মুকসুদপুর    বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
দৈনিক নতুন আলো

রম্যগল্প

মিথ্যে ঝগড়া, সত্যি বিপদ

মিথ্যে ঝগড়া, সত্যি বিপদ
ছবি : সংগৃহীত

আমাদের পাড়ায় এক আজব মানুষ আছেন—নাম কাদের চাচা।

তিনি এমন একজন অতিথি, যিনি একবার কারও বাসায় ঢুকলে বের হওয়ার রাস্তা ভুলে যান।

গত কোরবানির ঈদের পর তিনি গেলেন তার দূর সম্পর্কের ভাগ্নের বাসায়।

ভাগ্নে আর তার স্ত্রী প্রথম দিন খুব খাতির করলো।

দ্বিতীয় দিনও ভালোই চললো।

তৃতীয় দিন থেকে ভাগ্নের মুখে হাসি কমে গেল।

পঞ্চম দিনে স্ত্রী ফিসফিস করে বলল—

— উনি কি এখানে স্থায়ীভাবে উঠেছেন নাকি?

সপ্তম দিনে অবস্থা এমন হলো যে ফ্রিজ খুললে খাবারের বদলে দীর্ঘশ্বাস বের হয়।

তখন স্বামী-স্ত্রী গোপন মিটিং করলো।

স্বামী বলল—

— শোনো, আমরা যদি প্রচণ্ড ঝগড়া করি, তাহলে উনি বিরক্ত হয়ে চলে যাবেন।

স্ত্রী বলল—

— ঠিক আছে, কিন্তু অভিনয়টা যেন আসল মনে হয়।

রাতে শুরু হলো মহাযুদ্ধ।

স্বামী চিৎকার করে বলছে—

— এই সংসারে আমার কোনো মূল্য নেই!

স্ত্রী কাঁদো কাঁদো গলায় বলছে—

— তোমার মতো মানুষকে বিয়ে করাই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল!

চেয়ার ঠকঠক, দরজা ধামাধাম—পুরো বাসা কেঁপে উঠলো।

কাদের চাচা চুপচাপ নিজের ব্যাগ গুছালেন।

স্বামী-স্ত্রী মনে মনে খুশি।

চাচা দরজা খুলে বের হয়ে গেলেন।

স্বামী হা হা করে হেসে বলল—

— দেখেছো? প্ল্যান কাজে দিয়েছে!

স্ত্রীও হাসল—

— আমিও কিন্তু একদম আসল কান্না করেছি।

ঠিক তখনই দরজা ঠেলে কাদের চাচা আবার ঢুকলেন।

স্বামী-স্ত্রী একসাথে চমকে উঠলো—

— আরে! আপনি যাননি?

চাচা দাঁত বের করে বললেন—

— আরে বাবা, আমিও তো মিথ্যে মিথ্যে চলে যাওয়ার অভিনয় করলাম!

তারপর সোফায় বসে বললেন—

— আচ্ছা, ঝগড়ার দ্বিতীয় পর্ব কখন শুরু হবে?

এই ঘটনার পর ভাগ্নে এতটাই মানসিক চাপে পড়ে গেল যে সে পাড়ার ফুটবল মাঠে গিয়ে বসে থাকত।

সেখানে কোচ এক খেলোয়াড়কে বকাঝকা করছিলেন।

খেলোয়াড় মাথা নিচু করে বলছে—

— স্যার, এত সহজ পেনাল্টি মিস করেছি… ইচ্ছে করছে নিজেকেই একটা লাথি মারি।

কোচ শান্ত গলায় বললেন—

— সেটাও তুমি মিস করবে।

মাঠজুড়ে হাসির রোল পড়ে গেল।

ভাগ্নে ভাবলো—

মানুষের জীবনটা আসলেই কঠিন।

বাড়ি ফিরে সে গেল ডাক্তারের কাছে।

ডাক্তার বললেন—

— এই থার্মোমিটারটা আপনার স্ত্রীর মুখের নিচে আধা মিনিট রাখবেন। মুখ বন্ধ রাখলেই জ্বর মাপা যাবে।


ভাগ্নের চোখ চকচক করে উঠলো।

— ডাক্তার সাহেব… সারা দিন মুখ বন্ধ রাখার মতো কোনো থার্মোমিটার নেই?

