গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার মাঠ জুড়ে এখন সোনালি ধানের ঢেউ খেলানো দৃশ্য। বৈশাখের তপ্ত রোদের মধ্যেও ধানের শীষে দোল খাচ্ছে কৃষকের হাজারো স্বপ্ন। বুকভরা আশা নিয়ে সোনালি ধান রোপণ করা কৃষকরা এখন প্রহর গুনছেন কখন এই সোনালি ফসল ঘরে উঠবে এবং তাদের মুখে আনন্দের হাসি ফুটবে।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকা সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, ফসলের মাঠগুলো সবুজ থেকে হলুদ বর্ণ ধারণ করতে শুরু করেছে। বেশির ভাগ মাঠেই ধানের শীষে পাক ধরেছে। বৃষ্টির অপেক্ষায় এবার ধান রোপণ কিছুটা দেরিতে হলেও, বাড়ে সেচের পানিতেই বেশির ভাগ কৃষক চাষাবাদ শেষ করেছেন। বর্তমানে ঝড়-বৃষ্টির আশঙ্কা না থাকায় কৃষকরা আশা করছেন আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই পুরোদমে ধান কাটা-মাড়াই শুরু হবে।
যদিও ধান আবাদ ভালো হয়েছে, কিন্তু এবার কৃষকদের দ্বিগুণের বেশি উৎপাদন খরচ গুণতে হয়েছে। সেচের বাড়তি খরচ এবং সার-কীটনাশকের চড়া দাম যেন কৃষকদের জন্য মরার উপর খাড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কৃষকরা জানান, ধান উৎপাদনে সেচ, শ্রমিকের মজুরি, সার ও কীটনাশকের দাম বেড়ে যাওয়ায় তাদের খরচ অনেক বেড়ে গেছে।
তাছাড়া, কিছুদিন আগেও পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ থাকলেও এখন প্রতিদিন কমপক্ষে ১০ ঘণ্টা করে লোডশেডিং চলছে। এতে ডিজেল চালিত মেশিনের ওপর সেচ নির্ভর কৃষকদের ভোগান্তি এবং খরচ—দুটোই বেড়েছে। যদিও কৃষকরা পর্যাপ্ত ডিজেল পাচ্ছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
কাশালিয়া গ্রামের কৃষক আকবার আলী বলেন, আমার ৪ বিঘা জমিতে বোরো ধানের চাষ করেছি। শুরুর দিকে পানি না পেলেও পরে যথেষ্ট পানি পেয়েছি। প্রায় জমির ধান পেকে গেছে, কয়েক দিনের মধ্যে ধান কাটা শুরু করব। অন্যদিকে, কৃষক সিরাজুর ইসলাম আশা প্রকাশ করেন, ঝড়-বৃষ্টি না হলে আগামী তিন-চার দিনের মধ্যে সব ধান ঘরে তুলতে পারব। শুনেছি বাজারে দাম ভালো, আশা করছি এবার লাভ হবে।
মুকসুদপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মিজানুর রহমান জানান, এ বছর উপজেলায় ১৩ হাজার ৬২০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ করা হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় বেশি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে কৃষকেরা কাঙ্ক্ষিত ফলন পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। কৃষি অফিস থেকে নিয়মিত কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। লোডশেডিং এবং ডিজেল সেচের বিষয়ে তিনি বলেন, পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ ও ডিজেলের সমন্বয়ে কৃষক সুবিধা মতো বোরো ধানে সেচ দিতে পেরেছেন।

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ এপ্রিল ২০২৬
গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার মাঠ জুড়ে এখন সোনালি ধানের ঢেউ খেলানো দৃশ্য। বৈশাখের তপ্ত রোদের মধ্যেও ধানের শীষে দোল খাচ্ছে কৃষকের হাজারো স্বপ্ন। বুকভরা আশা নিয়ে সোনালি ধান রোপণ করা কৃষকরা এখন প্রহর গুনছেন কখন এই সোনালি ফসল ঘরে উঠবে এবং তাদের মুখে আনন্দের হাসি ফুটবে।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকা সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, ফসলের মাঠগুলো সবুজ থেকে হলুদ বর্ণ ধারণ করতে শুরু করেছে। বেশির ভাগ মাঠেই ধানের শীষে পাক ধরেছে। বৃষ্টির অপেক্ষায় এবার ধান রোপণ কিছুটা দেরিতে হলেও, বাড়ে সেচের পানিতেই বেশির ভাগ কৃষক চাষাবাদ শেষ করেছেন। বর্তমানে ঝড়-বৃষ্টির আশঙ্কা না থাকায় কৃষকরা আশা করছেন আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই পুরোদমে ধান কাটা-মাড়াই শুরু হবে।
যদিও ধান আবাদ ভালো হয়েছে, কিন্তু এবার কৃষকদের দ্বিগুণের বেশি উৎপাদন খরচ গুণতে হয়েছে। সেচের বাড়তি খরচ এবং সার-কীটনাশকের চড়া দাম যেন কৃষকদের জন্য মরার উপর খাড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কৃষকরা জানান, ধান উৎপাদনে সেচ, শ্রমিকের মজুরি, সার ও কীটনাশকের দাম বেড়ে যাওয়ায় তাদের খরচ অনেক বেড়ে গেছে।
তাছাড়া, কিছুদিন আগেও পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ থাকলেও এখন প্রতিদিন কমপক্ষে ১০ ঘণ্টা করে লোডশেডিং চলছে। এতে ডিজেল চালিত মেশিনের ওপর সেচ নির্ভর কৃষকদের ভোগান্তি এবং খরচ—দুটোই বেড়েছে। যদিও কৃষকরা পর্যাপ্ত ডিজেল পাচ্ছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
কাশালিয়া গ্রামের কৃষক আকবার আলী বলেন, আমার ৪ বিঘা জমিতে বোরো ধানের চাষ করেছি। শুরুর দিকে পানি না পেলেও পরে যথেষ্ট পানি পেয়েছি। প্রায় জমির ধান পেকে গেছে, কয়েক দিনের মধ্যে ধান কাটা শুরু করব। অন্যদিকে, কৃষক সিরাজুর ইসলাম আশা প্রকাশ করেন, ঝড়-বৃষ্টি না হলে আগামী তিন-চার দিনের মধ্যে সব ধান ঘরে তুলতে পারব। শুনেছি বাজারে দাম ভালো, আশা করছি এবার লাভ হবে।
মুকসুদপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মিজানুর রহমান জানান, এ বছর উপজেলায় ১৩ হাজার ৬২০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ করা হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় বেশি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে কৃষকেরা কাঙ্ক্ষিত ফলন পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। কৃষি অফিস থেকে নিয়মিত কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। লোডশেডিং এবং ডিজেল সেচের বিষয়ে তিনি বলেন, পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ ও ডিজেলের সমন্বয়ে কৃষক সুবিধা মতো বোরো ধানে সেচ দিতে পেরেছেন।

আপনার মতামত লিখুন