মুকসুদপুর    বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
দৈনিক নতুন আলো
আপডেট : শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

গোপালগঞ্জ পুলিশ লাইন্সে মাস্টার প্যারেড ও কল্যাণসভা অনুষ্ঠিত

গোপালগঞ্জ পুলিশ লাইন্সে মাস্টার প্যারেড ও কল্যাণসভা অনুষ্ঠিত

কোটালীপাড়া ও টুঙ্গিপাড়ায় দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি: সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান

কোটালীপাড়া ও টুঙ্গিপাড়ায় দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি: সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান

মুকসুদপুরে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত

মুকসুদপুরে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় পদ্মায় দ্বিতীয় দফায় ভয়াবহ ভাঙন: বিলীন ৫০০ বিঘা আবাদি জমি

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় পদ্মায় দ্বিতীয় দফায় ভয়াবহ ভাঙন: বিলীন ৫০০ বিঘা আবাদি জমি

গোপালগঞ্জে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

গোপালগঞ্জে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নে মুকসুদপুরে মাঠ পর্যায়ের সুপারভাইজারদের প্রশিক্ষণ ও ল্যাপটপ প্রদান

ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নে মুকসুদপুরে মাঠ পর্যায়ের সুপারভাইজারদের প্রশিক্ষণ ও ল্যাপটপ প্রদান

মুকসুদপুরে পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় মতবিনিময় সভা

মুকসুদপুরে পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় মতবিনিময় সভা

মেহেরপুরের গাংনীতে ঘন কুয়াশায় নামল শীতের আমেজ, সড়কে ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন

মেহেরপুরের গাংনীতে ঘন কুয়াশায় নামল শীতের আমেজ, সড়কে ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন

গাংনীতে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে মাংস সমিতি : সাশ্রয়ী মূল্যে মাংস পাওয়ায় খুশি সাধারণ মানুষ।

গাংনীতে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে মাংস সমিতি : সাশ্রয়ী মূল্যে মাংস পাওয়ায় খুশি সাধারণ মানুষ।
ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে মাংস সমিতি। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই সময়ে সাশ্রয়ী মূল্যে ঈদের মাংস নিশ্চিত করতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের কাছে এই অভিনব পদ্ধতিটি দারুণ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

যেভাবে কাজ করে মাংস সমিতি

সমিতির সদস্যরা সাধারণত ঈদের ঠিক পরের সপ্তাহ থেকেই টাকা জমা দেওয়া শুরু করেন। সারা বছর প্রতি সপ্তাহে মাত্র ১০০ টাকা করে জমা দেন তারা। এভাবে বছর শেষে একেকজন সদস্যের প্রায় ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা জমা হয়। এই জমানো টাকা দিয়ে ঈদের ৫-১০ দিন আগে পছন্দমতো সুস্থ ও সবল গরু কেনা হয়। পরে গরু জবাই করে সদস্যদের মধ্যে সমানভাবে মাংস ভাগ করে দেওয়া হয়।

সাশ্রয় ও স্বচ্ছলতার মেলবন্ধন

বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি গরুর মাংস ৭৫০ টাকা এবং মহিষের মাংস ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে সমিতির মাধ্যমে মাংস সংগ্রহ করলে প্রতি কেজির খরচ পড়ছে ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকার মধ্যে।

দেবীপুর গ্রামের বাসিন্দা বজু মোল্লা জানান, সপ্তাহে ১০০ টাকা জমা দিতে আমাদের তেমন কষ্ট হয় না। কিন্তু একবারে ৫-৬ হাজার টাকার মাংস কেনা অসম্ভব ছিল। এবার সাড়ে ৬ হাজার টাকা জমা দিয়ে আমি প্রায় ৮ কেজি মাংস পেয়েছি। মো. আল নাহিয়ান নামের আরেক সদস্য জানান, গরুর মাংসের পাশাপাশি অনেক সমিতি এখন বাড়তি টাকা দিয়ে ছাগলের মাংস দেওয়ার পরিকল্পনাও রাখছে।

মাংস ব্যবসায়ীদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া

পাড়া-মহল্লায় মাংস সমিতির এই জোয়ারে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন স্থানীয় পেশাদার মাংস ব্যবসায়ীরা। হাড়াভাঙ্গা সেন্টার বাজারের ব্যবসায়ী বকুল হোসেন বলেন,

