বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলী সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার এবং দুর্গম পাহাড়ের অর্থনীতিতে গতি ফেরাতে বড় ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান—এই তিন পার্বত্য জেলায় ২৮৮ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত সড়ক নির্মাণ প্রকল্প-২য় পর্যায় শুরু হতে যাচ্ছে। প্রায় পৌনে ৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের এই বিশাল প্রকল্পটি আজ সোমবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য উপস্থাপিত হচ্ছে।
পাহাড়ের সেতুবন্ধন: ২৮৮ কিলোমিটারের নতুন পথ :
পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের এই প্রকল্পটি ২০৩০ সালের জুনের মধ্যে বাস্তবায়ন করবে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর। এর আওতায় খাগড়াছড়ির নাড়াইছড়ি থেকে বান্দরবানের ফাতরাজিরা-লিকরি পর্যন্ত দীর্ঘ সড়কপথ তৈরি হবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই সড়ক নির্মিত হলে দুর্গম পাহাড়ের মানুষ সহজেই মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হতে পারবে।
প্রকল্পের আওতায় প্রধান সড়কসমূহ :
৩ হাজার ৭৫ কোটি টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পের বড় অংশই খরচ হবে টেকসই সড়ক অবকাঠামো নির্মাণে। এর মধ্যে সড়ক নির্মাণে প্রায় ১ হাজার ৬৯০ কোটি টাকা এবং ড্রেনেজ ও রক্ষণাবেক্ষণে ব্যয় হবে প্রায় ৮৫০ কোটি টাকা। এছাড়া ৩৬ একর জমি অধিগ্রহণ, পরামর্শক সেবা এবং পাহাড়ের মানুষের কল্যাণে স্কুল, হাসপাতাল ও বিশ্রামাগারের মতো ৩৬টি সামাজিক অবকাঠামো নির্মাণে বিশেষ বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
নিরাপত্তা ও পর্যটনে নতুন দিগন্ত :
সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব মোহাম্মদ জিয়াউল হক জানান, এই সীমান্ত সড়ক কেবল যোগাযোগের মাধ্যম নয়, এটি কৃষি ও পর্যটন খাতের বিকাশে আশীর্বাদ হয়ে আসবে। সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে প্রথম পর্যায়ের ৩১৭ কিলোমিটার সড়কের কাজ ইতোমধ্যে সফলভাবে শেষ হয়েছে, যার মধ্যে বান্দরবানের কেওক্রাডংয়ের ওপর দিয়ে নির্মিত অংশটি দেশের সর্বোচ্চ সড়ক (৯৬৫ মিটার) হিসেবে স্বীকৃতি পাচ্ছে।
ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব :
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই সড়ক নির্মাণের ফলে সীমান্ত এলাকায় বিজিবি ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর টহল এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও শক্তিশালী হবে। দ্বিতীয় পর্যায়ের এই কাজ শেষ হলে পরবর্তীতে ভারত ও মিয়ানমার সীমান্তের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনে তৃতীয় পর্যায়ের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ এপ্রিল ২০২৬
বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলী সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার এবং দুর্গম পাহাড়ের অর্থনীতিতে গতি ফেরাতে বড় ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান—এই তিন পার্বত্য জেলায় ২৮৮ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত সড়ক নির্মাণ প্রকল্প-২য় পর্যায় শুরু হতে যাচ্ছে। প্রায় পৌনে ৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের এই বিশাল প্রকল্পটি আজ সোমবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য উপস্থাপিত হচ্ছে।
পাহাড়ের সেতুবন্ধন: ২৮৮ কিলোমিটারের নতুন পথ :
পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের এই প্রকল্পটি ২০৩০ সালের জুনের মধ্যে বাস্তবায়ন করবে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর। এর আওতায় খাগড়াছড়ির নাড়াইছড়ি থেকে বান্দরবানের ফাতরাজিরা-লিকরি পর্যন্ত দীর্ঘ সড়কপথ তৈরি হবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই সড়ক নির্মিত হলে দুর্গম পাহাড়ের মানুষ সহজেই মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হতে পারবে।
প্রকল্পের আওতায় প্রধান সড়কসমূহ :
৩ হাজার ৭৫ কোটি টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পের বড় অংশই খরচ হবে টেকসই সড়ক অবকাঠামো নির্মাণে। এর মধ্যে সড়ক নির্মাণে প্রায় ১ হাজার ৬৯০ কোটি টাকা এবং ড্রেনেজ ও রক্ষণাবেক্ষণে ব্যয় হবে প্রায় ৮৫০ কোটি টাকা। এছাড়া ৩৬ একর জমি অধিগ্রহণ, পরামর্শক সেবা এবং পাহাড়ের মানুষের কল্যাণে স্কুল, হাসপাতাল ও বিশ্রামাগারের মতো ৩৬টি সামাজিক অবকাঠামো নির্মাণে বিশেষ বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
নিরাপত্তা ও পর্যটনে নতুন দিগন্ত :
সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব মোহাম্মদ জিয়াউল হক জানান, এই সীমান্ত সড়ক কেবল যোগাযোগের মাধ্যম নয়, এটি কৃষি ও পর্যটন খাতের বিকাশে আশীর্বাদ হয়ে আসবে। সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে প্রথম পর্যায়ের ৩১৭ কিলোমিটার সড়কের কাজ ইতোমধ্যে সফলভাবে শেষ হয়েছে, যার মধ্যে বান্দরবানের কেওক্রাডংয়ের ওপর দিয়ে নির্মিত অংশটি দেশের সর্বোচ্চ সড়ক (৯৬৫ মিটার) হিসেবে স্বীকৃতি পাচ্ছে।
ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব :
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই সড়ক নির্মাণের ফলে সীমান্ত এলাকায় বিজিবি ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর টহল এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও শক্তিশালী হবে। দ্বিতীয় পর্যায়ের এই কাজ শেষ হলে পরবর্তীতে ভারত ও মিয়ানমার সীমান্তের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনে তৃতীয় পর্যায়ের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

আপনার মতামত লিখুন