পবিত্র ঈদুল ফিতর পরবর্তী সময়ে সাধারণ মানুষের নিত্যপণ্যের বাজারে গিয়ে চরম অস্বস্তিতে পড়তে হচ্ছে। বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে রেকর্ড দামে বিক্রি হচ্ছে সোনালি মুরগি। বৃষ্টির অজুহাতে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম এখন আকাশচুম্বী। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) রাজধানীর রামপুরাসহ বেশ কয়েকটি খুচরা ও পাইকারি বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ৫ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেল কিছু দোকানে মিললেও আধা লিটার, এক লিটার ও দুই লিটারের বোতলের সরবরাহ নেই বললেই চলে। সরকার নির্ধারিত প্রতি লিটার বোতলজাত তেলের দাম ১৯৫ টাকা হলেও বাজারে খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২১০ টাকা কেজি দরে। পাম তেলের দামও নির্ধারিত ১৬৪ টাকার পরিবর্তে ১৮০ থেকে ১৯০ টাকায় ঠেকেছে।
খুচরা বিক্রেতাদের অভিযোগ, ডিলাররা গত কয়েকদিন ধরে তেলের অর্ডার নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন। রামপুরা বাজারের এক দোকানি জানান, কোম্পানিগুলো তেল দিতে হলে অন্যান্য পণ্য নেওয়ার শর্ত দিচ্ছে, যা খুচরা ব্যবসায়ীদের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ঈদের পর থেকে সোনালি মুরগির দাম অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। কয়েকদিন আগে ৪৫০ টাকায় উঠলেও এই সপ্তাহে কেজিপ্রতি ২০-৩০ টাকা কমে ৪০০ থেকে ৪২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খামারিদের দাবি, বার্ড ফ্লুসহ নানা রোগে মুরগি মারা যাওয়ায় সরবরাহ কমেছে। তবে স্বস্তির খবর হলো, ব্রয়লার মুরগি এখন ১৮৫ থেকে ২০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। অন্যদিকে, ডিমের দাম এক সপ্তাহের ব্যবধানে ডজনপ্রতি ৫-১০ টাকা বেড়ে ১২০ থেকে ১৩০ টাকায় দাঁড়িয়েছে।
গত কয়েকদিনের বৃষ্টির অজুহাতে সবজির দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। আলু (২৫ টাকা) এবং পেঁপে-গাজর (৪০-৫০ টাকা) ছাড়া প্রায় সব সবজির দামই ৮০ টাকার ওপরে। পটল, ঢ্যাঁড়স ৬০-৮০ টাকা হলেও ঝিঙ্গা, চিচিঙ্গা, বরবটি ও করলা বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকায়। তবে কাঁচামরিচ (৮০-১০০ টাকা) এবং পেঁয়াজের (৩০-৩৫ টাকা) দাম তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে।
বাজারে আসা এক ক্রেতা আক্ষেপ করে বলেন, সবকিছুর দাম যেভাবে বাড়ছে, তাতে আমাদের মতো সীমিত আয়ের মানুষের টিকে থাকা দায় হয়ে পড়েছে। তেল নেই, সবজির দামও বাড়তি—আমরা খাব কী?

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ এপ্রিল ২০২৬
পবিত্র ঈদুল ফিতর পরবর্তী সময়ে সাধারণ মানুষের নিত্যপণ্যের বাজারে গিয়ে চরম অস্বস্তিতে পড়তে হচ্ছে। বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে রেকর্ড দামে বিক্রি হচ্ছে সোনালি মুরগি। বৃষ্টির অজুহাতে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম এখন আকাশচুম্বী। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) রাজধানীর রামপুরাসহ বেশ কয়েকটি খুচরা ও পাইকারি বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ৫ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেল কিছু দোকানে মিললেও আধা লিটার, এক লিটার ও দুই লিটারের বোতলের সরবরাহ নেই বললেই চলে। সরকার নির্ধারিত প্রতি লিটার বোতলজাত তেলের দাম ১৯৫ টাকা হলেও বাজারে খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২১০ টাকা কেজি দরে। পাম তেলের দামও নির্ধারিত ১৬৪ টাকার পরিবর্তে ১৮০ থেকে ১৯০ টাকায় ঠেকেছে।
খুচরা বিক্রেতাদের অভিযোগ, ডিলাররা গত কয়েকদিন ধরে তেলের অর্ডার নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন। রামপুরা বাজারের এক দোকানি জানান, কোম্পানিগুলো তেল দিতে হলে অন্যান্য পণ্য নেওয়ার শর্ত দিচ্ছে, যা খুচরা ব্যবসায়ীদের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ঈদের পর থেকে সোনালি মুরগির দাম অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। কয়েকদিন আগে ৪৫০ টাকায় উঠলেও এই সপ্তাহে কেজিপ্রতি ২০-৩০ টাকা কমে ৪০০ থেকে ৪২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খামারিদের দাবি, বার্ড ফ্লুসহ নানা রোগে মুরগি মারা যাওয়ায় সরবরাহ কমেছে। তবে স্বস্তির খবর হলো, ব্রয়লার মুরগি এখন ১৮৫ থেকে ২০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। অন্যদিকে, ডিমের দাম এক সপ্তাহের ব্যবধানে ডজনপ্রতি ৫-১০ টাকা বেড়ে ১২০ থেকে ১৩০ টাকায় দাঁড়িয়েছে।
গত কয়েকদিনের বৃষ্টির অজুহাতে সবজির দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। আলু (২৫ টাকা) এবং পেঁপে-গাজর (৪০-৫০ টাকা) ছাড়া প্রায় সব সবজির দামই ৮০ টাকার ওপরে। পটল, ঢ্যাঁড়স ৬০-৮০ টাকা হলেও ঝিঙ্গা, চিচিঙ্গা, বরবটি ও করলা বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকায়। তবে কাঁচামরিচ (৮০-১০০ টাকা) এবং পেঁয়াজের (৩০-৩৫ টাকা) দাম তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে।
বাজারে আসা এক ক্রেতা আক্ষেপ করে বলেন, সবকিছুর দাম যেভাবে বাড়ছে, তাতে আমাদের মতো সীমিত আয়ের মানুষের টিকে থাকা দায় হয়ে পড়েছে। তেল নেই, সবজির দামও বাড়তি—আমরা খাব কী?

আপনার মতামত লিখুন