২০২৬ সালের এই ডিজিটাল বাস্তবতায় আমাদের জীবনের বারো আনাই কেটে যায় সোশ্যাল মিডিয়ার দেওয়ালে। লাইক, কমেন্ট আর শেয়ারের এই যুগে আমাদের মুখের ভাষাও এখন বদলে গেছে ফেসবুকের পরিভাষায়। কিছু একটা হলেই আমরা আজকাল বলে বসি—ইনবক্সে আসেন। কিন্তু এই ডিজিটাল অভ্যাস যখন বাস্তব জীবনের মুখোমুখি দাঁড়ায়, তখন কী ঘটে?
সম্প্রতি ঘটে যাওয়া এক ছোট ভাইয়ের করুণ এবং চরম হাস্যকর অভিজ্ঞতাই তার প্রমাণ।
সেদিন আমার এক ছোট ভাই প্রায় কাঁদতে কাঁদতে এসে বলল, সর্বনাশ হয়ে গেছে ভাই! একটা কথা বলে ফেলেছি, শেষ পর্যন্ত চাকরিটা থাকে কি না কে জানে!
আমি অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলাম, কী বলেছিস রে?
ছোট ভাই করুণ মুখে বলল, ভাই, বসের সাথে গতকাল একটা জরুরি মিটিং ছিল। মিটিংয়ের শেষদিকে বস বেশ খুশি হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, আমাদের লেটেস্ট পরিকল্পনা কী হওয়া উচিত? আমি ভাব মারার জন্য বললাম, খুব ভালো একটা পরিকল্পনা আমার মাথায় এসেছে স্যার। স্যার আরও খুশি হয়ে জানতে চাইলেন—পরিকল্পনাটা কী? আর আমি উত্তেজনার চোটে ফট করে বলে বসলাম, স্যার, ইনবক্সে আসেন!
আমি শুনে হাসব না কাঁদব বুঝতে পারলাম না। বসের গম্ভীর মুখের সামনে ইনবক্সে আসেন বলার পর চাকরিটা যে এখনো আছে, সেটাই তো মিরাকল!
ছোট ভাইকে বোঝালাম, সব কথায় ইনবক্সে আসেন বলাটা আসলে একটা মারাত্মক বদভ্যাস। কিন্তু সে মানতে নারাজ। উল্টো তার প্রতিবেশীর আরেক কাণ্ড শোনাল।
ছাদে কাপড় শুকানো নিয়ে বাড়িওয়ালার সাথে প্রতিবেশীর তুমুল ঝগড়া। বাড়িওয়ালা ছাদে কাপড় শুকাতে দেবেন না, আর প্রতিবেশীও ঘাড়ত্যাড়া—তিনি শুকিয়েই ছাড়বেন। তো কাপড় শুকাতে গিয়ে প্রতিবেশী এক মারাত্মক কাণ্ড করে বসলেন। একই রশিতে ঝুলতে থাকা বাড়িওয়ালার লুঙ্গিটি নিজের মনে করে ভুলে ঘরে নিয়ে চলে আসলেন।
খানিক পরেই বাড়িওয়ালা রণচণ্ডী মূর্তি ধারণ করে হাজির। পরিস্থিতি একদম ফুটন্ত কড়াইয়ের মতো গরম! বাড়িওয়ালা আঙুল উঁচিয়ে আলটিমেটাম দিলেন, আপনি আমার লুঙ্গি কেন নিজের ঘরে নিয়ে আসলেন? এখনই এর সঠিক ব্যাখ্যা দেবেন!
প্রতিবেশী অত্যন্ত নির্বিকার গলায় বললেন, ঠিক আছে, ব্যাখ্যা দিচ্ছি। আপনি ইনবক্সে আসেন! শোনা গেছে, এরপর বাড়িওয়ালা আর কথা বাড়াননি!
এত দূর শোনার পর আমি দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললাম, তাহলে এটাই প্রমাণিত যে, ইনবক্সে আসেন কথাটা এখন আমাদের মনের কথা, প্রাণের কথা হয়ে গেছে। ইনবক্সে না গিয়ে আজকাল কেউ কোনো কথাই বলতে পারে না।
আমার কথা শুনে ছোট ভাই এবার আরও বড় একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল। বলল, ভাই, এমন যদি হতো, তবে তো ভালোই ছিল। অনেক কথাই অন্তত আড়ালে থাকত। সমস্যা হচ্ছে, যেটা গোপনে বলার কথা, মানুষ সেটা ইনবক্সে বলতে চায় না, বরং প্রকাশ্য হাটে হাঁড়ি ভাঙে।
আমি কৌতূহল সামলাতে না পেরে বললাম, যেমন?
ছোট ভাই মুখটা কালো করে বলল, দুঃখের কথা কী আর বলব ভাই। আমার স্ত্রী মাঝেমধ্যে একটু বেশি রাগারাগি করে। সেদিন শপিং মলে হাজারো মানুষের সামনে হঠাৎ করেই সে আমার ওপর ক্ষেপে গেল। চিল চিৎকার করে সবার সামনে আমাকে কিছু একটা বলতে যাবে, অমনি আমি তাকে ইশারা করে বললাম—প্লিজ, সবার সামনে যা তা বলো না, ইনবক্সে আসো!
আমি একটু হেসে বললাম, তাতে লাভ হলো কিছু? সে কি শান্ত হলো?
ছোট ভাই ফিসফিস করে বলল, ভাই, আমি তাকে ফেসবুকে তিন বছর ধরে ব্লক মেরে রেখেছি। সে চাইলেও জীবনে আমার ইনবক্সে আসতে পারবে না!
