মুকসুদপুর    বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
দৈনিক নতুন আলো
প্রকাশ : সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬

জাতীয় সংসদ ভবন এলাকা পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জাতীয় সংসদ ভবন এলাকা পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ধর্মের ভিত্তিতে নয়, নাগরিক হিসেবে প্রত্যেকের অধিকার নিশ্চিত করা আমার দায়িত্ব: প্রধানমন্ত্রী

ধর্মের ভিত্তিতে নয়, নাগরিক হিসেবে প্রত্যেকের অধিকার নিশ্চিত করা আমার দায়িত্ব: প্রধানমন্ত্রী

অবহেলা নয়, মানসিক সমস্যাগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর

অবহেলা নয়, মানসিক সমস্যাগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর

রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে উৎপাদনের নতুন রেকর্ড, গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে ১৩২১ মেগাওয়াট

রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে উৎপাদনের নতুন রেকর্ড, গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে ১৩২১ মেগাওয়াট

অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে পুঁজি করে অরাজকতার চেষ্টা চলছে: ফেনীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে পুঁজি করে অরাজকতার চেষ্টা চলছে: ফেনীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

৮১তম জাতিসংঘ অধিবেশনে বিভিন্ন দেশের শীর্ষ প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাইডলাইন বৈঠক

৮১তম জাতিসংঘ অধিবেশনে বিভিন্ন দেশের শীর্ষ প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাইডলাইন বৈঠক

জাতিসংঘে আজ ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জাতিসংঘে আজ ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

নবম পে স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি: বাড়িভাড়ার নতুন হার পুনর্নির্ধারণ

নবম পে স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি: বাড়িভাড়ার নতুন হার পুনর্নির্ধারণ

একনেক সভায় উঠছে ২৮৮ কিলোমিটারের সীমান্ত সড়ক নির্মাণ প্রকল্প

পাহাড়ে পৌনে ৪ হাজার কোটি টাকার মহাপ্রকল্প: সীমানায় তৈরি হচ্ছে নতুন অর্থনৈতিক করিডোর

পাহাড়ে পৌনে ৪ হাজার কোটি টাকার মহাপ্রকল্প: সীমানায় তৈরি হচ্ছে নতুন অর্থনৈতিক করিডোর
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলী সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার এবং দুর্গম পাহাড়ের অর্থনীতিতে গতি ফেরাতে বড় ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান—এই তিন পার্বত্য জেলায় ২৮৮ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত সড়ক নির্মাণ প্রকল্প-২য় পর্যায় শুরু হতে যাচ্ছে। প্রায় পৌনে ৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের এই বিশাল প্রকল্পটি আজ সোমবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য উপস্থাপিত হচ্ছে।

পাহাড়ের সেতুবন্ধন: ২৮৮ কিলোমিটারের নতুন পথ :

পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের এই প্রকল্পটি ২০৩০ সালের জুনের মধ্যে বাস্তবায়ন করবে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর। এর আওতায় খাগড়াছড়ির নাড়াইছড়ি থেকে বান্দরবানের ফাতরাজিরা-লিকরি পর্যন্ত দীর্ঘ সড়কপথ তৈরি হবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই সড়ক নির্মিত হলে দুর্গম পাহাড়ের মানুষ সহজেই মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হতে পারবে।

প্রকল্পের আওতায় প্রধান সড়কসমূহ :

  • বান্দরবান: ফাতরাজিরা-লিকরি (১০৮ কিমি)
  • খাগড়াছড়ি: নাড়াইছড়ি-লক্ষ্যাছড়া (৩৫ কিমি)
  • রাঙামাটি: বৈরাগীপাড়া-বেতলিং, মাঝিপাড়া-ঘাসকাপাছড়া ও অন্যান্য অংশ (১৪৫ কিমি)


৩ হাজার ৭৫ কোটি টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পের বড় অংশই খরচ হবে টেকসই সড়ক অবকাঠামো নির্মাণে। এর মধ্যে সড়ক নির্মাণে প্রায় ১ হাজার ৬৯০ কোটি টাকা এবং ড্রেনেজ ও রক্ষণাবেক্ষণে ব্যয় হবে প্রায় ৮৫০ কোটি টাকা। এছাড়া ৩৬ একর জমি অধিগ্রহণ, পরামর্শক সেবা এবং পাহাড়ের মানুষের কল্যাণে স্কুল, হাসপাতাল ও বিশ্রামাগারের মতো ৩৬টি সামাজিক অবকাঠামো নির্মাণে বিশেষ বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

নিরাপত্তা ও পর্যটনে নতুন দিগন্ত :

