রাজধানীর বাড্ডার বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম মাসের শুরুতে বেতনের ৩০ হাজার টাকা হাতে পেয়ে যখন বাজারের ফর্দ করেন, তখন চাল-ডালের হিসাব মেলাতে গিয়ে তাঁর কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ে। দুই মাস আগেও যে খরচ স্বাভাবিক ছিল, এখন তা রফিকের কাছে রীতিমতো অপচয় মনে হয়। মেয়ের জন্য এক কেজি গুঁড়া দুধ কিনতে গিয়ে দামের চোটে আধা কেজি নিয়ে ঘরে ফেরা রফিকের গল্পটা আজ আর একার নয়; এটি ঢাকার হাজারো নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের প্রতিদিনের লড়াইয়ের চিত্র।
রাজধানীর মালিবাগ, শান্তিনগর ও বনশ্রীসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সবকিছুর দাম যেন পাল্লা দিয়ে বাড়ছে।
গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক অস্থিরতা আর দেশে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জীবনকে বিষিয়ে তুলেছে। পরিবহন খরচ বাড়ায় আড়তদার ও খুচরা বিক্রেতারাও বেশি দামে পণ্য বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। তিনি সরকারকে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি বাড়ানো এবং জরুরি ভিত্তিতে শুল্ক কমানোর পরামর্শ দিয়েছেন।
বাসার ছোট্ট ছেলেটি গরুর মাংস খেতে চাইলে গৃহকর্মী শামীমা শাওন তাকে সান্ত্বনা দেন ব্রয়লার মুরগি দিয়ে। কিন্তু ৮৫০ টাকা কেজি দরে গরুর মাংস এখন তাদের ধরাছোঁয়ার বাইরে। মুরগির দামও বাড়তে থাকায় এখন তাদের শেষ ভরসা তেলাপিয়া বা পাঙাশ মাছ। মহাখালীর শ্যামল সরকার জানান, গত কয়েক মাস আগে যে খাবারে ১৩ হাজার টাকা খরচ হতো, এখন সেখানে সাড়ে ১৫ হাজার টাকা দিয়েও কুলানো যাচ্ছে না। বাড়তি এই আড়াই হাজার টাকা সামলাতে প্রতি মাসেই তাঁকে ধার করতে হচ্ছে।
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সিনিয়র সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন মনে করেন, জ্বালানির দাম বাড়ার ফলে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়বে। তিনি আসন্ন বাজেটে সাধারণ মানুষের ওপর ভ্যাটের বোঝা না চাপিয়ে নিত্যপণ্যের দাম কমানোর কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান।

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ মে ২০২৬
রাজধানীর বাড্ডার বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম মাসের শুরুতে বেতনের ৩০ হাজার টাকা হাতে পেয়ে যখন বাজারের ফর্দ করেন, তখন চাল-ডালের হিসাব মেলাতে গিয়ে তাঁর কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ে। দুই মাস আগেও যে খরচ স্বাভাবিক ছিল, এখন তা রফিকের কাছে রীতিমতো অপচয় মনে হয়। মেয়ের জন্য এক কেজি গুঁড়া দুধ কিনতে গিয়ে দামের চোটে আধা কেজি নিয়ে ঘরে ফেরা রফিকের গল্পটা আজ আর একার নয়; এটি ঢাকার হাজারো নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের প্রতিদিনের লড়াইয়ের চিত্র।
রাজধানীর মালিবাগ, শান্তিনগর ও বনশ্রীসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সবকিছুর দাম যেন পাল্লা দিয়ে বাড়ছে।
গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক অস্থিরতা আর দেশে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জীবনকে বিষিয়ে তুলেছে। পরিবহন খরচ বাড়ায় আড়তদার ও খুচরা বিক্রেতারাও বেশি দামে পণ্য বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। তিনি সরকারকে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি বাড়ানো এবং জরুরি ভিত্তিতে শুল্ক কমানোর পরামর্শ দিয়েছেন।
বাসার ছোট্ট ছেলেটি গরুর মাংস খেতে চাইলে গৃহকর্মী শামীমা শাওন তাকে সান্ত্বনা দেন ব্রয়লার মুরগি দিয়ে। কিন্তু ৮৫০ টাকা কেজি দরে গরুর মাংস এখন তাদের ধরাছোঁয়ার বাইরে। মুরগির দামও বাড়তে থাকায় এখন তাদের শেষ ভরসা তেলাপিয়া বা পাঙাশ মাছ। মহাখালীর শ্যামল সরকার জানান, গত কয়েক মাস আগে যে খাবারে ১৩ হাজার টাকা খরচ হতো, এখন সেখানে সাড়ে ১৫ হাজার টাকা দিয়েও কুলানো যাচ্ছে না। বাড়তি এই আড়াই হাজার টাকা সামলাতে প্রতি মাসেই তাঁকে ধার করতে হচ্ছে।
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সিনিয়র সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন মনে করেন, জ্বালানির দাম বাড়ার ফলে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়বে। তিনি আসন্ন বাজেটে সাধারণ মানুষের ওপর ভ্যাটের বোঝা না চাপিয়ে নিত্যপণ্যের দাম কমানোর কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান।

আপনার মতামত লিখুন