ডাক্তার চশমা খুলে শুধু দীর্ঘশ্বাস ফেললেন।

এদিকে পাশের স্কুলে তখন আরেক কাণ্ড।

স্যার ক্লাসে বলছেন—

— মনে রাখবে, মুরগি ছাড়া ডিম সম্ভব নয়।

পেছন থেকে রনি হাত তুলল।

— সম্ভব স্যার।

স্যার বিরক্ত হয়ে বললেন—

— কীভাবে?

রনি গম্ভীর মুখে বলল—

— আমার বাবার হাঁসের ফার্ম আছে।

স্যার তখন বুঝলেন, শিক্ষকতা পেশায় ধৈর্যের আলাদা ভাতা থাকা উচিত ছিল।

কিন্তু সবচেয়ে বড় বিপদ ঘটাল বল্টু।

স্যার বোর্ডে লিখলেন—

৭টা ভেড়া মাঠে ছিল।

৬টা ভেড়া বেড়া ডিঙিয়ে চলে গেল।

এপারে কয়টা ভেড়া থাকবে?

সবাই হিসাব করছে।

বল্টু দাঁড়িয়ে বলল—

— একটাও থাকবে না স্যার।

স্যার বিরক্ত হয়ে বললেন—

— অঙ্ক জানো না?

বল্টু মাথা চুলকে বলল—

— স্যার, ভেড়ার তো আর মানুষের মতো বুদ্ধি নেই। একটা গেলে বাকিগুলোও তার পেছনে যাবে!

স্যার চুপ করে গেলেন।

কারণ কিছু কিছু যুক্তির সাথে তর্ক করা যায় না।

ঠিক যেমন—

একবার বাড়িতে অতিথি ঢুকলে, তিনি কবে যাবেন সেটা কেউ জানে না!

বিষয় : ইচ্ছা হলে হাসুন

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক নতুন আলো

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬


মিথ্যে ঝগড়া, সত্যি বিপদ

প্রকাশের তারিখ : ১৮ মে ২০২৬

featured Image

আমাদের পাড়ায় এক আজব মানুষ আছেন—নাম কাদের চাচা।

তিনি এমন একজন অতিথি, যিনি একবার কারও বাসায় ঢুকলে বের হওয়ার রাস্তা ভুলে যান।

গত কোরবানির ঈদের পর তিনি গেলেন তার দূর সম্পর্কের ভাগ্নের বাসায়।

ভাগ্নে আর তার স্ত্রী প্রথম দিন খুব খাতির করলো।

দ্বিতীয় দিনও ভালোই চললো।

তৃতীয় দিন থেকে ভাগ্নের মুখে হাসি কমে গেল।

পঞ্চম দিনে স্ত্রী ফিসফিস করে বলল—

— উনি কি এখানে স্থায়ীভাবে উঠেছেন নাকি?

সপ্তম দিনে অবস্থা এমন হলো যে ফ্রিজ খুললে খাবারের বদলে দীর্ঘশ্বাস বের হয়।

তখন স্বামী-স্ত্রী গোপন মিটিং করলো।

স্বামী বলল—

— শোনো, আমরা যদি প্রচণ্ড ঝগড়া করি, তাহলে উনি বিরক্ত হয়ে চলে যাবেন।

স্ত্রী বলল—

— ঠিক আছে, কিন্তু অভিনয়টা যেন আসল মনে হয়।

রাতে শুরু হলো মহাযুদ্ধ।

স্বামী চিৎকার করে বলছে—

— এই সংসারে আমার কোনো মূল্য নেই!

স্ত্রী কাঁদো কাঁদো গলায় বলছে—

— তোমার মতো মানুষকে বিয়ে করাই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল!

চেয়ার ঠকঠক, দরজা ধামাধাম—পুরো বাসা কেঁপে উঠলো।

কাদের চাচা চুপচাপ নিজের ব্যাগ গুছালেন।


স্বামী-স্ত্রী মনে মনে খুশি।

চাচা দরজা খুলে বের হয়ে গেলেন।

স্বামী হা হা করে হেসে বলল—

— দেখেছো? প্ল্যান কাজে দিয়েছে!