বিষয় : ইনবক্সে আসুন

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ মে ২০২৬
২০২৬ সালের এই ডিজিটাল বাস্তবতায় আমাদের জীবনের বারো আনাই কেটে যায় সোশ্যাল মিডিয়ার দেওয়ালে। লাইক, কমেন্ট আর শেয়ারের এই যুগে আমাদের মুখের ভাষাও এখন বদলে গেছে ফেসবুকের পরিভাষায়। কিছু একটা হলেই আমরা আজকাল বলে বসি—ইনবক্সে আসেন। কিন্তু এই ডিজিটাল অভ্যাস যখন বাস্তব জীবনের মুখোমুখি দাঁড়ায়, তখন কী ঘটে?
সম্প্রতি ঘটে যাওয়া এক ছোট ভাইয়ের করুণ এবং চরম হাস্যকর অভিজ্ঞতাই তার প্রমাণ।
সেদিন আমার এক ছোট ভাই প্রায় কাঁদতে কাঁদতে এসে বলল, সর্বনাশ হয়ে গেছে ভাই! একটা কথা বলে ফেলেছি, শেষ পর্যন্ত চাকরিটা থাকে কি না কে জানে!
আমি অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলাম, কী বলেছিস রে?
ছোট ভাই করুণ মুখে বলল, ভাই, বসের সাথে গতকাল একটা জরুরি মিটিং ছিল। মিটিংয়ের শেষদিকে বস বেশ খুশি হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, আমাদের লেটেস্ট পরিকল্পনা কী হওয়া উচিত? আমি ভাব মারার জন্য বললাম, খুব ভালো একটা পরিকল্পনা আমার মাথায় এসেছে স্যার। স্যার আরও খুশি হয়ে জানতে চাইলেন—পরিকল্পনাটা কী? আর আমি উত্তেজনার চোটে ফট করে বলে বসলাম, স্যার, ইনবক্সে আসেন!
আমি শুনে হাসব না কাঁদব বুঝতে পারলাম না। বসের গম্ভীর মুখের সামনে ইনবক্সে আসেন বলার পর চাকরিটা যে এখনো আছে, সেটাই তো মিরাকল!
ছোট ভাইকে বোঝালাম, সব কথায় ইনবক্সে আসেন বলাটা আসলে একটা মারাত্মক বদভ্যাস। কিন্তু সে মানতে নারাজ। উল্টো তার প্রতিবেশীর আরেক কাণ্ড শোনাল।
ছাদে কাপড় শুকানো নিয়ে বাড়িওয়ালার সাথে প্রতিবেশীর তুমুল ঝগড়া। বাড়িওয়ালা ছাদে কাপড় শুকাতে দেবেন না, আর প্রতিবেশীও ঘাড়ত্যাড়া—তিনি শুকিয়েই ছাড়বেন। তো কাপড় শুকাতে গিয়ে প্রতিবেশী এক মারাত্মক কাণ্ড করে বসলেন। একই রশিতে ঝুলতে থাকা বাড়িওয়ালার লুঙ্গিটি নিজের মনে করে ভুলে ঘরে নিয়ে চলে আসলেন।
খানিক পরেই বাড়িওয়ালা রণচণ্ডী মূর্তি ধারণ করে হাজির। পরিস্থিতি একদম ফুটন্ত কড়াইয়ের মতো গরম! বাড়িওয়ালা আঙুল উঁচিয়ে আলটিমেটাম দিলেন, আপনি আমার লুঙ্গি কেন নিজের ঘরে নিয়ে আসলেন? এখনই এর সঠিক ব্যাখ্যা দেবেন!
প্রতিবেশী অত্যন্ত নির্বিকার গলায় বললেন, ঠিক আছে, ব্যাখ্যা দিচ্ছি। আপনি ইনবক্সে আসেন! শোনা গেছে, এরপর বাড়িওয়ালা আর কথা বাড়াননি!
এত দূর শোনার পর আমি দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললাম, তাহলে এটাই প্রমাণিত যে, ইনবক্সে আসেন কথাটা এখন আমাদের মনের কথা, প্রাণের কথা হয়ে গেছে। ইনবক্সে না গিয়ে আজকাল কেউ কোনো কথাই বলতে পারে না।
আমার কথা শুনে ছোট ভাই এবার আরও বড় একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল। বলল, ভাই, এমন যদি হতো, তবে তো ভালোই ছিল। অনেক কথাই অন্তত আড়ালে থাকত। সমস্যা হচ্ছে, যেটা গোপনে বলার কথা, মানুষ সেটা ইনবক্সে বলতে চায় না, বরং প্রকাশ্য হাটে হাঁড়ি ভাঙে।
আমি কৌতূহল সামলাতে না পেরে বললাম, যেমন?
ছোট ভাই মুখটা কালো করে বলল, দুঃখের কথা কী আর বলব ভাই। আমার স্ত্রী মাঝেমধ্যে একটু বেশি রাগারাগি করে। সেদিন শপিং মলে হাজারো মানুষের সামনে হঠাৎ করেই সে আমার ওপর ক্ষেপে গেল। চিল চিৎকার করে সবার সামনে আমাকে কিছু একটা বলতে যাবে, অমনি আমি তাকে ইশারা করে বললাম—প্লিজ, সবার সামনে যা তা বলো না, ইনবক্সে আসো!
আমি একটু হেসে বললাম, তাতে লাভ হলো কিছু? সে কি শান্ত হলো?
ছোট ভাই ফিসফিস করে বলল, ভাই, আমি তাকে ফেসবুকে তিন বছর ধরে ব্লক মেরে রেখেছি। সে চাইলেও জীবনে আমার ইনবক্সে আসতে পারবে না!

আপনার মতামত লিখুন