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব মোহাম্মদ জিয়াউল হক জানান, এই সীমান্ত সড়ক কেবল যোগাযোগের মাধ্যম নয়, এটি কৃষি ও পর্যটন খাতের বিকাশে আশীর্বাদ হয়ে আসবে। সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে প্রথম পর্যায়ের ৩১৭ কিলোমিটার সড়কের কাজ ইতোমধ্যে সফলভাবে শেষ হয়েছে, যার মধ্যে বান্দরবানের কেওক্রাডংয়ের ওপর দিয়ে নির্মিত অংশটি দেশের সর্বোচ্চ সড়ক (৯৬৫ মিটার) হিসেবে স্বীকৃতি পাচ্ছে।

ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব :

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই সড়ক নির্মাণের ফলে সীমান্ত এলাকায় বিজিবি ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর টহল এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও শক্তিশালী হবে। দ্বিতীয় পর্যায়ের এই কাজ শেষ হলে পরবর্তীতে ভারত ও মিয়ানমার সীমান্তের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনে তৃতীয় পর্যায়ের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক নতুন আলো

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬


পাহাড়ে পৌনে ৪ হাজার কোটি টাকার মহাপ্রকল্প: সীমানায় তৈরি হচ্ছে নতুন অর্থনৈতিক করিডোর

প্রকাশের তারিখ : ০৬ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলী সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার এবং দুর্গম পাহাড়ের অর্থনীতিতে গতি ফেরাতে বড় ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান—এই তিন পার্বত্য জেলায় ২৮৮ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত সড়ক নির্মাণ প্রকল্প-২য় পর্যায় শুরু হতে যাচ্ছে। প্রায় পৌনে ৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের এই বিশাল প্রকল্পটি আজ সোমবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য উপস্থাপিত হচ্ছে।

পাহাড়ের সেতুবন্ধন: ২৮৮ কিলোমিটারের নতুন পথ :

পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের এই প্রকল্পটি ২০৩০ সালের জুনের মধ্যে বাস্তবায়ন করবে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর। এর আওতায় খাগড়াছড়ির নাড়াইছড়ি থেকে বান্দরবানের ফাতরাজিরা-লিকরি পর্যন্ত দীর্ঘ সড়কপথ তৈরি হবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই সড়ক নির্মিত হলে দুর্গম পাহাড়ের মানুষ সহজেই মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হতে পারবে।

প্রকল্পের আওতায় প্রধান সড়কসমূহ :

  • বান্দরবান: ফাতরাজিরা-লিকরি (১০৮ কিমি)
  • খাগড়াছড়ি: নাড়াইছড়ি-লক্ষ্যাছড়া (৩৫ কিমি)
  • রাঙামাটি: বৈরাগীপাড়া-বেতলিং, মাঝিপাড়া-ঘাসকাপাছড়া ও অন্যান্য অংশ (১৪৫ কিমি)


৩ হাজার ৭৫ কোটি টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পের বড় অংশই খরচ হবে টেকসই সড়ক অবকাঠামো নির্মাণে। এর মধ্যে সড়ক নির্মাণে প্রায় ১ হাজার ৬৯০ কোটি টাকা এবং ড্রেনেজ ও রক্ষণাবেক্ষণে ব্যয় হবে প্রায় ৮৫০ কোটি টাকা। এছাড়া ৩৬ একর জমি অধিগ্রহণ, পরামর্শক সেবা এবং পাহাড়ের মানুষের কল্যাণে স্কুল, হাসপাতাল ও বিশ্রামাগারের মতো ৩৬টি সামাজিক অবকাঠামো নির্মাণে বিশেষ বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

নিরাপত্তা ও পর্যটনে নতুন দিগন্ত :

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব মোহাম্মদ জিয়াউল হক জানান, এই সীমান্ত সড়ক কেবল যোগাযোগের মাধ্যম নয়, এটি কৃষি ও পর্যটন খাতের বিকাশে আশীর্বাদ হয়ে আসবে। সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে প্রথম পর্যায়ের ৩১৭ কিলোমিটার সড়কের কাজ ইতোমধ্যে সফলভাবে শেষ হয়েছে, যার মধ্যে বান্দরবানের কেওক্রাডংয়ের ওপর দিয়ে নির্মিত অংশটি দেশের সর্বোচ্চ সড়ক (৯৬৫ মিটার) হিসেবে স্বীকৃতি পাচ্ছে।

ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব :

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই সড়ক নির্মাণের ফলে সীমান্ত এলাকায় বিজিবি ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর টহল এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও শক্তিশালী হবে। দ্বিতীয় পর্যায়ের এই কাজ শেষ হলে পরবর্তীতে ভারত ও মিয়ানমার সীমান্তের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনে তৃতীয় পর্যায়ের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।


দৈনিক নতুন আলো

প্রকাশক : সাদিয়া নূর পূর্ণ
সম্পাদক : নাহিদ হোসেন
নির্বাহী সম্পাদক : মোঃ ছিরু মিয়া

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক নতুন আলো