অধিকাংশ গ্রামেই এখন মানুষ নিজেরাই সমিতি করে গরু জবাই দিচ্ছে। এতে আমাদের খুচরা বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হওয়া নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে লাভ কম হলেও বাজারের ভারসাম্য বজায় থাকবে বলে আশা করছি।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই ক্ষুদ্র সঞ্চয় পদ্ধতি সাধারণ মানুষের ওপর থেকে এককালীন বড় খরচের চাপ কমিয়ে দিচ্ছে। একই সঙ্গে সিন্ডিকেটমুক্ত বাজারে সুস্থ পশুর মাংস নিশ্চিত হওয়ায় সাধারণ মানুষের আস্থা বাড়ছে এই ‘মাংস সমিতি’র ওপর। গাংনী উপজেলার গ্রামগুলোতে এখন দিন দিন এ ধরনের সমিতির সংখ্যা বাড়ছে।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক নতুন আলো

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬


গাংনীতে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে মাংস সমিতি : সাশ্রয়ী মূল্যে মাংস পাওয়ায় খুশি সাধারণ মানুষ।

প্রকাশের তারিখ : ১৬ মার্চ ২০২৬

featured Image

আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে মাংস সমিতি। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই সময়ে সাশ্রয়ী মূল্যে ঈদের মাংস নিশ্চিত করতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের কাছে এই অভিনব পদ্ধতিটি দারুণ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

যেভাবে কাজ করে মাংস সমিতি

সমিতির সদস্যরা সাধারণত ঈদের ঠিক পরের সপ্তাহ থেকেই টাকা জমা দেওয়া শুরু করেন। সারা বছর প্রতি সপ্তাহে মাত্র ১০০ টাকা করে জমা দেন তারা। এভাবে বছর শেষে একেকজন সদস্যের প্রায় ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা জমা হয়। এই জমানো টাকা দিয়ে ঈদের ৫-১০ দিন আগে পছন্দমতো সুস্থ ও সবল গরু কেনা হয়। পরে গরু জবাই করে সদস্যদের মধ্যে সমানভাবে মাংস ভাগ করে দেওয়া হয়।

সাশ্রয় ও স্বচ্ছলতার মেলবন্ধন

বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি গরুর মাংস ৭৫০ টাকা এবং মহিষের মাংস ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে সমিতির মাধ্যমে মাংস সংগ্রহ করলে প্রতি কেজির খরচ পড়ছে ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকার মধ্যে।

দেবীপুর গ্রামের বাসিন্দা বজু মোল্লা জানান, সপ্তাহে ১০০ টাকা জমা দিতে আমাদের তেমন কষ্ট হয় না। কিন্তু একবারে ৫-৬ হাজার টাকার মাংস কেনা অসম্ভব ছিল। এবার সাড়ে ৬ হাজার টাকা জমা দিয়ে আমি প্রায় ৮ কেজি মাংস পেয়েছি। মো. আল নাহিয়ান নামের আরেক সদস্য জানান, গরুর মাংসের পাশাপাশি অনেক সমিতি এখন বাড়তি টাকা দিয়ে ছাগলের মাংস দেওয়ার পরিকল্পনাও রাখছে।

মাংস ব্যবসায়ীদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া

পাড়া-মহল্লায় মাংস সমিতির এই জোয়ারে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন স্থানীয় পেশাদার মাংস ব্যবসায়ীরা। হাড়াভাঙ্গা সেন্টার বাজারের ব্যবসায়ী বকুল হোসেন বলেন,

অধিকাংশ গ্রামেই এখন মানুষ নিজেরাই সমিতি করে গরু জবাই দিচ্ছে। এতে আমাদের খুচরা বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হওয়া নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে লাভ কম হলেও বাজারের ভারসাম্য বজায় থাকবে বলে আশা করছি।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই ক্ষুদ্র সঞ্চয় পদ্ধতি সাধারণ মানুষের ওপর থেকে এককালীন বড় খরচের চাপ কমিয়ে দিচ্ছে। একই সঙ্গে সিন্ডিকেটমুক্ত বাজারে সুস্থ পশুর মাংস নিশ্চিত হওয়ায় সাধারণ মানুষের আস্থা বাড়ছে এই ‘মাংস সমিতি’র ওপর। গাংনী উপজেলার গ্রামগুলোতে এখন দিন দিন এ ধরনের সমিতির সংখ্যা বাড়ছে।


দৈনিক নতুন আলো

প্রকাশক : সাদিয়া নূর পূর্ণ
সম্পাদক : নাহিদ হোসেন
নির্বাহী সম্পাদক : মোঃ ছিরু মিয়া

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক নতুন আলো