মুকসুদপুর    বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
দৈনিক নতুন আলো
প্রকাশ : বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

চলতি অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি কমে ৩.২ শতাংশ ও মূল্যস্ফীতি ১০.৯ শতাংশ ছুঁতে পারে: আইএমএফ

চলতি অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি কমে ৩.২ শতাংশ ও মূল্যস্ফীতি ১০.৯ শতাংশ ছুঁতে পারে: আইএমএফ

ব্যবসায়ীদের হয়রানির প্রতিবাদে আগামী বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার দেশব্যাপী এলপি গ্যাসের দোকান বন্ধের ঘোষণা

ব্যবসায়ীদের হয়রানির প্রতিবাদে আগামী বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার দেশব্যাপী এলপি গ্যাসের দোকান বন্ধের ঘোষণা

বাজারে কমানো হলো সোনা ও রুপার দাম, জেনে নিন নতুন দর

বাজারে কমানো হলো সোনা ও রুপার দাম, জেনে নিন নতুন দর

তিতাস-২৮ উৎপাদনে যাচ্ছে শনিবার, লক্ষ্যমাত্রা সাড়ে ৬৭ মিলিয়ন ঘনফুট

তিতাস-২৮ উৎপাদনে যাচ্ছে শনিবার, লক্ষ্যমাত্রা সাড়ে ৬৭ মিলিয়ন ঘনফুট

সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ‘ই-পেমেন্ট ক্রেডিট’ চালুর নির্দেশ বাংলাদেশ ব্যাংকের

সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ‘ই-পেমেন্ট ক্রেডিট’ চালুর নির্দেশ বাংলাদেশ ব্যাংকের

সেপ্টেম্বরে কমলো এলপিজি গ্যাসের দাম, বাড়ল ভোজ্যতেলের দাম

সেপ্টেম্বরে কমলো এলপিজি গ্যাসের দাম, বাড়ল ভোজ্যতেলের দাম

সোনার দামে ফের নতুন রেকর্ড: ভরি ছাড়াল ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা

সোনার দামে ফের নতুন রেকর্ড: ভরি ছাড়াল ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা

মহেশখালীতে ভিড়ল কার্গো, শুরু গ্যাস সরবরাহ: কাটার মুখে তীব্র সংকট

মহেশখালীতে ভিড়ল কার্গো, শুরু গ্যাস সরবরাহ: কাটার মুখে তীব্র সংকট

লাখ টাকার পথে রড: মধ্যপ্রাচ্য সংকটে অস্থির নির্মাণসামগ্রীর বাজার।

লাখ টাকার পথে রড: মধ্যপ্রাচ্য সংকটে অস্থির নির্মাণসামগ্রীর বাজার।

দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে দেশের নির্মাণসামগ্রীর বাজারে আবারও গতি ফিরতে শুরু করেছে। নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় সরকারি ও বেসরকারি উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর পাশাপাশি ব্যক্তিগত পর্যায়ের নির্মাণকাজও পুরোদমে শুরু হয়েছে। তবে চাহিদার এই উল্লম্ফনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে নির্মাণ উপকরণের দাম। গত এক সপ্তাহেই রডের দাম টনপ্রতি ৮-১০ হাজার টাকা এবং সিমেন্টের দাম বস্তাপ্রতি ২০-২৫ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।

রডের বাজারদর এখন আকাশছোঁয়া

বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মিলগেট পর্যায়ে ৭৫ গ্রেডের এমএস রড এখন প্রতি টন ৯০ হাজার ৫০০ থেকে ৯২ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা এক সপ্তাহ আগেও ছিল ৮১-৮৩ হাজার টাকা।

  • বিএসআরএম: ৯২,৫০০ টাকা (টন)
  • কেএসআরএম: ৯২,২০০ টাকা
  • জিপিএইচ ও একেএস: ৯০,৫০০ টাকা একইভাবে ৬০ গ্রেডের রডের দামও প্রায় ৯ হাজার টাকা বেড়ে বর্তমানে ৮৭,০০০ থেকে ৮৮,৫০০ টাকার মধ্যে অবস্থান করছে।

সিমেন্টের দামেও ঊর্ধ্বগতি

রডের পাশাপাশি প্রায় সব ব্র্যান্ডের সিমেন্টের দাম বস্তাপ্রতি ২০-২৫ টাকা বেড়েছে। বর্তমান বাজারদর:

  • রুবি সিমেন্ট: ৫২০ টাকা
  • কনফিডেন্স ও ডায়মন্ড: ৫০০ টাকা
  • সেভেন রিং: ৪৯০ টাকা
  • প্রিমিয়ার সিমেন্ট: ৪৭৫ টাকা

মূল্যবৃদ্ধির নেপথ্যে কারণ কী?

