মুকসুদপুর    বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
দৈনিক নতুন আলো
আপডেট : সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

বাবার স্বপ্নপূরণের স্মৃতিতে আপ্লুত ববিতা : সম্মাননাটি উৎসর্গ করলেন দেশের তরুণ প্রজন্মকে

আন্তর্জাতিক হুজ হু সম্মাননায় ভূষিত হলেন কিংবদন্তি অভিনেত্রী ববিতা

আন্তর্জাতিক হুজ হু সম্মাননায় ভূষিত হলেন কিংবদন্তি অভিনেত্রী ববিতা
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ইতিহাসের অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্র এবং আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন অভিনেত্রী ববিতা আবারও বিশ্বমঞ্চে দেশের নাম উজ্জ্বল করলেন। ১৮ এপ্রিল রাজধানীর ঢাকা শেরাটন হোটেলের গ্র্যান্ড বলরুমে আয়োজিত এক রাজকীয় অনুষ্ঠানে তাঁর হাতে মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক হুজ হু (Who's Who) সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এই বিশেষ পদকটি ববিতার হাতে তুলে দেন।

প্রতিটি অর্জনই আনন্দের, তবে এবারের সম্মাননাটি ববিতার কাছে ছিল একেবারেই আলাদা। পুরস্কার গ্রহণের পর মঞ্চে দাঁড়িয়ে তিনি স্মৃতিচারণ করেন তাঁর মরহুম বাবার কথা। ববিতা বলেন, প্রতিটা প্রাপ্তিই আনন্দের। আমার বাবার স্বপ্ন ছিল আমরা ভাই-বোনেরা যেন সুপ্রতিষ্ঠিত হতে পারি। সারাজীবন চেষ্টা করেছি মা-বাবার সেই স্বপ্ন পূরণ করতে। আজ জীবনের এই পর্যায়ে এসে এই সম্মাননা পেয়ে বাবার কথাই ভীষণ মনে পড়ছে। হুজ হু সম্পর্কে আমার আব্বা জানতেন এবং এই প্রতিষ্ঠানটির গুরুত্ব বুঝতেন। তাই এই অ্যাওয়ার্ড পেয়ে আমি এতটাই আনন্দিত যে ভাষায় প্রকাশ করতে পারছি না। কিংবদন্তি এই অভিনেত্রী তাঁর এই অর্জনটি বাংলাদেশের আগামী দিনের কর্ণধার অর্থাৎ তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করেন।

আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান হুজ হু (Who's Who) একটি দীর্ঘ ও সমৃদ্ধ ইতিহাসের অধিকারী। ১৮৪৯ সাল থেকে যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা গুণীজনদের জীবনী প্রকাশ এবং সমাজ সংস্কারে ভূমিকা রাখা ব্যক্তিদের সম্মাননা প্রদান করে আসছে এই সংস্থাটি। বাংলাদেশে ২০১৬ সাল থেকে প্রতি দুই বছর অন্তর এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে। মূলত সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তনে ভূমিকা রাখা ব্যক্তিদের বিশ্বমঞ্চে পরিচিত করা এবং নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করাই এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য। এ বছর ববিতা ছাড়াও কৃষি, শিক্ষা, শিল্পসাহিত্য, উদ্যোক্তা, সাংবাদিকতা ও সমাজসেবাসহ বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে আরও ১১ জন কৃতি সন্তানকে এই সম্মাননা দেওয়া হয়।


তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী তাঁর বক্তব্যে বিজয়ীদের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, যাঁরা আজ এই সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন, তাঁরা নিজ নিজ ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দিয়েই আমাদের জাতীয় গৌরব বৃদ্ধি করেছেন। এ ধরনের আন্তর্জাতিক মানের সম্মাননা গুণীজনদের কর্মস্পৃহাকে আরও বাড়িয়ে দেবে এবং উন্নত সমাজ গঠনে অন্যদের অনুপ্রাণিত করবে।

ববিতা কেবল একজন অভিনেত্রী নন, তিনি বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের আন্তর্জাতিক দূত। সত্যজিৎ রায়ের অশনি সংকেত দিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যাত্রা শুরু করা এই অভিনেত্রী এ বছর রাষ্ট্রীয় একুশে পদকেও ভূষিত হয়েছেন। দীর্ঘ সময় নতুন কোনো সিনেমায় অভিনয় না করলেও ববিতা জানিয়েছেন, মনের মতো গল্প আর শক্তিশালী চরিত্র পেলে তিনি আবারও ক্যামেরার সামনে দাঁড়াতে চান। তার এই স্বীকৃতি কেবল চলচ্চিত্র জগতের জন্যই নয়, বরং পুরো বাংলাদেশের সংস্কৃতির জন্য এক বড় অর্জন।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক নতুন আলো

