যান্ত্রিক শহরের কোলাহল থেকে মুক্তি পেতে খুব দূরে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। ঢাকা থেকে মাত্র কয়েক ঘণ্টার দূরত্বেই অপেক্ষা করছে সবুজের সমারোহ আর বন্যপ্রাণীর মিতালী। ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার নওগাঁও ইউনিয়নের সন্তোষপুর রাবার বাগান এবং পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলো এখন ভ্রমণপিপাসুদের জন্য হয়ে উঠেছে এক আদর্শ গন্তব্য।
সকালের যানজট ঠেলে ফুলবাড়ীয়ার কান্দানিয়া গ্রামে পৌঁছালে প্রথমেই আপনাকে স্বাগত জানাবে দুলমা গ্রামের দীপ্তি অর্কিডস বাগান। প্রায় ২৬ একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত এই বাগানে দেখা মিলবে লাল, হলুদ, সাদা ও বেগুনি রঙের হরেক প্রজাতির অর্কিডের। শুধু ফুল নয়, দেশি-বিদেশি গাছের ছায়া আর পাখির কলতানে ঘেরা এই বাগান আপনার ভ্রমণের ক্লান্তি নিমেষেই দূর করে দেবে।
অর্কিড বাগান থেকে কিছুটা দূরে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল সীমানায় গুপ্ত বৃন্দাবন গ্রামে রয়েছে এক প্রাচীন ও অদ্ভুত গাছ। স্থানীয়দের মতে এটি শতবর্ষী তমাল গাছ, যদিও উদ্ভিদবিজ্ঞানীদের মতে এটি বিরল কোনো প্রজাতি। লোককথা আছে, একবার মারা যাওয়ার ১২ বছর পর এই গাছটি পুনরায় ডাল-পালা মেলে জেগে উঠেছিল। বর্তমানে একে ঘিরে স্থানীয়দের ভক্তি ও দর্শনার্থীদের প্রবল কৌতূহল দেখা যায়।
ভ্রমণের মূল আকর্ষণ হলো ১০৬ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত সন্তোষপুর বনাঞ্চল। বিট অফিসের সামনের পথ ধরে হাঁটলে দেখা মিলবে বাংলাদেশ বন শিল্প উন্নয়ন করপোরেশনের বিশাল রাবার বাগানের। এখানে কষ থেকে রাবার তৈরির প্রক্রিয়া দেখে এগিয়ে গেলেই শুরু হবে বানরের সভা।
বর্তমানে এই বনে প্রায় ৫০০ বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির বানর রয়েছে। এখানকার বানররা অত্যন্ত সামাজিক। দর্শনার্থীদের হাতে থাকা কলা বা বাদাম দেখে তারা নির্ভয়ে কোলে বা কাঁধে উঠে বসে। যদিও বন বিভাগ থেকে সামান্য খাবার বরাদ্দ আছে, তবে পর্যটকদের দেওয়া খাবারের ওপরই এই বানরকুল অনেকটা নির্ভরশীল। বিকেলে সূর্যাস্তের আলোয় বানরদের এই লুকোচুরি খেলা এক অভূতপূর্ব দৃশ্যের অবতারণা করে।
কীভাবে যাবেন?
নিজস্ব গাড়ি বা ভাড়া করা মাইক্রোবাস নিয়ে গেলে সবচেয়ে সুবিধা। তবে গণপরিবহনে যেতে চাইলে মহাখালী থেকে ময়মনসিংহের বাসে উঠে ফুলবাড়ীয়া বাসস্ট্যান্ডে নামতে হবে। সেখান থেকে সিএনজি বা অটোরিকশা ভাড়া করে অর্কিড বাগান এবং সন্তোষপুর রাবার বাগান ঘুরে আসা যায় অনায়াসেই।

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ এপ্রিল ২০২৬
যান্ত্রিক শহরের কোলাহল থেকে মুক্তি পেতে খুব দূরে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। ঢাকা থেকে মাত্র কয়েক ঘণ্টার দূরত্বেই অপেক্ষা করছে সবুজের সমারোহ আর বন্যপ্রাণীর মিতালী। ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার নওগাঁও ইউনিয়নের সন্তোষপুর রাবার বাগান এবং পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলো এখন ভ্রমণপিপাসুদের জন্য হয়ে উঠেছে এক আদর্শ গন্তব্য।
সকালের যানজট ঠেলে ফুলবাড়ীয়ার কান্দানিয়া গ্রামে পৌঁছালে প্রথমেই আপনাকে স্বাগত জানাবে দুলমা গ্রামের দীপ্তি অর্কিডস বাগান। প্রায় ২৬ একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত এই বাগানে দেখা মিলবে লাল, হলুদ, সাদা ও বেগুনি রঙের হরেক প্রজাতির অর্কিডের। শুধু ফুল নয়, দেশি-বিদেশি গাছের ছায়া আর পাখির কলতানে ঘেরা এই বাগান আপনার ভ্রমণের ক্লান্তি নিমেষেই দূর করে দেবে।
অর্কিড বাগান থেকে কিছুটা দূরে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল সীমানায় গুপ্ত বৃন্দাবন গ্রামে রয়েছে এক প্রাচীন ও অদ্ভুত গাছ। স্থানীয়দের মতে এটি শতবর্ষী তমাল গাছ, যদিও উদ্ভিদবিজ্ঞানীদের মতে এটি বিরল কোনো প্রজাতি। লোককথা আছে, একবার মারা যাওয়ার ১২ বছর পর এই গাছটি পুনরায় ডাল-পালা মেলে জেগে উঠেছিল। বর্তমানে একে ঘিরে স্থানীয়দের ভক্তি ও দর্শনার্থীদের প্রবল কৌতূহল দেখা যায়।
ভ্রমণের মূল আকর্ষণ হলো ১০৬ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত সন্তোষপুর বনাঞ্চল। বিট অফিসের সামনের পথ ধরে হাঁটলে দেখা মিলবে বাংলাদেশ বন শিল্প উন্নয়ন করপোরেশনের বিশাল রাবার বাগানের। এখানে কষ থেকে রাবার তৈরির প্রক্রিয়া দেখে এগিয়ে গেলেই শুরু হবে বানরের সভা।
বর্তমানে এই বনে প্রায় ৫০০ বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির বানর রয়েছে। এখানকার বানররা অত্যন্ত সামাজিক। দর্শনার্থীদের হাতে থাকা কলা বা বাদাম দেখে তারা নির্ভয়ে কোলে বা কাঁধে উঠে বসে। যদিও বন বিভাগ থেকে সামান্য খাবার বরাদ্দ আছে, তবে পর্যটকদের দেওয়া খাবারের ওপরই এই বানরকুল অনেকটা নির্ভরশীল। বিকেলে সূর্যাস্তের আলোয় বানরদের এই লুকোচুরি খেলা এক অভূতপূর্ব দৃশ্যের অবতারণা করে।
কীভাবে যাবেন?
নিজস্ব গাড়ি বা ভাড়া করা মাইক্রোবাস নিয়ে গেলে সবচেয়ে সুবিধা। তবে গণপরিবহনে যেতে চাইলে মহাখালী থেকে ময়মনসিংহের বাসে উঠে ফুলবাড়ীয়া বাসস্ট্যান্ডে নামতে হবে। সেখান থেকে সিএনজি বা অটোরিকশা ভাড়া করে অর্কিড বাগান এবং সন্তোষপুর রাবার বাগান ঘুরে আসা যায় অনায়াসেই।

আপনার মতামত লিখুন