শিল্পসংশ্লিষ্টদের মতে, এই মূল্যবৃদ্ধির পেছনে দুটি প্রধান কারণ কাজ করছে: ১. অভ্যন্তরীণ চাহিদা বৃদ্ধি: গত দেড় বছর রাজনৈতিক অস্থিরতায় নির্মাণ খাত প্রায় ৫০ শতাংশ স্থবির ছিল। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় এখন হঠাৎ করেই চাহিদা বেড়েছে। ২. আন্তর্জাতিক সংকট: মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি তেলের দাম ও জাহাজ ভাড়া বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে রডের কাঁচামাল 'স্ক্র্যাপ' এবং সিমেন্টের কাঁচামাল 'ক্লিংকার' আমদানির খরচ অনেক বেড়ে গেছে।

ব্যবসায়ীদের স্বস্তি ও বিনিয়োগ

দীর্ঘদিন লোকসানে থাকা কারখানা মালিকদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। প্রিমিয়ার সিমেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমিরুল হক জানান, উৎপাদন খরচের চেয়ে কম দামে পণ্য বিক্রি করতে হয়েছিল এতদিন, এখন সেই খরচের সঙ্গে দামের সমন্বয় হচ্ছে।

বাংলাদেশ স্টিল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্যমতে, দেশে প্রায় ৭৫ হাজার কোটি টাকার এই শিল্প খাতে বর্তমানে বছরে প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ টন রড উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে, যার বার্ষিক ব্যবহার প্রায় ৭৫ লাখ টন।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক নতুন আলো

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬


লাখ টাকার পথে রড: মধ্যপ্রাচ্য সংকটে অস্থির নির্মাণসামগ্রীর বাজার।

প্রকাশের তারিখ : ১১ মার্চ ২০২৬

featured Image

দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে দেশের নির্মাণসামগ্রীর বাজারে আবারও গতি ফিরতে শুরু করেছে। নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় সরকারি ও বেসরকারি উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর পাশাপাশি ব্যক্তিগত পর্যায়ের নির্মাণকাজও পুরোদমে শুরু হয়েছে। তবে চাহিদার এই উল্লম্ফনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে নির্মাণ উপকরণের দাম। গত এক সপ্তাহেই রডের দাম টনপ্রতি ৮-১০ হাজার টাকা এবং সিমেন্টের দাম বস্তাপ্রতি ২০-২৫ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।

রডের বাজারদর এখন আকাশছোঁয়া

বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মিলগেট পর্যায়ে ৭৫ গ্রেডের এমএস রড এখন প্রতি টন ৯০ হাজার ৫০০ থেকে ৯২ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা এক সপ্তাহ আগেও ছিল ৮১-৮৩ হাজার টাকা।

  • বিএসআরএম: ৯২,৫০০ টাকা (টন)
  • কেএসআরএম: ৯২,২০০ টাকা
  • জিপিএইচ ও একেএস: ৯০,৫০০ টাকা একইভাবে ৬০ গ্রেডের রডের দামও প্রায় ৯ হাজার টাকা বেড়ে বর্তমানে ৮৭,০০০ থেকে ৮৮,৫০০ টাকার মধ্যে অবস্থান করছে।

সিমেন্টের দামেও ঊর্ধ্বগতি

রডের পাশাপাশি প্রায় সব ব্র্যান্ডের সিমেন্টের দাম বস্তাপ্রতি ২০-২৫ টাকা বেড়েছে। বর্তমান বাজারদর:

  • রুবি সিমেন্ট: ৫২০ টাকা
  • কনফিডেন্স ও ডায়মন্ড: ৫০০ টাকা
  • সেভেন রিং: ৪৯০ টাকা
  • প্রিমিয়ার সিমেন্ট: ৪৭৫ টাকা

মূল্যবৃদ্ধির নেপথ্যে কারণ কী?

শিল্পসংশ্লিষ্টদের মতে, এই মূল্যবৃদ্ধির পেছনে দুটি প্রধান কারণ কাজ করছে: ১. অভ্যন্তরীণ চাহিদা বৃদ্ধি: গত দেড় বছর রাজনৈতিক অস্থিরতায় নির্মাণ খাত প্রায় ৫০ শতাংশ স্থবির ছিল। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় এখন হঠাৎ করেই চাহিদা বেড়েছে। ২. আন্তর্জাতিক সংকট: মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি তেলের দাম ও জাহাজ ভাড়া বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে রডের কাঁচামাল 'স্ক্র্যাপ' এবং সিমেন্টের কাঁচামাল 'ক্লিংকার' আমদানির খরচ অনেক বেড়ে গেছে।

ব্যবসায়ীদের স্বস্তি ও বিনিয়োগ

দীর্ঘদিন লোকসানে থাকা কারখানা মালিকদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। প্রিমিয়ার সিমেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমিরুল হক জানান, উৎপাদন খরচের চেয়ে কম দামে পণ্য বিক্রি করতে হয়েছিল এতদিন, এখন সেই খরচের সঙ্গে দামের সমন্বয় হচ্ছে।

বাংলাদেশ স্টিল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্যমতে, দেশে প্রায় ৭৫ হাজার কোটি টাকার এই শিল্প খাতে বর্তমানে বছরে প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ টন রড উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে, যার বার্ষিক ব্যবহার প্রায় ৭৫ লাখ টন।


দৈনিক নতুন আলো

প্রকাশক : সাদিয়া নূর পূর্ণ
সম্পাদক : নাহিদ হোসেন
নির্বাহী সম্পাদক : মোঃ ছিরু মিয়া

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক নতুন আলো