বাংলাদেশ নারী হকির ইতিহাসে এক স্বর্ণালী অধ্যায় রচিত হলো জাকার্তার নীল টার্ফে। প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক কোনো টুর্নামেন্টে অংশ নিয়েই শিরোপার দোরগোড়ায় পৌঁছে গেছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। এশিয়ান গেমস বাছাইপর্বের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে আজ সিঙ্গাপুরকে ৩-১ গোলে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে জাহিদ হোসেন রাজুর দল। একই সাথে আইরিন রিয়ার হ্যাটট্রিকে রচিত হয়েছে এক অনন্য মহাকাব্য।
ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তার জিবিকে ফিল্ডে ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিল বাংলাদেশ। প্রথম কোয়ার্টারেই গোলের দেখা পায় তারা। ম্যাচের অষ্টম মিনিটে আইরিন রিয়ার নিখুঁত হিটে লিড নেয় বাংলাদেশ। তবে এই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে দেয়নি সিঙ্গাপুর। দ্বাদশ মিনিটে পেনাল্টি কর্নার থেকে গোল করে সিঙ্গাপুরকে ১-১ সমতায় ফেরান তাদের নির্ভরযোগ্য খেলোয়াড় চিয়া চেরিল।
দ্বিতীয় ও তৃতীয় কোয়ার্টারে দুদলই সমানে সমান লড়াই চালিয়েছে। আক্রমণ আর পাল্টা আক্রমণে জমে ওঠে ম্যাচ। তবে ফিনিশিংয়ের অভাবে গোলের দেখা পাচ্ছিল না কোনো পক্ষই। বিশেষ করে তৃতীয় কোয়ার্টারের শেষের দিকে ফরিদা রাত্রির একটি দুর্দান্ত হিট গোলপোস্টের একদম কাছ দিয়ে বেরিয়ে গেলে আক্ষেপে পোড়ে বাংলাদেশের ডাগআউট।
খেলার ভাগ্য নির্ধারিত হয় নাটকীয় চতুর্থ কোয়ার্টারে। ম্যাচের বয়স যখন ৫৭ মিনিট, অর্থাৎ খেলা শেষ হওয়ার মাত্র তিন মিনিট বাকি, তখন একক প্রচেষ্টায় বল নিয়ে সার্কেলের ভেতর ঢুকে পড়েন আইরিন রিয়া। তার জোরালো হিট সিঙ্গাপুরের গোলরক্ষককে পরাস্ত করে জালে জড়িয়ে যায়। সিঙ্গাপুর ভিডিও রেফারেল নিলেও গোলটি বহাল থাকে।
গোল খেয়ে সিঙ্গাপুর যখন মরিয়া হয়ে আক্রমণে ওঠার চেষ্টা করছিল, ঠিক পরের মিনিটেই পাল্টা আক্রমণে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন রিয়া। সতীর্থের একটি ক্রস থেকে দুর্দান্ত ফ্লিকে বল জালে পাঠিয়ে ৩-১ ব্যবধানে বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত করেন তিনি। রেফারির শেষ বাঁশি বাজার সাথে সাথে প্রথমবারের মতো ফাইনালে ওঠার আনন্দে মেতে ওঠে বাংলাদেশের মেয়েরা।
এর আগে কখনোই আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নারী হকি দল এমন সাফল্য পায়নি। জাহিদ হোসেন রাজুর প্রশিক্ষণে দলটির এই জয় প্রমাণ করে যে, সঠিক পরিচর্যা পেলে বাংলাদেশের নারী হকি বহুদূর এগিয়ে যেতে সক্ষম। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই ফাইনালে শিরোপা জয়ের লড়াইয়ে নামবে বাংলাদেশ। এই জয়ে জাকার্তায় থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও বইছে আনন্দের জোয়ার।

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ এপ্রিল ২০২৬
বাংলাদেশ নারী হকির ইতিহাসে এক স্বর্ণালী অধ্যায় রচিত হলো জাকার্তার নীল টার্ফে। প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক কোনো টুর্নামেন্টে অংশ নিয়েই শিরোপার দোরগোড়ায় পৌঁছে গেছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। এশিয়ান গেমস বাছাইপর্বের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে আজ সিঙ্গাপুরকে ৩-১ গোলে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে জাহিদ হোসেন রাজুর দল। একই সাথে আইরিন রিয়ার হ্যাটট্রিকে রচিত হয়েছে এক অনন্য মহাকাব্য।
ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তার জিবিকে ফিল্ডে ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিল বাংলাদেশ। প্রথম কোয়ার্টারেই গোলের দেখা পায় তারা। ম্যাচের অষ্টম মিনিটে আইরিন রিয়ার নিখুঁত হিটে লিড নেয় বাংলাদেশ। তবে এই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে দেয়নি সিঙ্গাপুর। দ্বাদশ মিনিটে পেনাল্টি কর্নার থেকে গোল করে সিঙ্গাপুরকে ১-১ সমতায় ফেরান তাদের নির্ভরযোগ্য খেলোয়াড় চিয়া চেরিল।
দ্বিতীয় ও তৃতীয় কোয়ার্টারে দুদলই সমানে সমান লড়াই চালিয়েছে। আক্রমণ আর পাল্টা আক্রমণে জমে ওঠে ম্যাচ। তবে ফিনিশিংয়ের অভাবে গোলের দেখা পাচ্ছিল না কোনো পক্ষই। বিশেষ করে তৃতীয় কোয়ার্টারের শেষের দিকে ফরিদা রাত্রির একটি দুর্দান্ত হিট গোলপোস্টের একদম কাছ দিয়ে বেরিয়ে গেলে আক্ষেপে পোড়ে বাংলাদেশের ডাগআউট।
খেলার ভাগ্য নির্ধারিত হয় নাটকীয় চতুর্থ কোয়ার্টারে। ম্যাচের বয়স যখন ৫৭ মিনিট, অর্থাৎ খেলা শেষ হওয়ার মাত্র তিন মিনিট বাকি, তখন একক প্রচেষ্টায় বল নিয়ে সার্কেলের ভেতর ঢুকে পড়েন আইরিন রিয়া। তার জোরালো হিট সিঙ্গাপুরের গোলরক্ষককে পরাস্ত করে জালে জড়িয়ে যায়। সিঙ্গাপুর ভিডিও রেফারেল নিলেও গোলটি বহাল থাকে।
গোল খেয়ে সিঙ্গাপুর যখন মরিয়া হয়ে আক্রমণে ওঠার চেষ্টা করছিল, ঠিক পরের মিনিটেই পাল্টা আক্রমণে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন রিয়া। সতীর্থের একটি ক্রস থেকে দুর্দান্ত ফ্লিকে বল জালে পাঠিয়ে ৩-১ ব্যবধানে বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত করেন তিনি। রেফারির শেষ বাঁশি বাজার সাথে সাথে প্রথমবারের মতো ফাইনালে ওঠার আনন্দে মেতে ওঠে বাংলাদেশের মেয়েরা।
এর আগে কখনোই আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নারী হকি দল এমন সাফল্য পায়নি। জাহিদ হোসেন রাজুর প্রশিক্ষণে দলটির এই জয় প্রমাণ করে যে, সঠিক পরিচর্যা পেলে বাংলাদেশের নারী হকি বহুদূর এগিয়ে যেতে সক্ষম। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই ফাইনালে শিরোপা জয়ের লড়াইয়ে নামবে বাংলাদেশ। এই জয়ে জাকার্তায় থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও বইছে আনন্দের জোয়ার।

আপনার মতামত লিখুন