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬


আন্তর্জাতিক হুজ হু সম্মাননায় ভূষিত হলেন কিংবদন্তি অভিনেত্রী ববিতা

প্রকাশের তারিখ : ২০ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ইতিহাসের অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্র এবং আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন অভিনেত্রী ববিতা আবারও বিশ্বমঞ্চে দেশের নাম উজ্জ্বল করলেন। ১৮ এপ্রিল রাজধানীর ঢাকা শেরাটন হোটেলের গ্র্যান্ড বলরুমে আয়োজিত এক রাজকীয় অনুষ্ঠানে তাঁর হাতে মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক হুজ হু (Who's Who) সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এই বিশেষ পদকটি ববিতার হাতে তুলে দেন।


প্রতিটি অর্জনই আনন্দের, তবে এবারের সম্মাননাটি ববিতার কাছে ছিল একেবারেই আলাদা। পুরস্কার গ্রহণের পর মঞ্চে দাঁড়িয়ে তিনি স্মৃতিচারণ করেন তাঁর মরহুম বাবার কথা। ববিতা বলেন, প্রতিটা প্রাপ্তিই আনন্দের। আমার বাবার স্বপ্ন ছিল আমরা ভাই-বোনেরা যেন সুপ্রতিষ্ঠিত হতে পারি। সারাজীবন চেষ্টা করেছি মা-বাবার সেই স্বপ্ন পূরণ করতে। আজ জীবনের এই পর্যায়ে এসে এই সম্মাননা পেয়ে বাবার কথাই ভীষণ মনে পড়ছে। হুজ হু সম্পর্কে আমার আব্বা জানতেন এবং এই প্রতিষ্ঠানটির গুরুত্ব বুঝতেন। তাই এই অ্যাওয়ার্ড পেয়ে আমি এতটাই আনন্দিত যে ভাষায় প্রকাশ করতে পারছি না। কিংবদন্তি এই অভিনেত্রী তাঁর এই অর্জনটি বাংলাদেশের আগামী দিনের কর্ণধার অর্থাৎ তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করেন।

আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান হুজ হু (Who's Who) একটি দীর্ঘ ও সমৃদ্ধ ইতিহাসের অধিকারী। ১৮৪৯ সাল থেকে যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা গুণীজনদের জীবনী প্রকাশ এবং সমাজ সংস্কারে ভূমিকা রাখা ব্যক্তিদের সম্মাননা প্রদান করে আসছে এই সংস্থাটি। বাংলাদেশে ২০১৬ সাল থেকে প্রতি দুই বছর অন্তর এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে। মূলত সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তনে ভূমিকা রাখা ব্যক্তিদের বিশ্বমঞ্চে পরিচিত করা এবং নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করাই এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য। এ বছর ববিতা ছাড়াও কৃষি, শিক্ষা, শিল্পসাহিত্য, উদ্যোক্তা, সাংবাদিকতা ও সমাজসেবাসহ বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে আরও ১১ জন কৃতি সন্তানকে এই সম্মাননা দেওয়া হয়।


তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী তাঁর বক্তব্যে বিজয়ীদের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, যাঁরা আজ এই সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন, তাঁরা নিজ নিজ ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দিয়েই আমাদের জাতীয় গৌরব বৃদ্ধি করেছেন। এ ধরনের আন্তর্জাতিক মানের সম্মাননা গুণীজনদের কর্মস্পৃহাকে আরও বাড়িয়ে দেবে এবং উন্নত সমাজ গঠনে অন্যদের অনুপ্রাণিত করবে।

ববিতা কেবল একজন অভিনেত্রী নন, তিনি বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের আন্তর্জাতিক দূত। সত্যজিৎ রায়ের অশনি সংকেত দিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যাত্রা শুরু করা এই অভিনেত্রী এ বছর রাষ্ট্রীয় একুশে পদকেও ভূষিত হয়েছেন। দীর্ঘ সময় নতুন কোনো সিনেমায় অভিনয় না করলেও ববিতা জানিয়েছেন, মনের মতো গল্প আর শক্তিশালী চরিত্র পেলে তিনি আবারও ক্যামেরার সামনে দাঁড়াতে চান। তার এই স্বীকৃতি কেবল চলচ্চিত্র জগতের জন্যই নয়, বরং পুরো বাংলাদেশের সংস্কৃতির জন্য এক বড় অর্জন।


দৈনিক নতুন আলো

প্রকাশক : সাদিয়া নূর পূর্ণ
সম্পাদক : নাহিদ হোসেন
নির্বাহী সম্পাদক : মোঃ ছিরু মিয়া

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক নতুন আলো