স্ত্রীও হাসল—

— আমিও কিন্তু একদম আসল কান্না করেছি।


ঠিক তখনই দরজা ঠেলে কাদের চাচা আবার ঢুকলেন।

স্বামী-স্ত্রী একসাথে চমকে উঠলো—

— আরে! আপনি যাননি?

চাচা দাঁত বের করে বললেন—

— আরে বাবা, আমিও তো মিথ্যে মিথ্যে চলে যাওয়ার অভিনয় করলাম!


তারপর সোফায় বসে বললেন—

— আচ্ছা, ঝগড়ার দ্বিতীয় পর্ব কখন শুরু হবে?

এই ঘটনার পর ভাগ্নে এতটাই মানসিক চাপে পড়ে গেল যে সে পাড়ার ফুটবল মাঠে গিয়ে বসে থাকত।

সেখানে কোচ এক খেলোয়াড়কে বকাঝকা করছিলেন।

খেলোয়াড় মাথা নিচু করে বলছে—

— স্যার, এত সহজ পেনাল্টি মিস করেছি… ইচ্ছে করছে নিজেকেই একটা লাথি মারি।

কোচ শান্ত গলায় বললেন—

— সেটাও তুমি মিস করবে।

মাঠজুড়ে হাসির রোল পড়ে গেল।


ভাগ্নে ভাবলো—

মানুষের জীবনটা আসলেই কঠিন।

বাড়ি ফিরে সে গেল ডাক্তারের কাছে।

ডাক্তার বললেন—

— এই থার্মোমিটারটা আপনার স্ত্রীর মুখের নিচে আধা মিনিট রাখবেন। মুখ বন্ধ রাখলেই জ্বর মাপা যাবে।


ভাগ্নের চোখ চকচক করে উঠলো।

— ডাক্তার সাহেব… সারা দিন মুখ বন্ধ রাখার মতো কোনো থার্মোমিটার নেই?

ডাক্তার চশমা খুলে শুধু দীর্ঘশ্বাস ফেললেন।

এদিকে পাশের স্কুলে তখন আরেক কাণ্ড।


স্যার ক্লাসে বলছেন—

— মনে রাখবে, মুরগি ছাড়া ডিম সম্ভব নয়।

পেছন থেকে রনি হাত তুলল।

— সম্ভব স্যার।

স্যার বিরক্ত হয়ে বললেন—

— কীভাবে?

রনি গম্ভীর মুখে বলল—

— আমার বাবার হাঁসের ফার্ম আছে।

স্যার তখন বুঝলেন, শিক্ষকতা পেশায় ধৈর্যের আলাদা ভাতা থাকা উচিত ছিল।

কিন্তু সবচেয়ে বড় বিপদ ঘটাল বল্টু।

স্যার বোর্ডে লিখলেন—


৭টা ভেড়া মাঠে ছিল।

৬টা ভেড়া বেড়া ডিঙিয়ে চলে গেল।

এপারে কয়টা ভেড়া থাকবে?

সবাই হিসাব করছে।

বল্টু দাঁড়িয়ে বলল—

— একটাও থাকবে না স্যার।

স্যার বিরক্ত হয়ে বললেন—

— অঙ্ক জানো না?

বল্টু মাথা চুলকে বলল—

— স্যার, ভেড়ার তো আর মানুষের মতো বুদ্ধি নেই। একটা গেলে বাকিগুলোও তার পেছনে যাবে!

স্যার চুপ করে গেলেন।

কারণ কিছু কিছু যুক্তির সাথে তর্ক করা যায় না।

ঠিক যেমন—

একবার বাড়িতে অতিথি ঢুকলে, তিনি কবে যাবেন সেটা কেউ জানে না!


দৈনিক নতুন আলো

প্রকাশক : সাদিয়া নূর পূর্ণ
সম্পাদক : নাহিদ হোসেন
নির্বাহী সম্পাদক : মোঃ ছিরু মিয়া

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক নতুন আলো