুমাত্র সিটি সার্ভিসের জন্য ব্যবহার করা হবে। এছাড়া রাস্তা দখল করে থাকা যত্রতত্র বাস কাউন্টারগুলো অবিলম্বে অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঢাকার চার পাশে নতুন বাইপাস সড়ক নির্মাণের পাশাপাশি শহরের ভেতরে প্রয়োজনীয় স্থানে ওভারপাস ও আন্ডারপাস নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। রেলক্রসিংগুলোতে প্রচলিত ম্যানুয়াল ব্যবস্থার বদলে অটো সিগন্যাল লাইটিং সিস্টেম চালু করা হবে। এছাড়া রাস্তার মাঝখানে থাকা বৈদ্যুতিক খুঁটি দ্রুত সরিয়ে রাস্তা প্রশস্ত করার কাজ শুরু হবে।
পথচারীদের চলাচলের সুবিধার্থে ঢাকার অধিকাংশ ফুটওভার ব্রিজে চলন্ত সিঁড়ি স্থাপন করা হবে। বিশেষ করে হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকার ফুটওভার ব্রিজগুলোতে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি লিফট স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেই সাথে রাস্তার দু-পাশের ফুটপাত দখলমুক্ত করে সাধারণ মানুষের হাঁটার উপযোগী করা হবে।
এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের সঙ্গে সমন্বয় করবেন শ্রমিক নেতা ও সংসদ সদস্য শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আশা প্রকাশ করেছেন যে, আগামী ৭ এপ্রিলের মধ্যে প্রস্তাবিত পরিকল্পনার অধিকাংশ বাস্তবায়ন শুরু হবে।
ডিএসসিসি প্রশাসক আবদুল সালাম বলেন, প্রধানমন্ত্রী ঢাকাকে সচল করতে বারবার জোর দিচ্ছেন। অটোরিকশা চালকদের বিকল্প কর্মসংস্থানের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। আমরা দ্রুতই এগুলোকে শৃঙ্খলার মধ্যে নিয়ে আসব।ডিএনসিসি প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন জানান, প্রধানমন্ত্রীর বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে সিটি করপোরেশন, রাজউক ও পুলিশ বিভাগ সমন্বিতভাবে কাজ শুরু করবে।
উক্ত সভায় উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব, পুলিশের আইজিপি আলী হোসেন ফকিরসহ সরকারের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ মার্চ ২০২৬
রাজধানী ঢাকার চিরচেনা যানজট নিরসন এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাকে আধুনিকায়নের লক্ষ্যে এক গুচ্ছ বৈপ্লবিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে আয়োজিত এক বিশেষ সভায় এসব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৈঠক শেষে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, স্বল্পমেয়াদী পরিকল্পনাগুলো সঠিক সময়ে বাস্তবায়ন করা গেলে আগামী এপ্রিল মাসের শেষ নাগাদ ঢাকা শহরের যানজট পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি সম্ভব হবে।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাকে ডিজিটাল ও যুগোপযোগী করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ঢাকাকে সচল করতে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ ১২০টি ট্রাফিক সিগন্যাল পর্যায়ক্রমে দেশীয় পদ্ধতিতে অটোমেশনের আওতায় আনা হবে। এছাড়া শহরের ভেতর চলাচলকারী সকল সিটি বাসকে জিপিএস (GPS) সিস্টেমের আওতায় আনা হচ্ছে।
শহরের অভ্যন্তরীণ যানজট কমাতে ঢাকার ভেতরে থাকা ৫টি আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল দ্রুত সময়ের মধ্যে শহরের বাইরে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এই টার্মিনালগুলো পরবর্তীতে শুধুমাত্র সিটি সার্ভিসের জন্য ব্যবহার করা হবে। এছাড়া রাস্তা দখল করে থাকা যত্রতত্র বাস কাউন্টারগুলো অবিলম্বে অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঢাকার চার পাশে নতুন বাইপাস সড়ক নির্মাণের পাশাপাশি শহরের ভেতরে প্রয়োজনীয় স্থানে ওভারপাস ও আন্ডারপাস নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। রেলক্রসিংগুলোতে প্রচলিত ম্যানুয়াল ব্যবস্থার বদলে অটো সিগন্যাল লাইটিং সিস্টেম চালু করা হবে। এছাড়া রাস্তার মাঝখানে থাকা বৈদ্যুতিক খুঁটি দ্রুত সরিয়ে রাস্তা প্রশস্ত করার কাজ শুরু হবে।
পথচারীদের চলাচলের সুবিধার্থে ঢাকার অধিকাংশ ফুটওভার ব্রিজে চলন্ত সিঁড়ি স্থাপন করা হবে। বিশেষ করে হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকার ফুটওভার ব্রিজগুলোতে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি লিফট স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেই সাথে রাস্তার দু-পাশের ফুটপাত দখলমুক্ত করে সাধারণ মানুষের হাঁটার উপযোগী করা হবে।
এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের সঙ্গে সমন্বয় করবেন শ্রমিক নেতা ও সংসদ সদস্য শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আশা প্রকাশ করেছেন যে, আগামী ৭ এপ্রিলের মধ্যে প্রস্তাবিত পরিকল্পনার অধিকাংশ বাস্তবায়ন শুরু হবে।
ডিএসসিসি প্রশাসক আবদুল সালাম বলেন, প্রধানমন্ত্রী ঢাকাকে সচল করতে বারবার জোর দিচ্ছেন। অটোরিকশা চালকদের বিকল্প কর্মসংস্থানের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। আমরা দ্রুতই এগুলোকে শৃঙ্খলার মধ্যে নিয়ে আসব।ডিএনসিসি প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন জানান, প্রধানমন্ত্রীর বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে সিটি করপোরেশন, রাজউক ও পুলিশ বিভাগ সমন্বিতভাবে কাজ শুরু করবে।
উক্ত সভায় উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব, পুলিশের আইজিপি আলী হোসেন ফকিরসহ সরকারের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

আপনার মতামত লিখুন